12:10 pm, Wednesday, 22 April 2026

বড়লেখায় চা বাগানের ভূমি জবর দখল চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে মূখ খুললেন মুক্তিযোদ্ধা মানিক মিয়া

বড়লেখা প্রতিনিধি::বড়লেখায় স্কয়ার গ্রæপের মালিকানাধীন অর্গানিক চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শাহবাজপুর চা বাগানের ৪০০-৫০০ একর ভূমি জবর-দখল অপচেষ্টা নিয়ে ৩ মাস ১৮ দিন কারাভোগের পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে অবশেষে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক মিয়া। গত বুধবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে বোবারথল এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে অবৈধ ভূমিজবর দখলকারীরা কিভাবে তাকে বিভ্রান্ত করে, নানা প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বেআইনি এই কাজে সম্পৃক্ত করে তার ফিরিস্তি তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী সালেমা বেগম, ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, ছেলের বউ জবেদা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা।কান্নাজড়িত কন্ঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক মিয়া বলেন, তিনি ৪নং সেক্টরে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেন। তার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয় বোবারথল গ্রামের কিছু দুষ্কৃতিকারী ও চিহ্নিত ভূমিদস্যু শাহবাজপুর চা বাগানের কয়েকশ’ একর ভূমির অবৈধ দখল মিশনে তাকে অংশগ্রহণে বাধ্য করে। গত বছরের ২ জুলাই বাগানের লীজকৃত স্থানে এসব কুচক্রী মানববন্ধনে তাকে নেতৃত্ব দিতে বাধ্য করে। এসব ঘটনায় সমাজে তার মানসম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ হয়েছে। পরবর্তীতে দখলদাররা তাকে ব্যবহার ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মুজিবনগর শ্রমিক কলোনী থেকে শ্রমিকদেরকে বের করে কলোনীর ঘরগুলো দখলের অপচেষ্টা চালায়। এ কারণে আমাকে প্রধান আসামী করে থানা ও আদালতে মামলা হয়। এর একটি মামলায় তিনি প্রায় সাড়ে ৩ মাস কারাভোগ করেন। এখন আত্ম-উপলব্দি হচ্ছে ভুল বুঝিয়ে ভূমিদস্যুরা তাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিরাট স্বার্র্থ হাসিলের মিশন চালায়। এখন আমার চোঁখ খুলে গেছে। বুঝতে পারছি তাদের প্ররোচনায় আমি অত্যন্ত অপমানজনক ও গর্হিত কাজ করেছি। এর আগে একই কায়দায় ভূমিদস্যুরা বিভিন্ন সময়ে ছোটলেখা চা বাগান, আয়েশাবাগ চা বাগান এবং ২০১৬ সালে শাহবাজপুর চা বাগানের ভূমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। জেল কাটার পর আমার ধারণা পাল্টে। বুঝতে পারি ভুল করেছি, আমার কৃতকর্মে অনুতপ্ত ও লজ্জিত। ওইসব দখলদারদের সঙ্গ ও বোবারথল এলাকা ছেড়ে নিরাপদ দূরত্বে বসবাস করছি। এমতাবস্থায় ওই দখলদাররা আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছি। প্রভাবশালী একটি মহলের ইন্দনে স্থানীয় দখলদাররা অস্থায়ী ঘর তৈরি করে দখলদারিত্ব পাকাপোক্ত করার পরিকল্পনা করছে। তারা এসব অপকর্মের দায় আমার ওপর চাপিয়ে পুনরায় আমার বড়ধরণের কোনো ক্ষতিসাধন করতে পারে এমন আশংকায় ভোগছি। এব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা চাচ্ছি।সূত্র জানায়, গত বছরের ১৮ জুন ভূমিদস্যুরা মুক্তিযোদ্ধার ব্যানারে বাগানের কয়েকশ’ একর ভূমি জবর দখলের চেষ্টা চালায়। বাগান কর্তৃপক্ষ অবৈধ দখল উচ্ছেদে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক, বড়লেখা ইউএনও, থানার ওসি বরাবর লিখিত অভিযোগ করে। এব্যাপারে গত ২৪ জুন ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক দখলকারীদের উচ্ছেদ করতে গেলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক মিয়াসহ ১২ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। এর মধ্যে ৫ জন আসামী জামিনে বেরিয়ে আবারও দখল প্রতিযোগিতায় মরিয়া বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

বড়লেখায় চা বাগানের ভূমি জবর দখল চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে মূখ খুললেন মুক্তিযোদ্ধা মানিক মিয়া

Update Time : 01:39:32 pm, Sunday, 15 January 2023

বড়লেখা প্রতিনিধি::বড়লেখায় স্কয়ার গ্রæপের মালিকানাধীন অর্গানিক চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শাহবাজপুর চা বাগানের ৪০০-৫০০ একর ভূমি জবর-দখল অপচেষ্টা নিয়ে ৩ মাস ১৮ দিন কারাভোগের পর নিজের ভুল বুঝতে পেরে অবশেষে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক মিয়া। গত বুধবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে বোবারথল এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে অবৈধ ভূমিজবর দখলকারীরা কিভাবে তাকে বিভ্রান্ত করে, নানা প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বেআইনি এই কাজে সম্পৃক্ত করে তার ফিরিস্তি তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী সালেমা বেগম, ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, ছেলের বউ জবেদা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা।কান্নাজড়িত কন্ঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক মিয়া বলেন, তিনি ৪নং সেক্টরে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেন। তার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে স্থানীয় বোবারথল গ্রামের কিছু দুষ্কৃতিকারী ও চিহ্নিত ভূমিদস্যু শাহবাজপুর চা বাগানের কয়েকশ’ একর ভূমির অবৈধ দখল মিশনে তাকে অংশগ্রহণে বাধ্য করে। গত বছরের ২ জুলাই বাগানের লীজকৃত স্থানে এসব কুচক্রী মানববন্ধনে তাকে নেতৃত্ব দিতে বাধ্য করে। এসব ঘটনায় সমাজে তার মানসম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ হয়েছে। পরবর্তীতে দখলদাররা তাকে ব্যবহার ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মুজিবনগর শ্রমিক কলোনী থেকে শ্রমিকদেরকে বের করে কলোনীর ঘরগুলো দখলের অপচেষ্টা চালায়। এ কারণে আমাকে প্রধান আসামী করে থানা ও আদালতে মামলা হয়। এর একটি মামলায় তিনি প্রায় সাড়ে ৩ মাস কারাভোগ করেন। এখন আত্ম-উপলব্দি হচ্ছে ভুল বুঝিয়ে ভূমিদস্যুরা তাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিরাট স্বার্র্থ হাসিলের মিশন চালায়। এখন আমার চোঁখ খুলে গেছে। বুঝতে পারছি তাদের প্ররোচনায় আমি অত্যন্ত অপমানজনক ও গর্হিত কাজ করেছি। এর আগে একই কায়দায় ভূমিদস্যুরা বিভিন্ন সময়ে ছোটলেখা চা বাগান, আয়েশাবাগ চা বাগান এবং ২০১৬ সালে শাহবাজপুর চা বাগানের ভূমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। জেল কাটার পর আমার ধারণা পাল্টে। বুঝতে পারি ভুল করেছি, আমার কৃতকর্মে অনুতপ্ত ও লজ্জিত। ওইসব দখলদারদের সঙ্গ ও বোবারথল এলাকা ছেড়ে নিরাপদ দূরত্বে বসবাস করছি। এমতাবস্থায় ওই দখলদাররা আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছি। প্রভাবশালী একটি মহলের ইন্দনে স্থানীয় দখলদাররা অস্থায়ী ঘর তৈরি করে দখলদারিত্ব পাকাপোক্ত করার পরিকল্পনা করছে। তারা এসব অপকর্মের দায় আমার ওপর চাপিয়ে পুনরায় আমার বড়ধরণের কোনো ক্ষতিসাধন করতে পারে এমন আশংকায় ভোগছি। এব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা চাচ্ছি।সূত্র জানায়, গত বছরের ১৮ জুন ভূমিদস্যুরা মুক্তিযোদ্ধার ব্যানারে বাগানের কয়েকশ’ একর ভূমি জবর দখলের চেষ্টা চালায়। বাগান কর্তৃপক্ষ অবৈধ দখল উচ্ছেদে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক, বড়লেখা ইউএনও, থানার ওসি বরাবর লিখিত অভিযোগ করে। এব্যাপারে গত ২৪ জুন ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক দখলকারীদের উচ্ছেদ করতে গেলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক মিয়াসহ ১২ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। এর মধ্যে ৫ জন আসামী জামিনে বেরিয়ে আবারও দখল প্রতিযোগিতায় মরিয়া বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।