11:11 am, Friday, 4 September 2026

চার জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে বিনিয়োগের নামে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


ডেস্ক রিপোর্ট: কুড়িগ্রামে আকর্ষণীয় মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১৫০ জন গ্রাহকের ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর চার নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগীরা। আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ‘ভুক্তভোগী মজলুম পরিবার’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে জামায়াতে ইসলামীর কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম, রোকন আবদুস সালাম এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সদস্য রফিকুল ইসলাম যৌথভাবে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। সুদমুক্ত ও শরিয়াহসম্মত ব্যবসার কথা বলে তারা স্থানীয় প্রায় ১৫০ জনের কাছ থেকে মোট ১২ কোটি টাকা আমানত হিসেবে সংগ্রহ করেন। চুক্তি অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের প্রতি লাখে এক হাজার টাকা করে নিয়মিত মুনাফা দেওয়া হলেও ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে তা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ওই বছরের ১৬ নভেম্বর অভিযুক্তরা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং গ্রাহকদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হওয়া ভোগডাঙ্গা এলাকার স্কুলশিক্ষক মোহফুজুল হক জানান, ২০২২ সালে রফিকুল ইসলাম ও শাহজালাল সবুজের উপস্থিতিতে বিভিন্ন কোম্পানির লাভজনক ডিলারশিপের কথা শুনে তিনি সাড়ে ৯ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত লভ্যাংশ পেলেও এরপর প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় বন্ধ পান। একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে চর যাত্রাপুরের বাসিন্দা মোছলেমা বেগম বলেন, ‘সুদমুক্ত হালাল ব্যবসার কথা বলে ১০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন জামায়াতের কয়েকজন নেতা-কর্মী। অবসর ও এনজিও থেকে ঋণ করে টাকা দিয়েছিলাম। দুই বছর ধরে মুনাফা তো দূরের কথা, টাকাও ফেরত পাচ্ছি না।’

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে শাহজালাল সবুজ দাবি করেন, ভিশন এন্টারপ্রাইজ মূলত রাজারহাট উপজেলার রফিকুল ইসলামের নিজস্ব ব্যবসা এবং তাকে ফাঁসাতে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। অন্যদিকে রফিকুল ইসলাম জানান, চারজন অংশীদারের আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসার যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আরও দুজন যুক্ত হন; অর্থাৎ মোট ছয়জন পরিচালকই ব্যবসার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রফিকুল ইসলামকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং শাহজালাল সবুজের রোকন পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে অপর দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাওনা টাকা আদায়ে যেকোনো ন্যায়সংগত ও আইনগত উদ্যোগে সংগঠন পাশে থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

প্রবীনআইনজীবী, বর্ষীয়ান সাংবাদিক কলামিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান মুজিব দূর্নীতি দমন কমিশন দুদকের পিপি নিযুক্তঃ বিভিন্ন মহলের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন

চার জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে বিনিয়োগের নামে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Update Time : 01:27:09 pm, Thursday, 3 September 2026


ডেস্ক রিপোর্ট: কুড়িগ্রামে আকর্ষণীয় মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১৫০ জন গ্রাহকের ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর চার নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগীরা। আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ‘ভুক্তভোগী মজলুম পরিবার’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশ থেকে আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে জামায়াতে ইসলামীর কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম, রোকন আবদুস সালাম এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সদস্য রফিকুল ইসলাম যৌথভাবে ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। সুদমুক্ত ও শরিয়াহসম্মত ব্যবসার কথা বলে তারা স্থানীয় প্রায় ১৫০ জনের কাছ থেকে মোট ১২ কোটি টাকা আমানত হিসেবে সংগ্রহ করেন। চুক্তি অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের প্রতি লাখে এক হাজার টাকা করে নিয়মিত মুনাফা দেওয়া হলেও ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে তা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ওই বছরের ১৬ নভেম্বর অভিযুক্তরা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং গ্রাহকদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হওয়া ভোগডাঙ্গা এলাকার স্কুলশিক্ষক মোহফুজুল হক জানান, ২০২২ সালে রফিকুল ইসলাম ও শাহজালাল সবুজের উপস্থিতিতে বিভিন্ন কোম্পানির লাভজনক ডিলারশিপের কথা শুনে তিনি সাড়ে ৯ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত লভ্যাংশ পেলেও এরপর প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় বন্ধ পান। একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে চর যাত্রাপুরের বাসিন্দা মোছলেমা বেগম বলেন, ‘সুদমুক্ত হালাল ব্যবসার কথা বলে ১০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন জামায়াতের কয়েকজন নেতা-কর্মী। অবসর ও এনজিও থেকে ঋণ করে টাকা দিয়েছিলাম। দুই বছর ধরে মুনাফা তো দূরের কথা, টাকাও ফেরত পাচ্ছি না।’

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে শাহজালাল সবুজ দাবি করেন, ভিশন এন্টারপ্রাইজ মূলত রাজারহাট উপজেলার রফিকুল ইসলামের নিজস্ব ব্যবসা এবং তাকে ফাঁসাতে ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। অন্যদিকে রফিকুল ইসলাম জানান, চারজন অংশীদারের আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে ব্যবসার যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আরও দুজন যুক্ত হন; অর্থাৎ মোট ছয়জন পরিচালকই ব্যবসার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রফিকুল ইসলামকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং শাহজালাল সবুজের রোকন পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে অপর দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাওনা টাকা আদায়ে যেকোনো ন্যায়সংগত ও আইনগত উদ্যোগে সংগঠন পাশে থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।