1. newsmkp@gmail.com : Admin : sk Sirajul Islam siraj
  2. info@fxdailyinfo.com : admi2017 :
  • E-paper
  • English Version
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
 করোনা আপডেট :   করোনায় আরও ৪৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৩২২

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র জন্ম এবং ভাগ্য বিপর্যয়ের ইতিহাস 

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১
  • ৩৪৫ বার পঠিত
আজিজুল আম্বিয়া:
ফিলিস্তিনের সরকারি নাম হল ষ্টেট অফ ফিলিস্তিন। বর্তমান ফিলিস্তিন অবস্থিত মূলত গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীর এই দুই ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত। গাজা উপত্যকার পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর, দক্ষিণে মিশর এবং উত্তর ও পূর্বদিকে ইসরায়েল অবস্থিত। পশ্চিম তীরের পূর্বে জর্ডান, এবং উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমে ইসরায়েল। ইতিহাস,সংস্কৃতি নির্ভর দেশ ফিলিস্তিন। বিভিন্ন কারণে এই দেশটি  মুসলিম ,খ্রিস্টান এবং ইহুদিদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র ভূমি বলে বিবেচিত। বর্তমানে এ অঞ্চলের বড় অংশ ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। বলে তাদের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে? জানা যায় এখানে সর্ব প্রথম কেনানের একদল মুসলমান বসবাস শুরু করেন। তাদের উত্তরসূরিদের নিয়ে গঠিত হয় আজকের ফিলিস্তিন। এককালে এ ভূখণ্ড ছিল অটোমানদের দখলে। আরব মুসলমানদের সংখ্যা ছিল বেশি। উনিশ শতকের শেষের দিকে ইউরুপে চেনিনবাদি আন্দোলন গড়ে উঠে। ইহুদিদের চোখ পড়ে যায় এই ভূখণ্ডের উপর। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ইহুদিরা এখানে বাসা বাধতে শুরু করে, উদ্দেশ্য ছিল এই দেশটি কি করে দখল করা যায়, তাঁর সুযোগ খুঁজা। জানা যায় সর্ব প্রথম পোল্যান্ড থেকে কিছু ইয়াহুদি ফিলিস্তিনের কিটবুজ অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করে। পরবর্তীতে সেখানে শুরু হয় ইয়াহুদি আগমনের ইতিহাস । তারা ধীরে ধীরে বিশ্বের সকল ইয়াহুদিদের এখানে আসার আমন্ত্রণ করে এবং জায়গা ক্রয় করা শুরু করে এবং ১৯১৬ সালে ইয়াহুদিদের ওয়ার্ল্ড জায়োনিসট সংস্থাটি বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠক করে এবং  পৃথক ইয়াহুদি রাষ্ট্র গঠনের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। ১৯১৮ সালে মোট জনসংখ্যার এক দশমাংশ ছিল ইয়াহুদি, যা ছিল মাত্র কয়েক হাজার। পরবর্তীতে ১৯২৩ সালে তা ৩৫ হাজারে উন্নীত হয়, ১৯৩১ সালে তা ৮১ হাজারে উন্নীত হয়, যা ১৯৪১ সালে ২লক্ষ ৫০ হাজারে উন্নীত হয় । যখন মুসলিমরা দেখল, তারা এই ভূমিতে জায়গা ক্রয়ের সুবাদে একটি ইয়াহুদি অঞ্চলের সূচনা করতে যাচ্ছে তখন মুসলমানের টনক নড়ে ।  অটোমানদের পরাজিত হবার পর এই অঞ্চল চলে যায়  ব্রিটিশের অধীনে। ১৯৩৩ সালে এডলফ হিটলার জার্মানির ক্ষমতায় এলে ইউরোপে ইয়াহুদিদের উপর নির্যাতন শুরু হয়। সেখানকার ইয়াহুদিরাও ফিলিস্তিন আসতে শুরু করে,দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর প্রায় ৬ লাখ ইয়াহুদিকে এখানে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া হয় বিভিন্ন চাপে, তখন থেকে বাড়তে থাকে ইয়াহুদি আধিপত্য, আর এখান থেকে বেড়ে যায়  ফিলিস্তিন নিয়ে আরব ইয়াহুদি বৈরিতা। এরই মধ্যে ১৯৪৭ সালের ২৯ নভেম্বের ব্রিটিশ সরকারের অনুরোধ জাতিসংঘ এক ভোট অনুষ্ঠিত হয়, এতে ৩৩ টি দেশ ভোট দেয় ইয়াহুদিদের পক্ষে,১০ টি দেশ বিরত ছিল আর ১টি দেশ ছিল অনুপস্থিত।  এতে আরবরা এর চরম বিরোধিতা করে কিন্তু ফিলিস্তিনকে দ্বিখণ্ডিত করে পৃথক ইয়াহুদি ও আরব রাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দেয় ভোট প্রধান দেশগুলি। ইয়াহুদিরা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায় এতে ১৭ হাজার  মুসলিম নিহত হন । এরপর জাতিসংঘ এটি স্থগিত করে।  আরবদের বিরোধিতা উপেক্ষা করে যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টায় ইয়াহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয় । ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনের মেনডেড ছেড়ে দেয়, ঐ দিনেই কৌশলী ইয়াহুদি নেতারা আনুষ্ঠানিক ইসরায়েলর ঘোষণা দেন। আর এর পর থেকেই আরবদের সাথে ইসরায়েলের যুদ্ধ বেঁধে যায়। যুদ্ধে আরবরা পরাজিত হয়। উপরন্তু জাতিসংঘের প্রস্তাবিত একটা বড় অংশ দখল করে ইসরায়েল। সাড়ে সাত লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী হয়, পরবর্তীতে আর ও কয়েকটি যুদ্ধ সংগঠিত হলেও ফিলিস্তানিরা হারাছে নতুন নতুন অঞ্চল। হারাচ্ছে প্রতিনিয়ত তরতাজা প্রাণ। শিশু থেকে বৃদ্ধ কেহই রক্ষা পাচ্ছে না তাদের হামলা থেকে। মরছে শিশু, ধ্বংস করা হচ্ছে প্রিন্ট মিডিয়ার অফিস ও মূল্যবান ভবন,মা হারাচ্ছে সন্তান কিংবা স্বামী,ইজ্জত হারাচ্ছে নারী, এ যেন এক মরণ খেলা চলছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যারা মানবতার কথা বলে সেই ভদ্র লোকেরা সমর্থন করছেন এই তাণ্ডব। না হলে এটা কি এত দিন চলত? তাই সময় এসেছে বিশ্ব বিধাতার ডাকে কিংবা উনার মানবতার ধর্ম প্রতিষ্ঠার কাজে সাড়া দেবার। জয় ইনশাআল্লাহ হবেই এই সহিষ্ণু আর ক্ষহিষ্ণু স্বদেশহারা ফিলিস্তিন জাতির।কারণ যখনি একটি জাতির উপর চরম নির্যাতন শুরু হয়, তখনি মহান প্রভুর নির্দেশে আসে একদল ইয়াসির আরাফাতরা এরা কখনো মরে না কারণ তারা যে আদর্শ তৈরি করে তা চলমান থাকে আর একদিন এই বিপ্লব এনে দেয় মুক্তি। এই দিন বেশি দূরে নয় । যুগে যুগে মুসলিমদের এভাবে শক্তি আর অর্থ কম ছিল তবুও ইমান মনোবলে তারা জয়ী হয়েছেন।জাতিসংজ্ঞ যে দ্বিখণ্ডিত রাষ্ট্র করে দিয়েছিল এবং শর্ত দিয়েছিল তাঁর বাস্তবতার প্রয়োজনে তাদেরকে দিয়েই একটি মুসলিম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সমস্যার সমাধান করে দেয়া হবে একদিন ।কারণ , ইহুদিরা খুবই চতুর জাতি।এদের জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম,অস্টিয়া বা ইউরোপের কোন দেশ স্হান দেয়নি।বরম হাজার বছর ধরে তারা নিজভূমি থেকে এই হিয়াহুদিদের তাডিয়ে দিয়েছে। ইংল্যান্ড ও এদের স্হান দেয়নি। বর্তমানে ৬০২০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ দেশটির জনসংখ্যা ৫০ লাখ ৫১ হাজার। এ দেশের সরকারি বাসা আরবি । দেশের প্রায় ৯৩ শতাংশ মানুষ মুসলিম । বাকি অন্যান্যরা ৬খ্রিস্টান ১ দ্রজ । পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিনের ঘোষিত রাজধানী। বর্তমানে এটি ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। আর পশ্চিম জেরুজালেম ইসরায়েলের অংশ। জেরুজালেমের সাথে জড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস। বিশ্বের সব চেয়ে পবিত্র স্থানের একটি হল এই জেরুজালেম শহর । মুসলিম,ইয়াহুদি,খ্রিস্টানদের কাছে এর গুরুত্ব খুবই বেশি , যেমন, টেম্পল মাউনট, পশ্চিম প্রাচীর, আল আকসা মসজিদ এবং ডুম অব দ্যা রক এখানে অবস্থিত।যদিও পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী তবুও  বর্তমানে রাজধানীর মূল কাজ করে থাকে রামাল্লা শহর। খ্রিস্টানদের কাছে  এই জেরুজালেম গুরুত্ব এ কারণে, এখানে শিশু অবস্থায় এসেছেন যীশুখ্রিস্ট এবং প্রাপ্ত বয়সে ধর্ম প্রচার করেছেন । এবং জীবনের শেষে এখানে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছেন । এবং একই ভাবে এখানে ঈশ্বরের দ্বারা পুনরুন্থান হবেন বলে বর্ণিত আছে। আবার ইয়াহুদিদের কাছে গুরুত্বপুর্ন কারণ এখানে তাদের ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা মুজেছের পুণ্যভূমি এই জেরুজালেম। ইয়াহুদিদের প্রথম মন্দির ও এই জেরুজালেম এ অবস্থিত ছিল, যার অবস্থান হল টেম্পল মাউনট।আর মুসলমানের প্রথম কেবলা হল এই মসজিদ এবং  ইসলামি বিশ্বাস মতে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইসি ওয়াসাল্ললাম  মেরাজের আগে এখানে থেমেছিলেন এবং বায়তুল মুকাদ্দেস নামাজ পরেছিলেন যা খুবই মর্যাদাকর মুসলিমদের কাছে।এই মসজিদ হযরত ইয়াকুব নবী নির্মাণ করেন পরবর্তীতে সোলায়মান নবী জ্বীন দিয়ে সাগর থেকে পাথর উত্তোলন করে এই মসজিদ পূর্ণ নির্মাণ করেন এছাড়া এই মসজিদের ভিতরে হজরে আসওয়াদ নামক পাথরের পরবর্তী মর্যাদার ও একটি পাথর রয়েছে। ডেড সি বা মিত সাগরটি এই  ফিলিস্তিন এবং জর্ডানের মধ্যবর্তীতে অবস্তিত । দেশের প্রায় ৯৬ ভাগ শিক্ষিত । পর্যটন হল তাদের প্রধান অর্থনীতির বিশাল অংশ । উল্লেখ্য “আল কুদস (জেরুজালেম) ফিলিস্তিনের সরকারি রাজধানী হলে ও এখন ইস্রায়েলি সেনাবাহিনীর দখলে রয়েছে। তাই এটি মানুষের ইচ্ছা হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। তাই তারা পূর্ব জেরুজালেম নামে অভিহিত করে থাকেন, জেরুজালেমের পূর্বের সমস্ত জেলা, শহরের উত্তর ও দক্ষিণের বেশীর ভাগ জেলা এবং পুরাতন জেরুজালেম শহর। বর্তমানে ফিলিস্তিন করতিপক্ষ দুটি পৃথক দলের মধ্যে বিভক্ত। ফিলিস্তিন করতিপক্ষ, যা পশ্চিম তীরে বিক্ষিপ্ত অঞ্চলগুলি নিয়ন্ত্রণ করে, জেরুজালেমের উত্তরে রামাল্লা শহরে এর প্রশাসনিক অফিস। তবে জেরুজালেম তাদের ভবিষ্যতের রাজধানী বলে দাবি করার পক্ষে সবাই।
এই যে ইসরায়েল প্রায়ই ফিলিস্তিনিদের ওপর মরণাস্ত্রের হামলা চালায় তা বন্ধ করতে বিশ্বের মানবতাবাদী দেশ ও জাতির এগিয়ে আসা উচিত।
আজিজুল আম্বিয়া,বি এ অনার্স এন্ড এম এ (বাংলা ভাষা ও সাহিত্য), লেখক,কলামিস্ট,যুক্তরাজ্য প্রবাসী ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..