11:13 pm, Friday, 6 November 2026

প্রাণনাশের শঙ্কায় নিরাপত্তা চেয়েছেন ইমরান খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রাণে মেরে ফেলা হতে পারে বলে আরো একবার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খান। নিরাপত্তা বাড়ানোর আরজি জানিয়ে চিঠিও দিয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বন্দিয়ালকে। ৯ মার্চ তোষাখানা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ইমরানকে আদালতে হাজির করানো হতে পারে। ওই দিন ইমরানের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা করছে তার দল। সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি প্রথম সারির দৈনিকে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।

প্রধান বিচারপতিকে লেখা চিঠিতে ইমরান জানিয়েছেন, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরই প্রাণে মেরে ফেলার চক্রান্ত শুরু হয়েছে। এই কাজের জন্য তিনি দায়ী করেছেন পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। কয়েক মাস আগেই আচমকা হামলায় পায়ে গুলি লাগে ইমরানের। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ইমরানের দাবি, তাকে আবারও মেরে ফেলার জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ইমরান ওই চিঠিতে এ-ও জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার বিরুদ্ধে ৭৪টি মামলা রুজু করেছে পাক সরকার। তাই জীবনের অধিকারের মতো মৌলিক অধিকারকে সুরক্ষিত রাখতেই তার নিরাপত্তা প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন তিনি।

এদিকে গত রবিবার সকালে ইমরান খানকে পুলিশের গ্রেপ্তার করতে যাওয়ার খবর রটে যায়। শোনা যায় ইসলামাবাদ এবং করাচি থেকে পুলিশ যাচ্ছে লাহোরে। ইমরানের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। ইমরান যে বাড়িতেই রয়েছেন, সে তথ্য পুলিশের কাছে ছিল কি না তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি ইমরানের সমর্থকরা। তবে পুলিশ আসছে শুনেই লাহোরে ইমরানের জামান পার্কের বাড়িটিকে ঘিরে ফেলেন তার সমর্থকরা। দুপুরে সেখানেই যায় পুলিশ। সমর্থকদের ভিড় এড়িয়ে বাড়ির ভেতরেও ঢোকে তারা। কিন্তু সেখানে ইমরানকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। গোটা বাড়ি খুঁজে পুলিশ বলে, ‘পুলিশ সুপার ইমরানের ঘরে গিয়েছিলেন। পুলিশের বড় দল এসেছিল তাকে গ্রেপ্তার করতে। কিন্তু ইমরান সেখানে ছিলেন না।’

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে পাওয়া উপহার সরকারি ভাণ্ডার বা তোষাখানায় জমা না দিয়ে, মোটা দামে বিক্রি করার অভিযোগ ছিল ইমরানের বিরুদ্ধে। এ জন্যই পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ইমরানের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত অক্টোবরে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন ইমরান। পরে তা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার একাধিক শুনানিতে উপস্থিত হননি তিনি। সেই অভিযোগেই ইমরানকে গ্রেপ্তার করতে রবিবার ইসলামাবাদ থেকে লাহোরে ইমরানের জামান পার্কের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। এই মামলায় আপাতত আগাম জামিন নিয়ে রাখা ইমরান ৯ মার্চ আদালতে হাজিরা দিতে পারেন বলে পিটিআই সূত্রে খবর।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

সাংবাদিক এহসানুল হকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

প্রাণনাশের শঙ্কায় নিরাপত্তা চেয়েছেন ইমরান খান

Update Time : 03:12:45 pm, Monday, 6 March 2023

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রাণে মেরে ফেলা হতে পারে বলে আরো একবার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খান। নিরাপত্তা বাড়ানোর আরজি জানিয়ে চিঠিও দিয়েছেন দেশের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বন্দিয়ালকে। ৯ মার্চ তোষাখানা মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ইমরানকে আদালতে হাজির করানো হতে পারে। ওই দিন ইমরানের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা করছে তার দল। সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি প্রথম সারির দৈনিকে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।

প্রধান বিচারপতিকে লেখা চিঠিতে ইমরান জানিয়েছেন, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরই প্রাণে মেরে ফেলার চক্রান্ত শুরু হয়েছে। এই কাজের জন্য তিনি দায়ী করেছেন পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। কয়েক মাস আগেই আচমকা হামলায় পায়ে গুলি লাগে ইমরানের। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ইমরানের দাবি, তাকে আবারও মেরে ফেলার জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ইমরান ওই চিঠিতে এ-ও জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার বিরুদ্ধে ৭৪টি মামলা রুজু করেছে পাক সরকার। তাই জীবনের অধিকারের মতো মৌলিক অধিকারকে সুরক্ষিত রাখতেই তার নিরাপত্তা প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন তিনি।

এদিকে গত রবিবার সকালে ইমরান খানকে পুলিশের গ্রেপ্তার করতে যাওয়ার খবর রটে যায়। শোনা যায় ইসলামাবাদ এবং করাচি থেকে পুলিশ যাচ্ছে লাহোরে। ইমরানের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। ইমরান যে বাড়িতেই রয়েছেন, সে তথ্য পুলিশের কাছে ছিল কি না তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি ইমরানের সমর্থকরা। তবে পুলিশ আসছে শুনেই লাহোরে ইমরানের জামান পার্কের বাড়িটিকে ঘিরে ফেলেন তার সমর্থকরা। দুপুরে সেখানেই যায় পুলিশ। সমর্থকদের ভিড় এড়িয়ে বাড়ির ভেতরেও ঢোকে তারা। কিন্তু সেখানে ইমরানকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। গোটা বাড়ি খুঁজে পুলিশ বলে, ‘পুলিশ সুপার ইমরানের ঘরে গিয়েছিলেন। পুলিশের বড় দল এসেছিল তাকে গ্রেপ্তার করতে। কিন্তু ইমরান সেখানে ছিলেন না।’

প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে পাওয়া উপহার সরকারি ভাণ্ডার বা তোষাখানায় জমা না দিয়ে, মোটা দামে বিক্রি করার অভিযোগ ছিল ইমরানের বিরুদ্ধে। এ জন্যই পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ইমরানের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত অক্টোবরে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন ইমরান। পরে তা খারিজ হয়ে যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার একাধিক শুনানিতে উপস্থিত হননি তিনি। সেই অভিযোগেই ইমরানকে গ্রেপ্তার করতে রবিবার ইসলামাবাদ থেকে লাহোরে ইমরানের জামান পার্কের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। এই মামলায় আপাতত আগাম জামিন নিয়ে রাখা ইমরান ৯ মার্চ আদালতে হাজিরা দিতে পারেন বলে পিটিআই সূত্রে খবর।