2:27 am, Wednesday, 22 April 2026

কমলগঞ্জের টানা বর্ষনে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, কৃষির ব্যাপক ক্ষতি

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি ::মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ঘুর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ঝড়ো বাতাস ও দু’দিনের টানা বর্ষনে উজানের পাহাড়ি ঢলে পৌরসভাসহ ৪টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শাক-সবজিসহ কৃষির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের চৈতন্যগঞ্জ এলাকায় নদী ভাঙ্গন ও নদীর আরো ১০টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।

সরজমিন গিয়ে জানা যায, পৌরসভা এলাকার পানিসাইল, সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ, নারায়নপুর, শমশেরনগর এর রঘুনাথপুর, পতনঊষারের নোয়াগাঁও গ্রামসহ আদমপুর ও রহিমপুর ইউনিয়নের আরো কয়েকটি গ্রামসহ নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আউশ ক্ষেত, শাক-সবজিসহ কৃষিক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। মঙ্গলবার বিকালে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের চৈতন্যগঞ্জ এলাকায় নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ ঘটিকা পর্যন্ত ভানুগাছ রেলওয়ে সেতু এলাকায় ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পৌর এলাকার বাঁধবাসী সাদিকুর রহমান, রহিমা খাতুনসহ কয়েকজন বাঁধবাসী বলেন, ধলাই নদী থেকে ড্রেন দিয়ে পানি বেরিয়ে আমাদের দু’টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আমরা এখন পানিবন্দী হয়ে আছি। পতনঊষারের কৃষক সামছুদ্দীন, আকতার মিয়া, জলিল মিয়া বলেন, ঢল ও বন্যার পানিতে আমাদের আউশ ক্ষেত, পেঁপে, বেগুনসহ শাক-সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এগুলো সম্পুর্ন বিনষ্ট হয়ে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার এর সহকারী প্রকৌশলী সাকিব আহমেদ ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের চৈতন্যগঞ্জ এলাকায় নদী ভাঙ্গনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ ঘটিকা পর্যন্ত ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নাল আবেদীন বলেন, একটি স্থানে ভাঙ্গনের খবর পেয়েছি। তাছাড়া ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলি সার্বক্ষনিক নজরদারি করা হচ্ছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

কমলগঞ্জের টানা বর্ষনে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, কৃষির ব্যাপক ক্ষতি

Update Time : 01:27:18 pm, Tuesday, 28 May 2024

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি ::মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ঘুর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ঝড়ো বাতাস ও দু’দিনের টানা বর্ষনে উজানের পাহাড়ি ঢলে পৌরসভাসহ ৪টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল ও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শাক-সবজিসহ কৃষির ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের চৈতন্যগঞ্জ এলাকায় নদী ভাঙ্গন ও নদীর আরো ১০টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।

সরজমিন গিয়ে জানা যায, পৌরসভা এলাকার পানিসাইল, সদর ইউনিয়নের চৈতন্যগঞ্জ, নারায়নপুর, শমশেরনগর এর রঘুনাথপুর, পতনঊষারের নোয়াগাঁও গ্রামসহ আদমপুর ও রহিমপুর ইউনিয়নের আরো কয়েকটি গ্রামসহ নিম্নাঞ্চল এলাকা প্লাবিত হয়েছে। আউশ ক্ষেত, শাক-সবজিসহ কৃষিক্ষেত তলিয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। মঙ্গলবার বিকালে ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের চৈতন্যগঞ্জ এলাকায় নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ ঘটিকা পর্যন্ত ভানুগাছ রেলওয়ে সেতু এলাকায় ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পৌর এলাকার বাঁধবাসী সাদিকুর রহমান, রহিমা খাতুনসহ কয়েকজন বাঁধবাসী বলেন, ধলাই নদী থেকে ড্রেন দিয়ে পানি বেরিয়ে আমাদের দু’টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। আমরা এখন পানিবন্দী হয়ে আছি। পতনঊষারের কৃষক সামছুদ্দীন, আকতার মিয়া, জলিল মিয়া বলেন, ঢল ও বন্যার পানিতে আমাদের আউশ ক্ষেত, পেঁপে, বেগুনসহ শাক-সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এগুলো সম্পুর্ন বিনষ্ট হয়ে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার এর সহকারী প্রকৌশলী সাকিব আহমেদ ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের চৈতন্যগঞ্জ এলাকায় নদী ভাঙ্গনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ ঘটিকা পর্যন্ত ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়নাল আবেদীন বলেন, একটি স্থানে ভাঙ্গনের খবর পেয়েছি। তাছাড়া ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলি সার্বক্ষনিক নজরদারি করা হচ্ছে।