4:17 am, Friday, 17 July 2026

ক্ষুধার্ত লেখক লেখিকা গ্রুপের তৃতীয় পর্বের গল্প প্রতিযোগিতার প্রথম স্থান পাওয়া গল্প “ছবি” – সাদাত হোসাইন

রিনি জল ঢালছে গ্লাসে।
আমি বলি, ‘আর ঢেলো না, উপচে পড়বে’।
বলা শেষ হতে না হতেই গ্লাস উপচে পড়ে জল। মাখামাখি হয় চারধার। সে বিব্রত ভঙ্গিতে হাসে, ‘গ্লাসের তুলনায় জগের মুখটা বোধহয় বেশিই বড়!’
আমি তাকাই, আসলেই তাই। গ্লাসে যতটা জল ধরবার কথা, তার তুলনায় জগের মুখটা বাড়াবাড়ি রকম বড়। তাই জগ খানিক কাঁত করতেই গ্লাস উপচে জলের লুটোপুটি হয়। হঠাৎ তোড়ে আছড়ে পড়ে গ্লাস। টুকরো কাচ ছড়ায় মাটিতে।
আরেক দিনের কথা।
লম্বা সরু নলের জগ। রিনি জল ঢালছে বহুদিনের পুরনো এক মগে। বেঢপ সাইজের বিশাল মগ। কিন্তু মগটা কিছুতেই ভরছে না। আমি অবাক তাকিয়ে দেখি মগের তলায় বিশাল ছিদ্র! লম্বা জগের সরু নলে জল ঢালতেই ঝরে যাচ্ছে সব। রিনি হতাশ চোখে তাকিয়ে থাকে।
আমি হাসি।
রিনি আচমকা গম্ভীর হয়ে যায়। বলে, ‘এই খেলাটা কীসের মতন জানো?
‘না।’
‘ভালোবাসার মতন।’ মৃদু কণ্ঠে তার।।
আমি অবাক গলায় জানতে চাই, ‘মানে?’
রিনি ধীর পায়ে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। বাইরে অন্ধকার আকাশ। সে সেই আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘দু’জন মানুষ যখন ভালোবাসে, তখন তাদের অনুভব বেশিরভাগ সময়ই এমন। কখনও কখনও একজন যা দেয়, অন্যজন তা ধারণ করতে পারে না। ফলে সব উপচে পড়ে। একসময় আছড়ে পড়ে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় সবকিছু।
আমার কী হলো জানি না, চোখ নামিয়ে পায়ের নখ দেখতে থাকি আমি।
রিনি আমার কাছে এসে শীতল গলায় বলে, ‘আবার একজন যা চায়, যতটা শুষে নিতে পারে, অন্যজনের সাধ্য নেই তা দেয়ার। তখন পাত্রটা ক্রমাগত শূন্যই থাকে। কিংবা, হয়তো অন্যজনের ভেতর এই মগটার মতন গভীর কিছু ফাঁকিও থাকে, লুকানো। সে তা কখনোই দেখতে পায় না।’
আমি কথা বলি না। দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকি। সেখানে রিনির আর আমার ছবিটা ঝুলছে। জগতের সব ভালোবাসা, মুগ্ধতা আর আনন্দ যেন জমেছিল ওই ছবিতে।
কিন্তু ছবিটা এখন পুরনো। ঝাপসা। বিবর্ণ!

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

স্বাস্থ্যখাতের আমূল পরিবর্তনে ই-হেলথ কার্ড বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ক্ষুধার্ত লেখক লেখিকা গ্রুপের তৃতীয় পর্বের গল্প প্রতিযোগিতার প্রথম স্থান পাওয়া গল্প “ছবি” – সাদাত হোসাইন

Update Time : 09:59:35 am, Friday, 5 August 2022

রিনি জল ঢালছে গ্লাসে।
আমি বলি, ‘আর ঢেলো না, উপচে পড়বে’।
বলা শেষ হতে না হতেই গ্লাস উপচে পড়ে জল। মাখামাখি হয় চারধার। সে বিব্রত ভঙ্গিতে হাসে, ‘গ্লাসের তুলনায় জগের মুখটা বোধহয় বেশিই বড়!’
আমি তাকাই, আসলেই তাই। গ্লাসে যতটা জল ধরবার কথা, তার তুলনায় জগের মুখটা বাড়াবাড়ি রকম বড়। তাই জগ খানিক কাঁত করতেই গ্লাস উপচে জলের লুটোপুটি হয়। হঠাৎ তোড়ে আছড়ে পড়ে গ্লাস। টুকরো কাচ ছড়ায় মাটিতে।
আরেক দিনের কথা।
লম্বা সরু নলের জগ। রিনি জল ঢালছে বহুদিনের পুরনো এক মগে। বেঢপ সাইজের বিশাল মগ। কিন্তু মগটা কিছুতেই ভরছে না। আমি অবাক তাকিয়ে দেখি মগের তলায় বিশাল ছিদ্র! লম্বা জগের সরু নলে জল ঢালতেই ঝরে যাচ্ছে সব। রিনি হতাশ চোখে তাকিয়ে থাকে।
আমি হাসি।
রিনি আচমকা গম্ভীর হয়ে যায়। বলে, ‘এই খেলাটা কীসের মতন জানো?
‘না।’
‘ভালোবাসার মতন।’ মৃদু কণ্ঠে তার।।
আমি অবাক গলায় জানতে চাই, ‘মানে?’
রিনি ধীর পায়ে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। বাইরে অন্ধকার আকাশ। সে সেই আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘দু’জন মানুষ যখন ভালোবাসে, তখন তাদের অনুভব বেশিরভাগ সময়ই এমন। কখনও কখনও একজন যা দেয়, অন্যজন তা ধারণ করতে পারে না। ফলে সব উপচে পড়ে। একসময় আছড়ে পড়ে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় সবকিছু।
আমার কী হলো জানি না, চোখ নামিয়ে পায়ের নখ দেখতে থাকি আমি।
রিনি আমার কাছে এসে শীতল গলায় বলে, ‘আবার একজন যা চায়, যতটা শুষে নিতে পারে, অন্যজনের সাধ্য নেই তা দেয়ার। তখন পাত্রটা ক্রমাগত শূন্যই থাকে। কিংবা, হয়তো অন্যজনের ভেতর এই মগটার মতন গভীর কিছু ফাঁকিও থাকে, লুকানো। সে তা কখনোই দেখতে পায় না।’
আমি কথা বলি না। দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকি। সেখানে রিনির আর আমার ছবিটা ঝুলছে। জগতের সব ভালোবাসা, মুগ্ধতা আর আনন্দ যেন জমেছিল ওই ছবিতে।
কিন্তু ছবিটা এখন পুরনো। ঝাপসা। বিবর্ণ!