রাজনগর প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার একই পরিবারের ১১ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর পাশে মানবিক সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় উপহার পৌঁছে দিতে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তাদের বাড়িতে যান মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান পাভেল। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের হাতে সহায়তা তুলে দেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
সম্প্রতি বন্যার কারণে দীর্ঘদিন পানিবন্দি ও দুর্ভোগে থাকা রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের এই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারটির অসহায় জীবনযাপনের চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
সহায়তা প্রদানকালে জেলা প্রশাসক বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এই পরিবারের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তাদের বাড়িতে যাতায়াতের কাঁচা সড়ক দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এ সময় রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল, উপজেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মাসুদ রানা, কামারচাক ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ, কামারচাক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
একই সফরে জেলা প্রশাসক পার্শ্ববর্তী দরিদ্র রুবেল মিয়া ও সেলিনা বেগম দম্পতির বাড়িতেও যান। সম্প্রতি তাদের ঘরে একসঙ্গে তিনটি নবজাতকের জন্ম হয়েছে। আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারটির হাতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী এবং নবজাতকদের জন্য প্রয়োজনীয় দুগ্ধসামগ্রী তুলে দেন।
সহায়তা পেয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবার ও নবজাতকদের স্বজনরা প্রধানমন্ত্রী এবং জেলা প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, কঠিন সময়ে সরকারের এই মানবিক সহযোগিতা তাদের নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমাজের অসহায় ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা আশা প্রকাশ করেন, মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 























