11:34 pm, Friday, 22 May 2026

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৮৮ জনের চাকরি বহালের রায়

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা: ২০০৩ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ৯৮৮ জনের চাকরিতে পুনর্বহালের রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। যাদের আদালতের রায়ে চাকরিচ্যুত করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৭ মে) প্রধান বিচারপতির সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মো. আসাদুজ্জামান ও রুহুল কুদ্দুস কাজল।
পরে আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন বলেন, ৯৮৮ জনের চাকরিচ্যুতি একটি বড় ঘটনা। যেটা সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে হয়েছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজে রিভিউ করে। সেটির শুনানি শেষে আজকে রায় ঘোষিত হয়েছে। আজকের রায়ের ফলে তাদের চাকরিতে বহাল হতে আর বাধা নেই।
রায় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের কাছে পাঠাবো। সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেবে কত তারিখ থেকে তাদের পুনর্বহাল করবে। চাকরিচ্যুতি থেকে পুনর্বহাল পর্যন্ত সময়টাকে অসাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করেছেন আদালত। তাদের জ্যেষ্ঠতা কোনোভাবে অ্যাফেক্টেড হবে না। সিনিয়রিটির ধারাবাহিকতা থাকবে। তাদের মধ্যে অনেকে মারা গেছে। এখন সবার বেনিফিটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নেবেন। এখন যারা জীবিত আছেন তাদের মধ্যে যারা ফিরতে চান তাদের চাকরিতে ফিরতে বাধা নেই।
তিনি আরও বলেন, সীমাহীন অবিচারের পর আজ যে একটা ন্যায়বিচার পেলাম সেটার জন্য ৫ আগস্ট পর্যন্ত শহীদ হয়েছেন সবার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে জান্নাতের প্রার্থনা করি। যারা আহত তাদের সুস্থতা কামনা করি। কারণ ৫ আগস্ট না হলে এ রিভিউ করতে পারতাম না।
আইনজীবীরা জানান, ২০০৩ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়োগ বাতিলের জন্য সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া ২০০৪ সালে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। ২০০৬ সালের ২২ আগস্ট সেই রিটের রুল খারিজ করে দেন। নির্ধারিত সময়ে এ বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা রিভিউ করেনি। ২০১০ সালে মামলার পক্ষ না হয়েও রিভিউ করেন তৎকালীন আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক। ২০১১ সালের ২৩ আগস্ট ২০০৩ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়োগ বাতিলের জন্য রায় দেন বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী (মানিক) ও বিচারপতি গোন্দি চন্দ্র ঠাকুর।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর লিভ টু আপিল করা হয়। আপিল বিভাগ বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর রায় বাতিল করে ২০০৪ সালে ফজলে রাব্বী মিয়ার রিটে জারি করা রুল পুনরায় নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। পুনরায় শুনানি শেষে ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট নয়টি নির্দেশনা দিয়ে রুল যথাযথ ঘোষণা করেন। ওই নির্দেশনার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৯৮৮ জনের চাকরি অবসান করে। ২০১২ সালে ওই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে সংক্ষুব্ধরা। ২০১৬ সালে আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করেন। ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৪ সেপ্টেম্বর রিভিউ আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই রিভিউয়ের শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৮৮ জনের চাকরি বহালের রায়

Update Time : 11:11:32 am, Tuesday, 27 May 2025

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা: ২০০৩ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ৯৮৮ জনের চাকরিতে পুনর্বহালের রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। যাদের আদালতের রায়ে চাকরিচ্যুত করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৭ মে) প্রধান বিচারপতির সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মো. আসাদুজ্জামান ও রুহুল কুদ্দুস কাজল।
পরে আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন বলেন, ৯৮৮ জনের চাকরিচ্যুতি একটি বড় ঘটনা। যেটা সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে হয়েছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজে রিভিউ করে। সেটির শুনানি শেষে আজকে রায় ঘোষিত হয়েছে। আজকের রায়ের ফলে তাদের চাকরিতে বহাল হতে আর বাধা নেই।
রায় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের কাছে পাঠাবো। সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেবে কত তারিখ থেকে তাদের পুনর্বহাল করবে। চাকরিচ্যুতি থেকে পুনর্বহাল পর্যন্ত সময়টাকে অসাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য করেছেন আদালত। তাদের জ্যেষ্ঠতা কোনোভাবে অ্যাফেক্টেড হবে না। সিনিয়রিটির ধারাবাহিকতা থাকবে। তাদের মধ্যে অনেকে মারা গেছে। এখন সবার বেনিফিটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্ত নেবেন। এখন যারা জীবিত আছেন তাদের মধ্যে যারা ফিরতে চান তাদের চাকরিতে ফিরতে বাধা নেই।
তিনি আরও বলেন, সীমাহীন অবিচারের পর আজ যে একটা ন্যায়বিচার পেলাম সেটার জন্য ৫ আগস্ট পর্যন্ত শহীদ হয়েছেন সবার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে জান্নাতের প্রার্থনা করি। যারা আহত তাদের সুস্থতা কামনা করি। কারণ ৫ আগস্ট না হলে এ রিভিউ করতে পারতাম না।
আইনজীবীরা জানান, ২০০৩ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়োগ বাতিলের জন্য সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া ২০০৪ সালে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। ২০০৬ সালের ২২ আগস্ট সেই রিটের রুল খারিজ করে দেন। নির্ধারিত সময়ে এ বিরুদ্ধে কোনো আপিল বা রিভিউ করেনি। ২০১০ সালে মামলার পক্ষ না হয়েও রিভিউ করেন তৎকালীন আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক। ২০১১ সালের ২৩ আগস্ট ২০০৩ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়োগ বাতিলের জন্য রায় দেন বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী (মানিক) ও বিচারপতি গোন্দি চন্দ্র ঠাকুর।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর লিভ টু আপিল করা হয়। আপিল বিভাগ বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরীর রায় বাতিল করে ২০০৪ সালে ফজলে রাব্বী মিয়ার রিটে জারি করা রুল পুনরায় নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। পুনরায় শুনানি শেষে ২০১২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট নয়টি নির্দেশনা দিয়ে রুল যথাযথ ঘোষণা করেন। ওই নির্দেশনার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৯৮৮ জনের চাকরি অবসান করে। ২০১২ সালে ওই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে সংক্ষুব্ধরা। ২০১৬ সালে আপিল বিভাগ লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করেন। ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৪ সেপ্টেম্বর রিভিউ আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই রিভিউয়ের শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হয়।