4:34 am, Tuesday, 14 July 2026

চা বাগান স্টাফদের স্বার্থ রক্ষায় মজুরি বোর্ডে প্রতিনিধি রাখার দাবি

বিকুল চক্রবর্তী : বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এসোসিয়েশনের ৬১তম ও ৬২তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমাবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সংগঠনের সভাপতি মো. জাকারিয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সম্পাদকীয় প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কোষাধ্যক্ষ সুরঞ্জিত দাশ। এছাড়া ২০২৫-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
এর আগে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সংগঠনের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির নাম ঘোষণা করেন এবং সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দুরুদ আহমদ, কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অলি আহমদ খান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াকুব আলী এবং শ্রীমঙ্গল পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শামীম আহমদ।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াকুব আলী, শ্রীকান্ত আহির, জুয়েল আহমেদ, মো. ইউছুপ মিয়া, অমল চন্দ্র দাশ, দেবদাশ ভট্টাচার্য, মো. ইয়াকুব মিয়া, খাইরুল ইসলাম, মাহমাদুল ইসলাম রাসেল, কংকন জ্যোতি ভট্টাচার্য, এ এইচ এম জাফর চৌধুরী বুলবুল, আকতার হোসেন ভূঁইয়া মিন্টু, মিছবাহ উদ্দিন আহমেদ, দ্বীনবন্ধু দেব, অধ্যাপক অবিনাশ আচার্যসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এসোসিয়েশন গত ৬২ বছর ধরে দেশের চা বাগানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। চা শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংগঠনের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় চা বাগানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠন করে বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণ, সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণকারী মজুরি বোর্ডে বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা, প্রভিডেন্ট ফান্ডের ট্রাস্টি বোর্ডে স্টাফ প্রতিনিধির মনোনয়ন নিশ্চিত করা এবং চাকরি, পদোন্নতি, কল্যাণসহ স্টাফদের অন্যান্য ন্যায্য অধিকার সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মো. জাকারিয়া বলেন, “সংগঠনের ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সদস্যদের অধিকার আদায়ে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি চা শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুর রহমান বলেন, “চা শিল্পের উন্নয়নে স্টাফদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো উপেক্ষিত থাকে। তাই মজুরি বোর্ডসহ বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী কমিটিতে স্টাফদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।” তিনি সদস্যদের ঐক্য বজায় রেখে অধিকার আদায়ের আন্দোলন আরও বেগবান করার আহ্বান জানান।
কোষাধ্যক্ষ সুরঞ্জিত দাশ বলেন, সংগঠনের আর্থিক কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। সদস্যদের কল্যাণে সংগঠনের তহবিল যথাযথভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর কল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজারে বন্যার পানি নামলেও তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, বিপর্যস্ত জনজীবন

চা বাগান স্টাফদের স্বার্থ রক্ষায় মজুরি বোর্ডে প্রতিনিধি রাখার দাবি

Update Time : 12:20:28 pm, Monday, 13 July 2026

বিকুল চক্রবর্তী : বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এসোসিয়েশনের ৬১তম ও ৬২তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমাবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সংগঠনের সভাপতি মো. জাকারিয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সম্পাদকীয় প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কোষাধ্যক্ষ সুরঞ্জিত দাশ। এছাড়া ২০২৫-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।
এর আগে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সংগঠনের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির নাম ঘোষণা করেন এবং সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দুরুদ আহমদ, কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অলি আহমদ খান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াকুব আলী এবং শ্রীমঙ্গল পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শামীম আহমদ।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াকুব আলী, শ্রীকান্ত আহির, জুয়েল আহমেদ, মো. ইউছুপ মিয়া, অমল চন্দ্র দাশ, দেবদাশ ভট্টাচার্য, মো. ইয়াকুব মিয়া, খাইরুল ইসলাম, মাহমাদুল ইসলাম রাসেল, কংকন জ্যোতি ভট্টাচার্য, এ এইচ এম জাফর চৌধুরী বুলবুল, আকতার হোসেন ভূঁইয়া মিন্টু, মিছবাহ উদ্দিন আহমেদ, দ্বীনবন্ধু দেব, অধ্যাপক অবিনাশ আচার্যসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এসোসিয়েশন গত ৬২ বছর ধরে দেশের চা বাগানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। চা শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংগঠনের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর তারা গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় চা বাগানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠন করে বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণ, সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণকারী মজুরি বোর্ডে বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা, প্রভিডেন্ট ফান্ডের ট্রাস্টি বোর্ডে স্টাফ প্রতিনিধির মনোনয়ন নিশ্চিত করা এবং চাকরি, পদোন্নতি, কল্যাণসহ স্টাফদের অন্যান্য ন্যায্য অধিকার সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মো. জাকারিয়া বলেন, “সংগঠনের ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সদস্যদের অধিকার আদায়ে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি চা শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুর রহমান বলেন, “চা শিল্পের উন্নয়নে স্টাফদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো উপেক্ষিত থাকে। তাই মজুরি বোর্ডসহ বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী কমিটিতে স্টাফদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।” তিনি সদস্যদের ঐক্য বজায় রেখে অধিকার আদায়ের আন্দোলন আরও বেগবান করার আহ্বান জানান।
কোষাধ্যক্ষ সুরঞ্জিত দাশ বলেন, সংগঠনের আর্থিক কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। সদস্যদের কল্যাণে সংগঠনের তহবিল যথাযথভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও কার্যকর কল্যাণমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।