8:39 pm, Thursday, 21 May 2026

একই অথচ ভিন্ন: ট্রাম্প ও পুতিনকে যেভাবে স্বাগত জানাল চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: বেইজিংয়ে ‘দ্য গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের করমর্দন
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেইজিংয়ে সামরিক ব্যান্ড, গার্ড অব অনার এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা হাতে শতাধিক তরুণ-তরুণীর উচ্ছ্বাসপূর্ণ স্বাগত জানানোর কয়েক দিনের মধ্যেই একই ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নিয়ে চীনে পৌঁছান ভ্লাদিমির পুতিন।

এই দুই সফরের অভ্যর্থনার দৃশ্যাবলি ছিল প্রায় হুবহু একরকম, যেন ইচ্ছাকৃতভাবে সাজানো হয়েছে যাতে দেখানো যায়, বেইজিং ওয়াশিংটন ও মস্কোর নেতাদের সমান মর্যাদায় গ্রহণ করতে সক্ষম।

তবে চীন পার্থক্যটাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। ট্রাম্পকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, যিনি সাধারণত কমিউনিস্ট পার্টির প্রকৃত ক্ষমতার বাইরে একটি আনুষ্ঠানিক ভূমিকা পালন করেন।

অন্যদিকে পুতিনকে স্বাগত জানান পার্টির শীর্ষ নীতিনির্ধারণী সংস্থা পলিটব্যুরোর একজন বর্তমান সদস্য, যা ইঙ্গিত দেয়, মস্কোকে চীন একটি উদীয়মান পশ্চিমবিরোধী বিশ্বব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখে।
ক্রেমলিন এই তুলনাকে সংবেদনশীলভাবে গ্রহণ করেছে।

প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ দুই সফরের তুলনাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। রুশ প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভও জানান, পুতিন-শি জিনপিং বৈঠক ট্রাম্পের সফরের আগেই পরিকল্পিত ছিল।
Xi
গ্রেট হল অব দ্য পিপলের বাইরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনকে পৃথকভাবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়
তবুও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বার্তাটি ছিল স্পষ্ট। রুশ সংবাদপত্র ‘আর্গুমেন্তি ই ফাক্তি’ লিখেছে, পুতিনকে বেইজিংয়ে ‘একজন মিত্র ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, আর ট্রাম্পকে দেখা হয়েছে ‘একজন প্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিযোগী হিসেবে, যার কাছ থেকে যেকোনো কিছুই আশা করা যায়।’

জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, কিন্তু সীমিত ফলাফল
দুই সফরেই আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন থাকলেও বাস্তব অর্জন ছিল সীমিত। ট্রাম্প ও শি জিনপিং সহযোগিতার চিত্র তুলে ধরলেও এনভিডিয়া চিপ রপ্তানি ও শুল্ক সংক্রান্ত বড় ইস্যুগুলোতে তেমন অগ্রগতি হয়নি।

মস্কোর জন্য পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পুতিন বেইজিংয়ে এমন এক সময়ে পৌঁছান, যখন তার দীর্ঘ শাসনের সবচেয়ে কঠিন সময় চলছে। যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার চাপে রাশিয়ার অর্থনীতি দুর্বল, আর ইউক্রেন যুদ্ধের মাঠেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকট দেশটিকে চীনের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল করে তুলছে, ফলে যে সম্পর্ককে ক্রেমলিন সমান অংশীদারিত্ব হিসেবে দেখাতে চায়, সেটি ধীরে ধীরে অসম সম্পর্ক হয়ে উঠছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা রাশিয়ার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে মস্কো নিজেকে এখন বেইজিংয়ের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরছে।

সামিটের আগে রুশ কর্মকর্তারা বিশেষ করে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পে অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেছিলেন, যা ইউরোপের বদলে চীনে রুশ গ্যাস সরবরাহ বাড়াবে।

অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের জোসেফ ওয়েবস্টার বলেন, ‘ইউক্রেনের আক্রমণে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মস্কো আরও পূর্বমুখী হয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বেইজিংয়ের জ্বালানি নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।’

তবে বৈঠকের দিনে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২’ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি। শি জিনপিং ও পুতিন বরং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সাধারণ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

চীনের কূটনৈতিক কৌশল ও শি জিনপিংয়ের অবস্থান
এই দুই শীর্ষ বৈঠকের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হতে পারেন শি জিনপিং নিজেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে এমন একজন বৈশ্বিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান, যিনি প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর সঙ্গেও সমানভাবে কাজ করতে পারেন।

একই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে পরপর রাষ্ট্রীয় সফরে আতিথ্য দেওয়া কোনো চীনা নেতার জন্য এটি ছিল বিরল ঘটনা।

এই সফরগুলো শি জিনপিংকে এমন একটি চিত্র তুলে ধরার সুযোগ দিয়েছে, চীন একদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ করছে, অন্যদিকে দুর্বল হয়ে পড়া রাশিয়ার জন্য লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে।

ট্রাম্পের সফরের সময় শি তাকে মনে করিয়ে দেন, রাশিয়া এখনো চীনের কৌশলগত মিত্র। কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমপাউন্ড ঝোংনানহাইয়ে ট্রাম্পকে আতিথ্য দেওয়ার সময় শি বলেন, সেখানে বিদেশি নেতাদের খুব কমই আমন্ত্রণ জানানো হয়। হাসতে হাসতে তিনি যোগ করেন, ‘উদাহরণস্বরূপ, পুতিন এখানে এসেছেন’।

পুতিনের সঙ্গে যৌথ বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক এখন ‘নতুন ধরনের বৃহৎ শক্তির সম্পর্কের আদর্শ উদাহরণ’।

ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধ: অনুপস্থিত সমাধান
দুই বৈঠকের কোনোটিতেই চলমান দুই যুদ্ধ ইউক্রেন ও ইরান সংকট নিয়ে কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি।

ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধ থামাতে চীনের দেওয়া একটি প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, শি জিনপিং নাকি ট্রাম্পকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে পুতিন ভবিষ্যতে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অনুশোচনা করতে পারেন। চীন ও ট্রাম্প প্রশাসন উভয়ই এই রিপোর্ট অস্বীকার করে।

শি জিনপিং ও পুতিন বরং একটি যৌথ বিবৃতিতে ইউক্রেন যুদ্ধের ‘মূল কারণসমূহ দূরীকরণের’ আহ্বান জানান, যা মূলত মস্কোর অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার ওপর চীনের গভীর অর্থনৈতিক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও, বেইজিং এখনো ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে কোনো সক্রিয় ভূমিকা নেয়নি। তারা সম্পর্ক বজায় রেখে এবং কিছু ক্ষেত্রে আরও সুবিধাজনক শর্ত নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি

একই অথচ ভিন্ন: ট্রাম্প ও পুতিনকে যেভাবে স্বাগত জানাল চীন

Update Time : 08:18:20 am, Thursday, 21 May 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: বেইজিংয়ে ‘দ্য গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের করমর্দন
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বেইজিংয়ে সামরিক ব্যান্ড, গার্ড অব অনার এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা হাতে শতাধিক তরুণ-তরুণীর উচ্ছ্বাসপূর্ণ স্বাগত জানানোর কয়েক দিনের মধ্যেই একই ধরনের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নিয়ে চীনে পৌঁছান ভ্লাদিমির পুতিন।

এই দুই সফরের অভ্যর্থনার দৃশ্যাবলি ছিল প্রায় হুবহু একরকম, যেন ইচ্ছাকৃতভাবে সাজানো হয়েছে যাতে দেখানো যায়, বেইজিং ওয়াশিংটন ও মস্কোর নেতাদের সমান মর্যাদায় গ্রহণ করতে সক্ষম।

তবে চীন পার্থক্যটাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। ট্রাম্পকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট, যিনি সাধারণত কমিউনিস্ট পার্টির প্রকৃত ক্ষমতার বাইরে একটি আনুষ্ঠানিক ভূমিকা পালন করেন।

অন্যদিকে পুতিনকে স্বাগত জানান পার্টির শীর্ষ নীতিনির্ধারণী সংস্থা পলিটব্যুরোর একজন বর্তমান সদস্য, যা ইঙ্গিত দেয়, মস্কোকে চীন একটি উদীয়মান পশ্চিমবিরোধী বিশ্বব্যবস্থার নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখে।
ক্রেমলিন এই তুলনাকে সংবেদনশীলভাবে গ্রহণ করেছে।

প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ দুই সফরের তুলনাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। রুশ প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভও জানান, পুতিন-শি জিনপিং বৈঠক ট্রাম্পের সফরের আগেই পরিকল্পিত ছিল।
Xi
গ্রেট হল অব দ্য পিপলের বাইরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনকে পৃথকভাবে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়
তবুও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বার্তাটি ছিল স্পষ্ট। রুশ সংবাদপত্র ‘আর্গুমেন্তি ই ফাক্তি’ লিখেছে, পুতিনকে বেইজিংয়ে ‘একজন মিত্র ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, আর ট্রাম্পকে দেখা হয়েছে ‘একজন প্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিযোগী হিসেবে, যার কাছ থেকে যেকোনো কিছুই আশা করা যায়।’

জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, কিন্তু সীমিত ফলাফল
দুই সফরেই আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন থাকলেও বাস্তব অর্জন ছিল সীমিত। ট্রাম্প ও শি জিনপিং সহযোগিতার চিত্র তুলে ধরলেও এনভিডিয়া চিপ রপ্তানি ও শুল্ক সংক্রান্ত বড় ইস্যুগুলোতে তেমন অগ্রগতি হয়নি।

মস্কোর জন্য পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পুতিন বেইজিংয়ে এমন এক সময়ে পৌঁছান, যখন তার দীর্ঘ শাসনের সবচেয়ে কঠিন সময় চলছে। যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার চাপে রাশিয়ার অর্থনীতি দুর্বল, আর ইউক্রেন যুদ্ধের মাঠেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সংকট দেশটিকে চীনের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল করে তুলছে, ফলে যে সম্পর্ককে ক্রেমলিন সমান অংশীদারিত্ব হিসেবে দেখাতে চায়, সেটি ধীরে ধীরে অসম সম্পর্ক হয়ে উঠছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা রাশিয়ার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে মস্কো নিজেকে এখন বেইজিংয়ের জন্য আরও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরছে।

সামিটের আগে রুশ কর্মকর্তারা বিশেষ করে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পে অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেছিলেন, যা ইউরোপের বদলে চীনে রুশ গ্যাস সরবরাহ বাড়াবে।

অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের জোসেফ ওয়েবস্টার বলেন, ‘ইউক্রেনের আক্রমণে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মস্কো আরও পূর্বমুখী হয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বেইজিংয়ের জ্বালানি নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।’

তবে বৈঠকের দিনে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২’ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি। শি জিনপিং ও পুতিন বরং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সাধারণ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

চীনের কূটনৈতিক কৌশল ও শি জিনপিংয়ের অবস্থান
এই দুই শীর্ষ বৈঠকের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হতে পারেন শি জিনপিং নিজেই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে এমন একজন বৈশ্বিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান, যিনি প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর সঙ্গেও সমানভাবে কাজ করতে পারেন।

একই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে পরপর রাষ্ট্রীয় সফরে আতিথ্য দেওয়া কোনো চীনা নেতার জন্য এটি ছিল বিরল ঘটনা।

এই সফরগুলো শি জিনপিংকে এমন একটি চিত্র তুলে ধরার সুযোগ দিয়েছে, চীন একদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে চ্যালেঞ্জ করছে, অন্যদিকে দুর্বল হয়ে পড়া রাশিয়ার জন্য লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে।

ট্রাম্পের সফরের সময় শি তাকে মনে করিয়ে দেন, রাশিয়া এখনো চীনের কৌশলগত মিত্র। কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমপাউন্ড ঝোংনানহাইয়ে ট্রাম্পকে আতিথ্য দেওয়ার সময় শি বলেন, সেখানে বিদেশি নেতাদের খুব কমই আমন্ত্রণ জানানো হয়। হাসতে হাসতে তিনি যোগ করেন, ‘উদাহরণস্বরূপ, পুতিন এখানে এসেছেন’।

পুতিনের সঙ্গে যৌথ বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, চীন-রাশিয়া সম্পর্ক এখন ‘নতুন ধরনের বৃহৎ শক্তির সম্পর্কের আদর্শ উদাহরণ’।

ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধ: অনুপস্থিত সমাধান
দুই বৈঠকের কোনোটিতেই চলমান দুই যুদ্ধ ইউক্রেন ও ইরান সংকট নিয়ে কোনো বড় অগ্রগতি হয়নি।

ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধ থামাতে চীনের দেওয়া একটি প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, শি জিনপিং নাকি ট্রাম্পকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে পুতিন ভবিষ্যতে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অনুশোচনা করতে পারেন। চীন ও ট্রাম্প প্রশাসন উভয়ই এই রিপোর্ট অস্বীকার করে।

শি জিনপিং ও পুতিন বরং একটি যৌথ বিবৃতিতে ইউক্রেন যুদ্ধের ‘মূল কারণসমূহ দূরীকরণের’ আহ্বান জানান, যা মূলত মস্কোর অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার ওপর চীনের গভীর অর্থনৈতিক প্রভাব থাকা সত্ত্বেও, বেইজিং এখনো ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে কোনো সক্রিয় ভূমিকা নেয়নি। তারা সম্পর্ক বজায় রেখে এবং কিছু ক্ষেত্রে আরও সুবিধাজনক শর্ত নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।