9:41 am, Sunday, 31 May 2026

করোনার কঠোর সব বিধিনিষেধ বাতিল করল চীন

 

অনলাইন ডেস্ক:: বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনে করোনা সংক্রান্ত সব কঠোর বিধিনিষেধ তুলে দিয়েছে দেশটির সরকার। লকডাউন নিয়ে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করার এক সপ্তাহ পর এমন ঘোষণা এলো।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বুধবার (৭ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনার বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি এখন কেউ করোনায় আক্রান্ত হন তাহলে তাকে সরকার নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে যেতে হবে না। এর বদলে আক্রান্ত ব্যক্তি বাড়ি এবং পরিবারের কাছে থাকতে পারবেন এবং বাড়িতে বসেই করোনা পরীক্ষা করতে পারবেন।

আগে কেউ প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে জোর করে বাড়ি থেকে নিয়ে যেত সরকারি কর্মকর্তারা। এমনকি চলতি বছরের নভেম্বরেও একজনকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

এ ছাড়া আগে পাবলিক ভেন্যুগুলোতে বা বড় জমায়েতে যোগ দিতে বাধ্যতামূলক পিসিআর কোভিড পরীক্ষা করতে হতো। এই নিয়মও তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন শুধু হাসপাতাল এবং স্কুলে যেতে পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে।

বুধবার প্রকাশিত নির্দেশনায় চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, লকডাউন আরোপ করতে হবে নির্দিষ্ট ভবনে। একটি ভবনে কেউ আক্রান্ত হলে পুরো এলাকা বা শহরে বিধি-নিষেধ আরোপ করা যাবে না।

লকডাউন আরোপিত এলাকা/ভবনে যদি নতুন করে কেউ আক্রান্ত না হন তাহলে পাঁচদিন পর সেটি তুলে দিতে হবে।

যদি স্কুলে সংক্রমণ মাত্র দুই-তিনজনের মধ্যে থাকে তাহলে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়লে তখন স্কুল বন্ধ করা যেতে পারে।

এ ছাড়া লকডাউন আরোপিত ভবনে জরুরি প্রস্থান ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখতে হবে। যেন অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মানুষ বের হয়ে যেতে পারেন।

চীনের অন্যতম বড় প্রদেশ শিনজিয়ানের একটি ভবনে আগুন লেগে ১০ জন মানুষ নিহত হন। ওই সময় ওই এলাকায় লকডাউন ছিল। বলা হচ্ছে, লকডাউনের কারণে মানুষ বের হতে পারেননি। ফলে এত হতাহতের ঘটনা ঘটে। যদিও চীন সরকার এটি অস্বীকার করেছে। তবে ওই ঘটনার পরই রাজধানী বেইজিংসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।

যেহেতু করোনার কঠোর বিধি-নিষেধ তুলে দেওয়া হচ্ছে তাই চীনের বয়োজ্যেষ্ঠদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে।

এদিকে বিধিনিষেধে এসব পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে চীন কঠোর জিরো কোভিড নীতি থেকে সরে আসছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ‘করোনা নিয়েই বসবাস’ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজার জুয়া ও মাদকের ভয়াবহ বিস্তার-অপরাধের ঝুঁকিতে শহর, ধ্বংসের পথে কিশোর-যুব সমাজ (পর্ব-১)

করোনার কঠোর সব বিধিনিষেধ বাতিল করল চীন

Update Time : 08:09:41 am, Wednesday, 7 December 2022

 

অনলাইন ডেস্ক:: বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনে করোনা সংক্রান্ত সব কঠোর বিধিনিষেধ তুলে দিয়েছে দেশটির সরকার। লকডাউন নিয়ে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করার এক সপ্তাহ পর এমন ঘোষণা এলো।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বুধবার (৭ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনার বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যদি এখন কেউ করোনায় আক্রান্ত হন তাহলে তাকে সরকার নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে যেতে হবে না। এর বদলে আক্রান্ত ব্যক্তি বাড়ি এবং পরিবারের কাছে থাকতে পারবেন এবং বাড়িতে বসেই করোনা পরীক্ষা করতে পারবেন।

আগে কেউ প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তাকে জোর করে বাড়ি থেকে নিয়ে যেত সরকারি কর্মকর্তারা। এমনকি চলতি বছরের নভেম্বরেও একজনকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

এ ছাড়া আগে পাবলিক ভেন্যুগুলোতে বা বড় জমায়েতে যোগ দিতে বাধ্যতামূলক পিসিআর কোভিড পরীক্ষা করতে হতো। এই নিয়মও তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন শুধু হাসপাতাল এবং স্কুলে যেতে পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে।

বুধবার প্রকাশিত নির্দেশনায় চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, লকডাউন আরোপ করতে হবে নির্দিষ্ট ভবনে। একটি ভবনে কেউ আক্রান্ত হলে পুরো এলাকা বা শহরে বিধি-নিষেধ আরোপ করা যাবে না।

লকডাউন আরোপিত এলাকা/ভবনে যদি নতুন করে কেউ আক্রান্ত না হন তাহলে পাঁচদিন পর সেটি তুলে দিতে হবে।

যদি স্কুলে সংক্রমণ মাত্র দুই-তিনজনের মধ্যে থাকে তাহলে শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়লে তখন স্কুল বন্ধ করা যেতে পারে।

এ ছাড়া লকডাউন আরোপিত ভবনে জরুরি প্রস্থান ব্যবস্থা নিশ্চিত রাখতে হবে। যেন অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মানুষ বের হয়ে যেতে পারেন।

চীনের অন্যতম বড় প্রদেশ শিনজিয়ানের একটি ভবনে আগুন লেগে ১০ জন মানুষ নিহত হন। ওই সময় ওই এলাকায় লকডাউন ছিল। বলা হচ্ছে, লকডাউনের কারণে মানুষ বের হতে পারেননি। ফলে এত হতাহতের ঘটনা ঘটে। যদিও চীন সরকার এটি অস্বীকার করেছে। তবে ওই ঘটনার পরই রাজধানী বেইজিংসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।

যেহেতু করোনার কঠোর বিধি-নিষেধ তুলে দেওয়া হচ্ছে তাই চীনের বয়োজ্যেষ্ঠদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে।

এদিকে বিধিনিষেধে এসব পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে চীন কঠোর জিরো কোভিড নীতি থেকে সরে আসছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ‘করোনা নিয়েই বসবাস’ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।