5:04 am, Saturday, 2 May 2026

কমলগঞ্জ অবাধে চলছে কৃষি জমির মাটি কাটার মহোৎসব

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জমি থেকে মাটি কাটার মহোৎসব মেতে উঠেছে প্রভাবশালী মহল। যে যার মতো মাটি কেটে নেওয়ার পাশাপাশি গভীর গর্ত করে মাটি কেটে বিক্রি ও নিজ বাড়ির উঠানে ভরাট করছে একটি দুষ্টমহল। কৃষি জমি ধ্বংসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ও নষ্ট হচ্ছে জমির ফসল উৎপাদনের উপযোগিতা হারানোর পাশাপাশি রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও জনপ্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্টতা থাকায় কেউ মুখ খুলছে না ফলে নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমির সৌন্দর্য।
আর্থিকভাবে সাময়িকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় অনেক কৃষক তাদের জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাপকহারে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এ অঞ্চলের অধিকাংশ জমিই উর্বর পলি মাটি সমৃদ্ধ।এসব জমিতে বছরে দু’টি মৌসুমে ধান, রুপন করা হয় আউশ, আমন কিন্তু কিছু অসাধু মাটি ব্যবসায়ী কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এসব জমির টপ সয়েল কিনে নিচ্ছেন।

কমলগঞ্জ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শমশেরনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে দুই বা তিন ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বড় বড় ট্রাকে এসব মাটি পরিবহনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তাঘাটও।
নানা দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে এসব রাস্তায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় কিছু মাটি ব্যবসায়ী প্রতি বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে মার্চ পর্যন্ত মাটির ব্যবসা করেন। তারা কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে জমির এক থেকে দেড় ফুট মাটি কিনে নিয়ে চড়া দামে ইটভাটায় বিক্রি করেন। এছাড়া বাড়ি তৈরিতে মাটি ভরাট প্রয়োজন হলেও অনেকে এসব মাটি ব্যবসায়ীর দ্বারস্থ হন। অল্প সময়েই মাটি ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা রোজগার করেন।
কমলগঞ্জ কৃষি কর্মকতা মো. জনি খাঁন বলেন, টপ সয়েল জমির প্রাণ। জমির উপরের থেকে ৬ ইঞ্চিই হলো টপ সয়েল। আর ওই অংশেই থাকে মূল জৈবশক্তি। কৃষকরা জমির টপ সয়েল বিক্রি করে নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছেন। মাটি বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে তারা জমির উর্বরা শক্তিই বিক্রি করে দিচ্ছেন। জমির এ ক্ষতি ১০ বছরেও পূরণ হবে না।

তিনি আরও বলেন, যেভাবে মাটি বিক্রি হচ্ছে তাতে করে ফসল উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেতে পারে। এসব বিষয়ে কোনো নীতিমালা না থাকায় কৃষক ও মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিভিন্ন সময় কৃষকদের টপ সয়েল বিক্রি থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি নয় কৃষক। নাম প্রাকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হয় তারা জানান, জমির উপরের অংশ থেকে দু-এক ফুট পরিমাণ মাটি তারা বিক্রি করছেন। এতে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। জমির মাটি কেটে নিলে ফসল আরও ভালো হবে বলেও মনে করেন কৃষকেরা। তারা নিজেদের জমির মাটি আমি বিক্রি করছেন। এতে কারও কিছু করার নেই। বিভিন্ন এলাকার সচেতন মহলের বলেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সচেতন মহলের দাবি।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

আবারো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধি রাশমিকা!

কমলগঞ্জ অবাধে চলছে কৃষি জমির মাটি কাটার মহোৎসব

Update Time : 01:28:00 pm, Thursday, 24 February 2022

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জমি থেকে মাটি কাটার মহোৎসব মেতে উঠেছে প্রভাবশালী মহল। যে যার মতো মাটি কেটে নেওয়ার পাশাপাশি গভীর গর্ত করে মাটি কেটে বিক্রি ও নিজ বাড়ির উঠানে ভরাট করছে একটি দুষ্টমহল। কৃষি জমি ধ্বংসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ও নষ্ট হচ্ছে জমির ফসল উৎপাদনের উপযোগিতা হারানোর পাশাপাশি রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও জনপ্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্টতা থাকায় কেউ মুখ খুলছে না ফলে নষ্ট হচ্ছে কৃষি জমির সৌন্দর্য।
আর্থিকভাবে সাময়িকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় অনেক কৃষক তাদের জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাপকহারে হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এ অঞ্চলের অধিকাংশ জমিই উর্বর পলি মাটি সমৃদ্ধ।এসব জমিতে বছরে দু’টি মৌসুমে ধান, রুপন করা হয় আউশ, আমন কিন্তু কিছু অসাধু মাটি ব্যবসায়ী কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এসব জমির টপ সয়েল কিনে নিচ্ছেন।

কমলগঞ্জ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শমশেরনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে দুই বা তিন ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে বিক্রির হিড়িক পড়েছে। বড় বড় ট্রাকে এসব মাটি পরিবহনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তাঘাটও।
নানা দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে এসব রাস্তায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিছু রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় কিছু মাটি ব্যবসায়ী প্রতি বছরের ডিসেম্বর থেকে শুরু করে মার্চ পর্যন্ত মাটির ব্যবসা করেন। তারা কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে জমির এক থেকে দেড় ফুট মাটি কিনে নিয়ে চড়া দামে ইটভাটায় বিক্রি করেন। এছাড়া বাড়ি তৈরিতে মাটি ভরাট প্রয়োজন হলেও অনেকে এসব মাটি ব্যবসায়ীর দ্বারস্থ হন। অল্প সময়েই মাটি ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা রোজগার করেন।
কমলগঞ্জ কৃষি কর্মকতা মো. জনি খাঁন বলেন, টপ সয়েল জমির প্রাণ। জমির উপরের থেকে ৬ ইঞ্চিই হলো টপ সয়েল। আর ওই অংশেই থাকে মূল জৈবশক্তি। কৃষকরা জমির টপ সয়েল বিক্রি করে নিজেদের পায়ে কুড়াল মারছেন। মাটি বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে তারা জমির উর্বরা শক্তিই বিক্রি করে দিচ্ছেন। জমির এ ক্ষতি ১০ বছরেও পূরণ হবে না।

তিনি আরও বলেন, যেভাবে মাটি বিক্রি হচ্ছে তাতে করে ফসল উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেতে পারে। এসব বিষয়ে কোনো নীতিমালা না থাকায় কৃষক ও মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিভিন্ন সময় কৃষকদের টপ সয়েল বিক্রি থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি নয় কৃষক। নাম প্রাকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হয় তারা জানান, জমির উপরের অংশ থেকে দু-এক ফুট পরিমাণ মাটি তারা বিক্রি করছেন। এতে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। জমির মাটি কেটে নিলে ফসল আরও ভালো হবে বলেও মনে করেন কৃষকেরা। তারা নিজেদের জমির মাটি আমি বিক্রি করছেন। এতে কারও কিছু করার নেই। বিভিন্ন এলাকার সচেতন মহলের বলেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সচেতন মহলের দাবি।