10:30 am, Wednesday, 22 April 2026

কুলাউড়ায় বিজিবি কর্তৃক মিথ্যা মামলা দিয়ে ব্যবসায়ী সুহেলকে আটকের প্রতিবাদে মানববন্ধন

কুলাউড়া প্রতিনিধিঃ কুলাউড়া রবিরবাজারের ব্যবসায়ী সুহেল আহমেদকে কুলাউড়ার আলীনগর বিজিবি ক্যাম্প কর্তৃক ষড়যন্ত্র মূলক মামলা দিয়ে আটকের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। গত ২৫ ফেব্রæয়ারি বিকেলে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ঝিলেরপার বাস ষ্ট্যান্ড এলাকায় ভূক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী উদ্যোগে উক্ত মানববন্ধনে ব্যবসায়ী এবং মেকানিক্স সুহেল আহমদকে ষড়যন্ত্র ও হয়রানী মূলক মামলায় আটকের অভিযোগ করেন।
এ নিয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষর সম্বলিত একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসী।
মানববন্ধন ও স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, ধলিয়া গ্রামের আব্বাছ আলীর পুত্র সুহেল আহমদ (৩৪) স্থানীয় রবিরবাজারের সাইকেল মেকানিক্স ও ব্যবসায়ী। গত ১৬ ফেব্রæয়ারি সকাল ৭ ঘটিকায় আলীনগর বিজিবি ক্যাম্পের একটি টহল দল ভারতীয় অবৈধ মালামাল থাকার অভিযোগে ধলিয়াস্থ সুহেলের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান করে। এ সময় হৈ হুলুড় শুরু হলে সুহেল আহমদ ও তার পরিবারের সাথে বিজিবি নায়েক মহরম খাঁন ও সিপাহীদের সাথে তর্কা-তর্কি শুরু হয়। এ সময় সুহেল আহমেদ তাদের বাড়িতে অবৈধ মালামাল নেই বলে দাবী করিলেও বিজিবি সদস্যরা তা মানতে নারাজ ছিলেন। এ ঘটনায় সুহেলকে আলীনগর ক্যাম্পে নিয়ে যায় বিজিবি সদস্যরা। পবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য কবির আহমদ ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্বাছ আলীর মাধ্যমে বিষটি সমাধান হয়নি বলে মানব বন্ধনে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা।
এ দিকে সুহেল আহমদকে আটক দেখিয়ে ৯৫ পিছ ইয়াবা ও ৭ হাজার পিছ ভারতীয় নাসির বিড়ি সহ কুলাউড়া থানায় গত ১৬ ফেব্রæয়ারি হস্তান্তর করে বিজিবি। এ সময় ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ বি এবং মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ ৩৬/১, ১০ (ক) ৪১ ধারায় মামলা দায়ের করে আলীনগর ক্যাম্পের নায়েব মহরম খান (নং-৬০৮৭৪)।

সীমান্তবর্তী এলাকায় সুহেল সহ নিরীহ মানুষের হয়রানী বন্ধকরণ এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদ জানিয়ে মানবন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আব্বাছ আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা উসমান আলী, আলী হাসিব খান, মনাই মিয়া, মাসিদ আলী, জামাল মিয়া, সুরুজ আলী, উসমান আলী, সেলিম মিয়া, জুবের আহমদ, নজরুল ইসলাম, শেখ নুরুল ইসলাম, ফয়জুল হক, জামাল মিয়াসহ এলাকার শতাধিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সুহেল আহমদের পিতা আব্বাছ আলী, বলেন আমার ছেলে সুহেলকে হয়রানি মূলকভাবে ভুল তথ্য দিয়ে ফাসানো হয়েছে। সে অবৈধ কোন ব্যবসার সাথে জড়িত নয়। আমরা দীর্ঘদিন থেকে রবিরবাজারে ব্যবসা বানিজ্য করে আসছি। আমি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার সহ বিজিবি কর্তৃক হয়রানী বন্ধের জোর দাবী জানাচ্ছি।

আলীনগর ক্যাম্পের নায়েব মোঃ মহরম খান মুঠোফোনে বলেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধ মালামাল সহ সুহেলকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছি। এলাকাবাসী কর্তৃক সুহেল নিরীহ ও ফাসানো হয়েছে বলে স্মারকলিপি ও মানব বন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেন এগুলো মিথ্যা। মাদকের বিষয়ে আমরা জিরো টরারেন্স বিশ্বাসী।

কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায় জানান বিজি কর্তৃক মালামাল সহ একজন আসামীকে থানায় হস্তান্তর করলে আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গলের অধিনায়ক ল্যাঃ কর্ণেল মিজানুর রহমান সিকদার শুক্রবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন। মাদকের বিষয়ে বিজিবি জিরো ট্রলারেন্সে নীতিতে বিশ্বাসী। অযতা কাউকে হয়রানী যদি করা হয় সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

কুলাউড়ায় বিজিবি কর্তৃক মিথ্যা মামলা দিয়ে ব্যবসায়ী সুহেলকে আটকের প্রতিবাদে মানববন্ধন

Update Time : 06:27:44 pm, Friday, 25 February 2022

কুলাউড়া প্রতিনিধিঃ কুলাউড়া রবিরবাজারের ব্যবসায়ী সুহেল আহমেদকে কুলাউড়ার আলীনগর বিজিবি ক্যাম্প কর্তৃক ষড়যন্ত্র মূলক মামলা দিয়ে আটকের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। গত ২৫ ফেব্রæয়ারি বিকেলে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ঝিলেরপার বাস ষ্ট্যান্ড এলাকায় ভূক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী উদ্যোগে উক্ত মানববন্ধনে ব্যবসায়ী এবং মেকানিক্স সুহেল আহমদকে ষড়যন্ত্র ও হয়রানী মূলক মামলায় আটকের অভিযোগ করেন।
এ নিয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তির স্বাক্ষর সম্বলিত একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেছে এলাকাবাসী।
মানববন্ধন ও স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, ধলিয়া গ্রামের আব্বাছ আলীর পুত্র সুহেল আহমদ (৩৪) স্থানীয় রবিরবাজারের সাইকেল মেকানিক্স ও ব্যবসায়ী। গত ১৬ ফেব্রæয়ারি সকাল ৭ ঘটিকায় আলীনগর বিজিবি ক্যাম্পের একটি টহল দল ভারতীয় অবৈধ মালামাল থাকার অভিযোগে ধলিয়াস্থ সুহেলের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান করে। এ সময় হৈ হুলুড় শুরু হলে সুহেল আহমদ ও তার পরিবারের সাথে বিজিবি নায়েক মহরম খাঁন ও সিপাহীদের সাথে তর্কা-তর্কি শুরু হয়। এ সময় সুহেল আহমেদ তাদের বাড়িতে অবৈধ মালামাল নেই বলে দাবী করিলেও বিজিবি সদস্যরা তা মানতে নারাজ ছিলেন। এ ঘটনায় সুহেলকে আলীনগর ক্যাম্পে নিয়ে যায় বিজিবি সদস্যরা। পবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য কবির আহমদ ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্বাছ আলীর মাধ্যমে বিষটি সমাধান হয়নি বলে মানব বন্ধনে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা।
এ দিকে সুহেল আহমদকে আটক দেখিয়ে ৯৫ পিছ ইয়াবা ও ৭ হাজার পিছ ভারতীয় নাসির বিড়ি সহ কুলাউড়া থানায় গত ১৬ ফেব্রæয়ারি হস্তান্তর করে বিজিবি। এ সময় ১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ বি এবং মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ ৩৬/১, ১০ (ক) ৪১ ধারায় মামলা দায়ের করে আলীনগর ক্যাম্পের নায়েব মহরম খান (নং-৬০৮৭৪)।

সীমান্তবর্তী এলাকায় সুহেল সহ নিরীহ মানুষের হয়রানী বন্ধকরণ এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদ জানিয়ে মানবন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আব্বাছ আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা উসমান আলী, আলী হাসিব খান, মনাই মিয়া, মাসিদ আলী, জামাল মিয়া, সুরুজ আলী, উসমান আলী, সেলিম মিয়া, জুবের আহমদ, নজরুল ইসলাম, শেখ নুরুল ইসলাম, ফয়জুল হক, জামাল মিয়াসহ এলাকার শতাধিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সুহেল আহমদের পিতা আব্বাছ আলী, বলেন আমার ছেলে সুহেলকে হয়রানি মূলকভাবে ভুল তথ্য দিয়ে ফাসানো হয়েছে। সে অবৈধ কোন ব্যবসার সাথে জড়িত নয়। আমরা দীর্ঘদিন থেকে রবিরবাজারে ব্যবসা বানিজ্য করে আসছি। আমি মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার সহ বিজিবি কর্তৃক হয়রানী বন্ধের জোর দাবী জানাচ্ছি।

আলীনগর ক্যাম্পের নায়েব মোঃ মহরম খান মুঠোফোনে বলেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবৈধ মালামাল সহ সুহেলকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছি। এলাকাবাসী কর্তৃক সুহেল নিরীহ ও ফাসানো হয়েছে বলে স্মারকলিপি ও মানব বন্ধনের বিষয়ে তিনি বলেন এগুলো মিথ্যা। মাদকের বিষয়ে আমরা জিরো টরারেন্স বিশ্বাসী।

কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায় জানান বিজি কর্তৃক মালামাল সহ একজন আসামীকে থানায় হস্তান্তর করলে আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে ৪৬ বিজিবি শ্রীমঙ্গলের অধিনায়ক ল্যাঃ কর্ণেল মিজানুর রহমান সিকদার শুক্রবার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে বলেন। মাদকের বিষয়ে বিজিবি জিরো ট্রলারেন্সে নীতিতে বিশ্বাসী। অযতা কাউকে হয়রানী যদি করা হয় সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।