1. [email protected] : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. [email protected] : admi2017 :
  3. [email protected] : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
বিনোদন :: গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই গায়কের মর্মান্তিক মৃত্যু!,  খেলার খবর : অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, বিমানবন্দরে যুবাদের জানানো হবে উষ্ণ অভ্যর্থনা,

শ্রীমঙ্গলে ব্রোকলিসহ বছরজুড়ে সবজি চাষে শরিফের পরিবারে ফিরেছে সুদিন

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৮১ বার পঠিত
এহসান বিন মুুজাহির: কৃষক মোঃ শরিফ মিয়ার এখন সুদিন ফিরেছে। বছরজুড়ে নানা রকমের সবজি চাষ করে নিজ পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে বছরে বাড়তি আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। ২০০৮ সাল থেকে অন্যের জমি লিজ নিয়ে মৌসুম বেধে লাল শাক, মূলা, টমেটো, আলো, বেগুন, ঢেড়শ, বরবটি, করলা, শসা, লাউ, পাটশাক, পেপে, করলা, ধনে পাতা, ভোট্টা, বাদাম, রসুন, বাধা কপি, ফুল কপিসহ প্রভৃতি জাতের ফসল উৎপাদন করে তা বাজারজাত করেছেন কৃষক শরিফ মিয়া।
এবারের শীত মৌসুমে পঞ্চম বারের ন্যায়
ব্রোকলি চাষ করে বাজারে বিক্রি করে গত দুুই দুই সপ্তাহে আয় করছেন লক্ষাধিক টাকা। বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৬ নং আশিদ্রোন ইউনিয়নের উত্তর টিকরিয়া এলাকায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এলাকাজুড়ে শুধু সবুজ ফসল। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই দেখা যায় সবজিসহ নানা ধরণের ফসল। একুশে সংবাদ ডটকমের সাথে আলাপকালে কৃষক শরিফ মিয়া (৪৩) জানান, তিনি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তার লিজকৃত ৪০ শতক জমিতে শুধু ব্রকলি চাষ করেন। গত নভেম্বর মাসের শেষ দিকে তিনি ৪ হাজার ব্রুকলির চারা রোপন করেন। নিজে পরিচর্যা করে মাত্র আড়াই মাসের মাথায় তিনি ব্রুকলি বিক্রি শুরু করেন। গত দুই সপ্তাহে তিনি লক্ষাধিক টাকার ব্রুকলি বিক্রি করেছেন বলে জানান। এছাড়া ক্ষেতে বিক্রিযোগ্য এখনও প্রায় ত্রিশ হাজার টাকার ফসল রয়েছে বলে জানান। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে আরও ৩০ হাজার টাকার ব্রুকলি বাজারে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। শরিফ মিয়া জানান, আগামী রমজান মাসকে সামনে রেখে নতুন করে সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে বিজ এবং চারা রোপণে বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত প্রস্তুত করছেন।
আলাপকালে শরিফ মিয়া বলেন, তার ১ ইঞ্চি জমিও অনাবাদি নেই। ব্রুকলি ছাড়াও তিনি বছরজুড়ে আরও ৬০ শতক জায়গাজুড়ে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করেন। এসব ফসলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিভিন্ন জাতের আলো, বাধা কপি, ফুল কপি, ব্রোকলি, লাল শাক, মূলা, টমেটো, বেগুন, ঢেড়শ, বরবটি, করলা, শসা, লাউ,, পেপে, করলা, ধনে পাতা, ভোট্টা, বাদাম, রসুন প্রভৃতি চাষ করে বছরের কয়েক লক্ষ টাকা আয় করে লাভবান হচ্ছেন। এসব ফসল বিক্রি করে
ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে তার।
কৃষক মো. শরিফ মিয়া আশিদ্রোন ইউনিয়নের উত্তর টিকরিয়া গ্রামের
মৃত আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে। কৃষক শরিফ ২০০৮ সাল থেকে কৃষি পেশায় যুক্ত হন। এর আগে প্রথমে তিনি ড্রাইভিং পেশায় ছিলেন। এ পেশায় যা রুজি হতো তা নিয়ে সংসার চালানো কঠিন ছিল। পরে তিনি এ পেশা ছেড়ে যুক্ত হন ব্যবসায়। কয়েক বছর ব্যবসা করে লাভবান হতে পারেননি। এরপর যুক্ত হন কৃষি পেশায়। কৃষি পেশায় এসে তিনি ক্রমশ লাভবান হতে থাকেন বলে জানান শরিফ। এখন তার সুদিন ফিরেছে। ব্যক্তিজীবনে শরিফ তার মা-সহ
২ ছেলে ও ১ মেয়ে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ পরিবার নিয়ে সংসার জীবন পরিচালনা করছেন।
তিনি জানান, জীবনে অনেক কষ্ট করলেও এখন তিনি এই সবজি চাষ করেই ভাগ্য বদল করেছেন। শরিফ মিয়া বলেন, এ মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টির কারণে ফসল চাষে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আর ব্রোকলি চাষে চলতি মৌসুমে প্রথম দিকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও বর্তমান বাজারে ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে ব্রোকলি বিক্রি করছেন। তবে আলো ও মূলা ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে লাভবান হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
এদিকে সেচ ব্যবস্থা না থাকার কারণে পানি সংকট ও গাড়ি না থাকার কারণে তিনিসহ উত্তর টিকরিয়া গ্রামের কৃষকরা কৃষি কাজে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি মাননীয় কৃষিমন্ত্রী ড. উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ মহোদয়ের দৃষ্টু আকর্ষণ করে কৃষি সংশ্লিষ্ট পণ্য ও উপকরণ সহযোগিতা চেয়েছেন।
কৃষি অধিদপ্তর সুত্র জানায়, ব্রুকলি বা সবুজ ফুলকপি আমাদের দেশে একটি নতুন কপি গোত্রের সবজি। কিছুদিন আগেও ব্রুকলি দেশের মানুষের কাছে অপরিচিত সবজি ছিল। বর্তমানে এটি লাভজনক হিসেবে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং সবার কাছে সমাদৃত  হচ্ছে। কারন এই কপি অন্যান্য সবজির চেয়ে বেশি পুষ্টি সমৃদ্ধ। সুত্র জানায়, ব্রুকলিতে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও লৌহ বিদ্যমান। ব্রুকলি ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। শিশুদের রাতকানা ও অন্ধত্ব রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কোলেষ্টেরল কমাতে সাহায্য করে। গ্যাসট্রিক আলসার প্রতিরোধে দারুন কার্যকর। এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মহিউদ্দিন জানান, ব্রোকলি (Brassica oleracea var. ltalica) বা সবুজ ফুলকপি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন কপি গোত্রের সবজি। কিছু দিন আগেও ব্রোকলি বাংলাদেশের লোকের কাছে অপরিচিত ও অপ্রচলিত সবজি ছিল। কিন্তু বর্তমানে এটা লাভজনক হিসেবে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং সবার কাছে সমাদৃত বটে আমাদের দেশে। কারণ কপি গোত্রের অন্যান্য সবজির চেয়ে ব্রোকলি অপেক্ষাকৃত বেশি পুষ্টি সমৃদ্ধ ও ক্যান্সার প্রতিরোধক। তিনি আরও জানান, আমাদের দেশে শীতকালীন আবহাওয়ায় ব্রুকলি চাষের জন্য খুব উপযোগী। এটি খুব পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যসম্মত সবজি। ব্রোকলিসহ যেকোনো সবজি বা ফসল কেউ চাষ করতে চাইলে আমরা সহযোগিতা করবো।

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..