1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  3. admin@mkantho.com : Sk Sirajul Islam Siraj : Sk Sirajul Islam Siraj
  • E-paper
  • English Version
  • শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
মৌলভীবাজারের ৫টি রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ থাকায় এখন ভুতুরে বাড়ি: যাত্রী দুর্ভোগ চরমে: চুরি ও নষ্ট হচ্ছে রেলওয়ের মুল্যবান সম্পদ,নতুন বছরে দৃঢ় হোক সম্প্রীতির বন্ধন, দূর হোক সংকট: প্রধানমন্ত্রী. আজ রোববার উদযাপন হবে বই উৎসব. দুর্গম এলাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় নতুন বই পাঠানো হবে: শিক্ষামন্ত্রী, নতুন বছরে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী, নতুন আশা নিয়ে মধ্যরাতে বরণ করা হবে ২০২৩ সাল, সিডনিতে আতশবাজির মধ্য দিয়ে ‘নিউ ইয়ার’ বরণ, ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনে পুলিশের কড়াকড়ি,আবারও প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা, সম্পাদক হলেন শ্যামল ,নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কুয়াকাটায় পর্যটকের ঢল

ঝুঁকি নিয়ে চলছে স্কুলের কার্যক্রম: কুলাউড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন পরিত্যক্ত ঘোষনায় পাঁচ বছর পার

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১
  • ১৬৮ বার পঠিত

নাজমুল ইসলাম,কুলাউড়া: স্কুলতো নয় যেনো পরিত্যক্ত এক বাড়ি। দেখে বুঝার উপায় নেই এটি একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। আগেই বিদ্যালয়ের ভবনটি ছিলো ঝুঁকিপূর্ণ। করোনার কারণে ভবনটি যেন মরার উপর খড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের উত্তর চুনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালটির এমন বেহাল চিত্র। সাম্প্রতিক কিছুদিন আগে সিলেটে দুই দিন দফায় দফায় মৃদভুমিকম্প হলে এর চাপে বিদ্যালয়ের একটি রুমের জানালা মধ্যখানে বেঁকে গেছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ভূমিকম্পে মারত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় বিদ্যালয় ভবন। তখন এলজিইডির উপ-সহকারি প্রকৌশলীসহ শিক্ষাবিভাগ এ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। এরপর কেটে গেছে ৫ বছর। নতুন কোনো ভবন অনুমোদন কিংবা মেরামতেরও উদ্যোগ নেয়নি কতৃপক্ষ। ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দেখলেই তড়িগড়ি করে দিতে হয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ছুটি। গত ৫ বছর থেকে এভাবেই এলোমেলো ভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম।

সরেজমিন উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের উত্তর চুনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দেয়াল এবং ছাদের পলেস্তার খসে পড়ে ভেতরের রড বের হয়ে আছে। অযত্ন আর অবহেলায় ভবনটি যেনো মরণফাঁদে দাড়িয়ে আছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেবী প্রসাদ ভট্রাচার্য্য জানান, ১৯৮০ সালে স্থাপিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২শ। ৫ জন শিক্ষক রয়েছেন পাঠদানের জন্য। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯৪ সালে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ৪ কক্ষ বিশিষ্ট পাকা ভবন নির্মিত হয়। কিন্তু সে সময় ঠিকাদারের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ভবনটির কাজ নিম্নমানের হওয়ার কারণে তাতে ফাটল দেখা দেয়। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ভূমিকম্পে বিদ্যালয় ভবনটিতে একাধিক ফাটল দেখা দেয়। খসে পড়ছে পলেস্তার। সেই সময় কুলাউড়ার উপসহকারি প্রকৌশলী আব্দুল রাকিব ও শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শণ করে ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। কিন্তু সেই পরিত্যাক্ত ভবনের ভিতরে প্রধান শিক্ষক সহ সহকারী শিক্ষকদের অফিসের সকল কার্যক্রম চলছে জীবনের ঝুকি নিয়ে। পাশে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য একটি টিনসেডের ঘর ণির্মান করলেও অনেক শিক্ষার্থীরা সেখানে ক্লাস নিতে নারাজ। আবার অধিকাংশ শিশু শিক্ষার্থী ক্লাস করলেও ঝুঁকিপূর্ণ সেই ভবনে খেলার নেশায় ছুটে যায়। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে কমলমতি শিশুদের প্রাণহানী ঘটতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক মখলুফা, নাজমিন বিগম, ইয়াছমিন বেগম, লাকী রানী চন্দ, হাসি রানী চন্দ, সুমিত্রা রানী, মঞ্জু রানী নাথ, কল্পনা রানী, সাজনা বেগম, রায়না বেগম, লেচু বেগম, অর্পণা রানী, সানজিদা আক্তার,নজরুল ইসলাম জানান, শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকেন তাঁরা। যদি পরিত্যক্ত ভবন ভেঙ্গে পড়ে কোন দূর্ঘটনা ঘটে। শিশুরা খেলার সময় পলেস্তার খসে পড়ে যদি আঘাতপ্রাপ্ত হয় এই চিন্তায় থাকেন সকল অভিভাবকরা। এছাড়া ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় স্কুলে নেই কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আশপাশের মানুষের বাড়িতে গিয়ে সারতে হয় প্রাকৃতিক কর্ম।

করোনার কারণে বর্তমানে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হলে এই ভবনে শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করানোর মত পরিবেশ নেই। শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, করোনার এই বন্ধকালীন সময়ের মধ্যে একটি ভবন নির্মিত হলে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে। নয়তো বিদ্যালয়টি পাঠদানের অনুপযোগি হয়ে পড়বে। একটি ভবনের দাবি ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবক সহ স্থানীয় এলাকাবাসীর।

বিদ্যালয়ের ভূমিদাতা ও অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য বীরেন্দ্র দাস জানান, বারবার শিক্ষা বিভাগ এবং এমপির কাছে একটি ভবনের দাবি জানালেও কোন সুরাহা হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের এমন পরিস্থিতির কারণে দিন দিন শিক্ষার্থীও কমে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন যদি কতৃপক্ষ নতুন ভবন দিতে নাও পারে কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন ভবনটি দ্রুত ভেঙ্গে নেয়ার দাবী জানান তিনি।

কুলাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইফতেখার হোসাই চৌধুরী জানান, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্যান্য স্কুলের চেয়ে অধিদফতরের চাহিদার তালিকায় প্রথমেই উত্তর চুনঘর স্কুলের নাম দেয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী বছরের মধ্যে ওই স্কুলের নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে।

প্লিজ আপনি ও অপরকে নিউজটি শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করছি

এ জাতীয় আরো খবর..