11:50 pm, Monday, 6 July 2026

কুলাউড়ার তরুণ উদ্যোক্তা ফুরুকের সফলতার গল্প

স্টাফ রিপোর্টার :: হাসান আল মাহমুদ রাজু- কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের গজভাগ গ্রামের এক তরুণ উদ্যোক্তা ইমরান হোসেন ফুরুক ব্রয়লার খামার ও কৃষি কাজে সফলতায় স্বাবলম্বী।
ইমরান হোসেন ফুরুক একজন বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর সদস্য। তিনি পৃথিমপাশা ইউনিয়নের গজভাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোট থেকে তার ইচ্ছা ছিল গরুর খামার করা। তাই ২০০০ সালে তিনি কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ও ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে সাইফ এন্ড সাদি পোল্ট্রি ফার্ম নামে একটি খামার তৈরি করেন। তিনি বিশেষ করে ২০২৩ সালে ফার্মে টাইগার মোরগ তুলে বেশ আলোচনায় আসেন। ব্রয়লার মোরগের পাশাপাশি ফার্মে কোয়েল পাখি ও লেবু বাগান, আম, কাঁঠাল সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করেন। তিনি নিজস্ব জমিতে এসকল ফসলাদি উৎপাদন করেন। তিনি উন্নত মানের নেট, পিলার, কাঠ ও টিন দিয়ে ১২ ফুট প্রস্থ ও ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে লম্বা ঘরে এক হাজার মোরগের বাচ্চা তুলেন এবং অন্য জায়গায় কোয়েল পাখি উৎপাদন করেন। লেবু বাগানে প্রায় শতাধিক লেবুর চারা রয়েছে। প্রতিটি গাছে অনেক পরিমাণে লেবু উৎপাদন হয়েছে। ফার্মে প্রায় দুই লক্ষ টাকার মূলধন রয়েছে।
৭ জুলাই সরেজিমন গিয়ে দেখা যায়, ফার্মে অনেক ব্রয়লার মোরগ রয়েছে। ব্রয়লার মোরগির বাইরেও লেবু, আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন রকমের সবজি রয়েছে। তিনি এই ফার্মটি আরো বড় করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। যাতে আরো বেশি করে মোরগ এবং কোয়েল পাখি উৎপাদন বাড়ানো যায় এবং গরু ও ছাগলের খামার করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি সরকারি চাকরির পাশাপাশি বাড়িতে এসে কৃষি কাজে লিপ্ত থাকেন। কৃষি কাজ করতে থাকতে ইমরান হোসেন অনেক ভালোবাসেন। ওই ফার্মে প্রতিদিন আব্দুল্লাহ নামের একজন শ্রমিক কাজ করেন।
এ বিষয়ে তরুণ উদ্যোক্তা ইমরান হোসেন ফুরুক বলেন, আমি একজন কৃষকের ছেলে। কৃষি কাজকে আমি ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকে বাবার সাথে কৃষি কাজে লিপ্ত ছিলাম। সে থেকে একটি স্বপ্ন ছিল আমার বড় হয়ে আমি একটি গরুর খামার তৈরি করব। পড়ালেখা করে বাংলাদেশ আনসার বাহিনীতে আমার চাকুরি হয়। এর সাথে আমি আমার নিজ বাড়িতে ব্রয়লার মুরগির খামার গড়ে তুলি। আমার এই স্বপ্ন পূরণে এই প্রথম যাত্রা শুরু করে ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে আমার ফার্মে অনেক ক্ষতি হয়। তখন বেশ লাভবান হতে পারি নাই। বর্তমানে কিছুটা স্বাবলম্বী হয়েছি। আমার এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। আমি চাই আমার এই উদ্যোগ দেখে গ্রামের বেকার যুবক ভাইয়েরা যেন আমার মতো কৃষি কাজে লিপ্ত হয়ে এরকম উদ্যোগ গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হয়। কারোর উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের মতো স্বাধীন পেশা বাছাই করে জীবন ধারণ করতে পারে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

মৌলভীবাজার জেলা তথ্য অফিসার আনোয়ার হোসেন উপপরিচালক পদে পদোন্নতি

কুলাউড়ার তরুণ উদ্যোক্তা ফুরুকের সফলতার গল্প

Update Time : 12:18:31 pm, Sunday, 7 July 2024

স্টাফ রিপোর্টার :: হাসান আল মাহমুদ রাজু- কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের গজভাগ গ্রামের এক তরুণ উদ্যোক্তা ইমরান হোসেন ফুরুক ব্রয়লার খামার ও কৃষি কাজে সফলতায় স্বাবলম্বী।
ইমরান হোসেন ফুরুক একজন বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর সদস্য। তিনি পৃথিমপাশা ইউনিয়নের গজভাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোট থেকে তার ইচ্ছা ছিল গরুর খামার করা। তাই ২০০০ সালে তিনি কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ও ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে সাইফ এন্ড সাদি পোল্ট্রি ফার্ম নামে একটি খামার তৈরি করেন। তিনি বিশেষ করে ২০২৩ সালে ফার্মে টাইগার মোরগ তুলে বেশ আলোচনায় আসেন। ব্রয়লার মোরগের পাশাপাশি ফার্মে কোয়েল পাখি ও লেবু বাগান, আম, কাঁঠাল সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করেন। তিনি নিজস্ব জমিতে এসকল ফসলাদি উৎপাদন করেন। তিনি উন্নত মানের নেট, পিলার, কাঠ ও টিন দিয়ে ১২ ফুট প্রস্থ ও ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে লম্বা ঘরে এক হাজার মোরগের বাচ্চা তুলেন এবং অন্য জায়গায় কোয়েল পাখি উৎপাদন করেন। লেবু বাগানে প্রায় শতাধিক লেবুর চারা রয়েছে। প্রতিটি গাছে অনেক পরিমাণে লেবু উৎপাদন হয়েছে। ফার্মে প্রায় দুই লক্ষ টাকার মূলধন রয়েছে।
৭ জুলাই সরেজিমন গিয়ে দেখা যায়, ফার্মে অনেক ব্রয়লার মোরগ রয়েছে। ব্রয়লার মোরগির বাইরেও লেবু, আম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন রকমের সবজি রয়েছে। তিনি এই ফার্মটি আরো বড় করার উদ্যোগ নিচ্ছেন। যাতে আরো বেশি করে মোরগ এবং কোয়েল পাখি উৎপাদন বাড়ানো যায় এবং গরু ও ছাগলের খামার করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি সরকারি চাকরির পাশাপাশি বাড়িতে এসে কৃষি কাজে লিপ্ত থাকেন। কৃষি কাজ করতে থাকতে ইমরান হোসেন অনেক ভালোবাসেন। ওই ফার্মে প্রতিদিন আব্দুল্লাহ নামের একজন শ্রমিক কাজ করেন।
এ বিষয়ে তরুণ উদ্যোক্তা ইমরান হোসেন ফুরুক বলেন, আমি একজন কৃষকের ছেলে। কৃষি কাজকে আমি ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকে বাবার সাথে কৃষি কাজে লিপ্ত ছিলাম। সে থেকে একটি স্বপ্ন ছিল আমার বড় হয়ে আমি একটি গরুর খামার তৈরি করব। পড়ালেখা করে বাংলাদেশ আনসার বাহিনীতে আমার চাকুরি হয়। এর সাথে আমি আমার নিজ বাড়িতে ব্রয়লার মুরগির খামার গড়ে তুলি। আমার এই স্বপ্ন পূরণে এই প্রথম যাত্রা শুরু করে ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে আমার ফার্মে অনেক ক্ষতি হয়। তখন বেশ লাভবান হতে পারি নাই। বর্তমানে কিছুটা স্বাবলম্বী হয়েছি। আমার এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। আমি চাই আমার এই উদ্যোগ দেখে গ্রামের বেকার যুবক ভাইয়েরা যেন আমার মতো কৃষি কাজে লিপ্ত হয়ে এরকম উদ্যোগ গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হয়। কারোর উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের মতো স্বাধীন পেশা বাছাই করে জীবন ধারণ করতে পারে।