12:06 am, Saturday, 7 November 2026

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণে কড়া নিরাপত্তা বলয়

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বকাপজুড়ে মাঠের লড়াই যতটা উত্তেজনাপূর্ণ ছিল, মাঠের বাইরের পরিবেশ ততটাই শান্ত ছিল। আগের বিশ্বকাপগুলোর মতো সমর্থকদের সহিংসতা মতো বড় কোনো ঘটনা এবার দেখা যায়নি।

তবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের বহুল আলোচিত সেমিফাইনালকে ঘিরে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

ম্যাচটি সামনে রেখে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আটলান্টা পুলিশ বিভাগ (এপিডি)।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে এবারের বিশ্বকাপের এটি শেষ ম্যাচ।

এপিডি জানিয়েছে, দর্শকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এই ম্যাচের জন্য প্রায় ১ হাজার ৬০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি এফবিআইসহ বিভিন্ন ফেডারেল ও স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে আটলান্টা পুলিশ। তবে নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে তারা।

আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রো মন্তেওলিভা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিয়ে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের আলাদা প্রবেশপথ দিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকানো হবে।

তবে ফিফার টিকিট বরাদ্দ নীতির কারণে স্টেডিয়ামের ভেতরে দুই দলের সমর্থকদের সম্পূর্ণ আলাদা গ্যালারিতে বসানো সম্ভব হবে না।

ম্যাচটি ঘিরে রাজনৈতিক বার্তার বিষয়েও কঠোর অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফকল্যান্ড যা আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো ধরনের পতাকা, ব্যানার বা পোস্টার স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক, বর্ণবাদী বা উসকানিমূলক বার্তাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের উত্তেজনার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। বিশ্বকাপে এর আগে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়েছে। পরবর্তীতে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলসহ বেশ কয়েকটি ঘটনা এই লড়াইকে ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক দ্বৈরথে পরিণত করেছে।

এদিকে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এফএসএ) সমর্থকদের প্রতি সংযত আচরণের আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। আটলান্টাতেও সেই সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

সাংবাদিক এহসানুল হকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণে কড়া নিরাপত্তা বলয়

Update Time : 09:37:23 am, Wednesday, 15 July 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বকাপজুড়ে মাঠের লড়াই যতটা উত্তেজনাপূর্ণ ছিল, মাঠের বাইরের পরিবেশ ততটাই শান্ত ছিল। আগের বিশ্বকাপগুলোর মতো সমর্থকদের সহিংসতা মতো বড় কোনো ঘটনা এবার দেখা যায়নি।

তবে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের বহুল আলোচিত সেমিফাইনালকে ঘিরে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১টায় আটলান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

ম্যাচটি সামনে রেখে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আটলান্টা পুলিশ বিভাগ (এপিডি)।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে এবারের বিশ্বকাপের এটি শেষ ম্যাচ।

এপিডি জানিয়েছে, দর্শকদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
এই ম্যাচের জন্য প্রায় ১ হাজার ৬০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি এফবিআইসহ বিভিন্ন ফেডারেল ও স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে আটলান্টা পুলিশ। তবে নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেছে তারা।

আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রো মন্তেওলিভা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিয়ে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের আলাদা প্রবেশপথ দিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকানো হবে।

তবে ফিফার টিকিট বরাদ্দ নীতির কারণে স্টেডিয়ামের ভেতরে দুই দলের সমর্থকদের সম্পূর্ণ আলাদা গ্যালারিতে বসানো সম্ভব হবে না।

ম্যাচটি ঘিরে রাজনৈতিক বার্তার বিষয়েও কঠোর অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফকল্যান্ড যা আর্জেন্টিনায় মালভিনাস নামে পরিচিত দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো ধরনের পতাকা, ব্যানার বা পোস্টার স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে রাজনৈতিক, বর্ণবাদী বা উসকানিমূলক বার্তাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের উত্তেজনার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। বিশ্বকাপে এর আগে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়েছে। পরবর্তীতে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলসহ বেশ কয়েকটি ঘটনা এই লড়াইকে ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক দ্বৈরথে পরিণত করেছে।

এদিকে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এফএসএ) সমর্থকদের প্রতি সংযত আচরণের আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। আটলান্টাতেও সেই সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।