7:03 pm, Tuesday, 21 April 2026

কুলাউড়ার টিলাগাঁওয়ে রাস্তার কাজ না করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

কুলাউড়া প্রতিনিধি: কুলাউড়ার উপজেলার টিলাগাঁওয়ে রাস্তার কাজ না করিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্ধকৃত গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ টন গমের সমপরিমাণ অর্থে কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কাজিরগাঁও গ্রামের প্রধান রাস্তা মাটি ভরাটের জন্য অর্থ অনুদান আসে সরকারের পক্ষ থেকে। এই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মালিক ফজলু ৬ টন গমের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে কাজিরগাঁও গ্রামের “উত্তর কাজিরগাঁও জামে মসজিদের সম্মুখ হইতে দক্ষিণ কাজিরগাঁও ইটছলিং” পর্যন্ত রাস্তার মাটি ভরাটের জন্য নামমাত্র প্রায় বিশ হাজার টাকার মাটি ভরাট করিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে কাজিরগাঁও গ্রামের স্থানীয় এলাকাবাসীরা ইউপি সদস্য আব্দুল মালিক ফজলুর বিরুদ্ধে রাস্তার মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন না করিয়ে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ২০ জুন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, টিলাগাঁও ইউনিয়নের ০৩নং ওয়ার্ডের কাজিরগাঁও গ্রামের একমাত্র প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন থেকে অযতেœ আর অবহেলায় রয়েছে। গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন থেকে অনেক ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছেন। এছাড়া রাস্তার অবস্থা করুণ হওয়ায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা রাস্তা দিয়ে সুবিধামতো চলাচল করতে পারে না। জরাজীর্ণ ও সরু রাস্তার কারণে জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনের জন্য গ্রামের ভেতরে কোন প্রকার যানবাহন বা রিক্সা যাতায়াত করতে পারে না।
উত্তর কাজিরগাঁও জামে মসজিদের সামনে থেকে দক্ষিণ কাজিরগাঁও ইটছলিং পর্যন্ত মাটি ভরাটের জন্য ০৬ টন গম বরাদ্দ আছে। যাহার বাজারমূল্য প্রায় দুই লক্ষ টাকা। বরাদ্দের ১ম কিস্তির তিন টন গম উত্তোলন করে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রকল্প কমিটির সভাপতি আব্দুল মালিক ফজলু সাড়ে চার হাজার মাটি ভরাটের কাজ করান। যার খরচ প্রায় বিশ হাজার টাকা। মাসখানেক থেকে বাকি কাজ না করায় বর্তমানে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় চার থেকে পাঁচ টলি ইটের টুকরো ফেলে আর কাজ করাচ্ছেন না।
অভিযোগকারী ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামসুল ইসলাম, আব্দুল কাদির, বদরুল ইসলাম, ছাবিদ মিয়া, আবুল মিয়া, বুরুজ মিয়া, মৌর আলী, রহিদ মিয়া, আছদ্দর মিয়া, ছায়েম মিয়া, সুজেব মিয়া প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ জানান, ইউপি সদস্য আমাদের গ্রামের রাস্তার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ পেলেও কাজ সঠিকভাবে না করিয়ে অর্থ আত্মসাতের পায়তারা করছেন। আমরা বারবার বাকি কাজ সম্পন্ন করার তাগদা দিয়েও কোন ফলাফল পাইনি। এই সব কাজের বিষয় নিয়ে স্থানীয়রা তার কাছে জানতে চাইলে মেম্বার আব্দুল মালিক ফজলু আমাদেরকে হুমকি প্রদান করেন এবং বলেন, ‘‘টাকাটি কি তোদের না-কি”?। এর আগেও এই ইউপি সদস্য এই এলাকায় পঞ্চাশ হাজার টাকা বরাদ্দ আসলে কাজ না করিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। রাস্তায় এলোমেলোভাবে ফালানো ইটের টুকরোয় স্থানীয় এক শিক্ষার্থী আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হলেও ইউপি সদস্য একদিন এই শিক্ষার্থীর কোন খোঁজখবর নেননি। আমরা তদন্তক্রমে প্রকল্পের টাকা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন করতে প্রশাসনে সুদৃষ্টি কামনা করছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. শিমুল আলী বলেন, প্রকল্পের অর্ধেক টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন না করলে বরাদ্দকৃত বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে না।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়েছি। ইউপি সদস্যকে পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দিয়েছি।
এ বিষয়ে টিলাগাঁও ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মালিক ফজলু বলেন, বরাদ্দের অর্ধেক টাকা দিয়ে আটত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার টাকার কাজ করিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ মিথ্যা।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

কুলাউড়ার টিলাগাঁওয়ে রাস্তার কাজ না করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

Update Time : 02:47:52 pm, Wednesday, 21 June 2023

কুলাউড়া প্রতিনিধি: কুলাউড়ার উপজেলার টিলাগাঁওয়ে রাস্তার কাজ না করিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্ধকৃত গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ টন গমের সমপরিমাণ অর্থে কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কাজিরগাঁও গ্রামের প্রধান রাস্তা মাটি ভরাটের জন্য অর্থ অনুদান আসে সরকারের পক্ষ থেকে। এই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মালিক ফজলু ৬ টন গমের সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে কাজিরগাঁও গ্রামের “উত্তর কাজিরগাঁও জামে মসজিদের সম্মুখ হইতে দক্ষিণ কাজিরগাঁও ইটছলিং” পর্যন্ত রাস্তার মাটি ভরাটের জন্য নামমাত্র প্রায় বিশ হাজার টাকার মাটি ভরাট করিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে কাজিরগাঁও গ্রামের স্থানীয় এলাকাবাসীরা ইউপি সদস্য আব্দুল মালিক ফজলুর বিরুদ্ধে রাস্তার মাটি ভরাটের কাজ সম্পন্ন না করিয়ে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ২০ জুন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা যায়, টিলাগাঁও ইউনিয়নের ০৩নং ওয়ার্ডের কাজিরগাঁও গ্রামের একমাত্র প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন থেকে অযতেœ আর অবহেলায় রয়েছে। গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন থেকে অনেক ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছেন। এছাড়া রাস্তার অবস্থা করুণ হওয়ায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীরা রাস্তা দিয়ে সুবিধামতো চলাচল করতে পারে না। জরাজীর্ণ ও সরু রাস্তার কারণে জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনের জন্য গ্রামের ভেতরে কোন প্রকার যানবাহন বা রিক্সা যাতায়াত করতে পারে না।
উত্তর কাজিরগাঁও জামে মসজিদের সামনে থেকে দক্ষিণ কাজিরগাঁও ইটছলিং পর্যন্ত মাটি ভরাটের জন্য ০৬ টন গম বরাদ্দ আছে। যাহার বাজারমূল্য প্রায় দুই লক্ষ টাকা। বরাদ্দের ১ম কিস্তির তিন টন গম উত্তোলন করে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্রকল্প কমিটির সভাপতি আব্দুল মালিক ফজলু সাড়ে চার হাজার মাটি ভরাটের কাজ করান। যার খরচ প্রায় বিশ হাজার টাকা। মাসখানেক থেকে বাকি কাজ না করায় বর্তমানে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় চার থেকে পাঁচ টলি ইটের টুকরো ফেলে আর কাজ করাচ্ছেন না।
অভিযোগকারী ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামসুল ইসলাম, আব্দুল কাদির, বদরুল ইসলাম, ছাবিদ মিয়া, আবুল মিয়া, বুরুজ মিয়া, মৌর আলী, রহিদ মিয়া, আছদ্দর মিয়া, ছায়েম মিয়া, সুজেব মিয়া প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ জানান, ইউপি সদস্য আমাদের গ্রামের রাস্তার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ পেলেও কাজ সঠিকভাবে না করিয়ে অর্থ আত্মসাতের পায়তারা করছেন। আমরা বারবার বাকি কাজ সম্পন্ন করার তাগদা দিয়েও কোন ফলাফল পাইনি। এই সব কাজের বিষয় নিয়ে স্থানীয়রা তার কাছে জানতে চাইলে মেম্বার আব্দুল মালিক ফজলু আমাদেরকে হুমকি প্রদান করেন এবং বলেন, ‘‘টাকাটি কি তোদের না-কি”?। এর আগেও এই ইউপি সদস্য এই এলাকায় পঞ্চাশ হাজার টাকা বরাদ্দ আসলে কাজ না করিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। রাস্তায় এলোমেলোভাবে ফালানো ইটের টুকরোয় স্থানীয় এক শিক্ষার্থী আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হলেও ইউপি সদস্য একদিন এই শিক্ষার্থীর কোন খোঁজখবর নেননি। আমরা তদন্তক্রমে প্রকল্পের টাকা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন করতে প্রশাসনে সুদৃষ্টি কামনা করছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. শিমুল আলী বলেন, প্রকল্পের অর্ধেক টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন না করলে বরাদ্দকৃত বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে না।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়েছি। ইউপি সদস্যকে পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন করতে নির্দেশনা দিয়েছি।
এ বিষয়ে টিলাগাঁও ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল মালিক ফজলু বলেন, বরাদ্দের অর্ধেক টাকা দিয়ে আটত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার টাকার কাজ করিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ মিথ্যা।