4:09 pm, Saturday, 15 August 2026

বড়লেখায় মাধবছড়া পুনঃখননে স্বেচ্ছাচারিতা : প্রকল্প নিয়ে ধোয়াশা, জানে না স্থানীয় প্রশাসন

বড়লেখা প্রতিনিধি: বড়লেখা উপজেলার মাধবছড়া খাল পুনঃখননের নামে স্বেচ্ছাচারিভাবে ছড়ার পাড়ের মালিকানাধীন ভূমি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নকশা অনুযায়ি খালের খনন কাজ করার দাবি জানিয়ে ভূমি মালিকরা ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি কয়েকদিন থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের কথা বলে তিনটি একসেভেটরে মাধবছড়ার খনন কাজ শুরু করে। পাউবোর প্রকল্পে খনন কাজ হচ্ছে বললেও টানানো হয়নি কোনো প্রকল্প সিডিউল ও তথ্য সম্বলিত কোনো সাইনবোর্ড। কোন্ ডিপার্টমেন্ট কাজ করাচ্ছে, কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেল, বরাদ্দ ও প্রকল্পের মেয়াদ কোনো কিছুই জানতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দা, ছড়া তীরবর্তী ভূমি মালিকগন এমনকি স্থানীয় প্রশাসনও। এতে প্রকল্প নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছে।

ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগে ভোক্তভোগি ভূমি মালিক আব্দুর রহমান, নুরুল ইসলাম, আজন আলী, বদই মিয়া, সমজিদ আলী প্রমুখ জানান, মাধবছড়াটি বিগত কয়েক বছরের বন্যায় ভাঙ্গনের কারণে তার গতিপথ পরিবর্তন করে অনেকের মৌরসী ও ক্রয়কৃত ভূমি ছড়ায় বিলিন হয়ে গেছে। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের কথা বলে তিনিটি একসেভেটরে ছড়ার খনন কাজ শুরু করে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি। ঠিকাদার বা সরকারি কোনো ডিপার্টমেন্টের লোকজন ছাড়াই কোনো ধরণের মাপযোগ না করে ইচ্ছামতো তারা মালিকানা ভূমি কেটে নিচ্ছে। আবার কোথাও একদিকে বেশি পরিমাণ কেটে অন্যদিকে কম জমি কেটে নিচ্ছে। স্বেচ্ছাচারি খনন কাজে মারাত্মকভাবে ভূমি মালিকগণ ও প্রান্তিক কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালিদ বিন অলীদ জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। পাউবোর কোনো প্রকল্পে খনন কাজ হচ্ছে কিনা তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

ইউএনও তাহমিনা আক্তার জানান, মাধবছড়া পুনঃখননের কোনো প্রকল্প রয়েছে কিনা পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেনি। তবে, স্থানীয় ভোক্তভোগি ভূমি মালিকরা খননের নামে তাদের ভূমি কেটে নেওয়ার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে অভিযোগটি তিনি পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহকারি কমিশনার (ভূমি)-কে নির্দেশ দিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বড়লেখায় মাধবছড়া পুনঃখননে স্বেচ্ছাচারিতা : প্রকল্প নিয়ে ধোয়াশা, জানে না স্থানীয় প্রশাসন

Update Time : 12:34:40 pm, Tuesday, 31 December 2024

বড়লেখা প্রতিনিধি: বড়লেখা উপজেলার মাধবছড়া খাল পুনঃখননের নামে স্বেচ্ছাচারিভাবে ছড়ার পাড়ের মালিকানাধীন ভূমি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নকশা অনুযায়ি খালের খনন কাজ করার দাবি জানিয়ে ভূমি মালিকরা ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি কয়েকদিন থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের কথা বলে তিনটি একসেভেটরে মাধবছড়ার খনন কাজ শুরু করে। পাউবোর প্রকল্পে খনন কাজ হচ্ছে বললেও টানানো হয়নি কোনো প্রকল্প সিডিউল ও তথ্য সম্বলিত কোনো সাইনবোর্ড। কোন্ ডিপার্টমেন্ট কাজ করাচ্ছে, কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেল, বরাদ্দ ও প্রকল্পের মেয়াদ কোনো কিছুই জানতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দা, ছড়া তীরবর্তী ভূমি মালিকগন এমনকি স্থানীয় প্রশাসনও। এতে প্রকল্প নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছে।

ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগে ভোক্তভোগি ভূমি মালিক আব্দুর রহমান, নুরুল ইসলাম, আজন আলী, বদই মিয়া, সমজিদ আলী প্রমুখ জানান, মাধবছড়াটি বিগত কয়েক বছরের বন্যায় ভাঙ্গনের কারণে তার গতিপথ পরিবর্তন করে অনেকের মৌরসী ও ক্রয়কৃত ভূমি ছড়ায় বিলিন হয়ে গেছে। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের কথা বলে তিনিটি একসেভেটরে ছড়ার খনন কাজ শুরু করে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি। ঠিকাদার বা সরকারি কোনো ডিপার্টমেন্টের লোকজন ছাড়াই কোনো ধরণের মাপযোগ না করে ইচ্ছামতো তারা মালিকানা ভূমি কেটে নিচ্ছে। আবার কোথাও একদিকে বেশি পরিমাণ কেটে অন্যদিকে কম জমি কেটে নিচ্ছে। স্বেচ্ছাচারি খনন কাজে মারাত্মকভাবে ভূমি মালিকগণ ও প্রান্তিক কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালিদ বিন অলীদ জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। পাউবোর কোনো প্রকল্পে খনন কাজ হচ্ছে কিনা তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

ইউএনও তাহমিনা আক্তার জানান, মাধবছড়া পুনঃখননের কোনো প্রকল্প রয়েছে কিনা পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেনি। তবে, স্থানীয় ভোক্তভোগি ভূমি মালিকরা খননের নামে তাদের ভূমি কেটে নেওয়ার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে অভিযোগটি তিনি পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সহকারি কমিশনার (ভূমি)-কে নির্দেশ দিয়েছেন।