2:24 am, Friday, 22 May 2026

বেগম খালেদা জিয়ার খাবার-ওষুধে বিষ মেশানো হয়েছিল: রিজভী

ডেস্ক রিপোর্ট : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা কৃত্রিমভাবে চক্রান্ত করে তৈরি করা, তার খাবার ও ওষুধে নানাভাবে বিষ মেশানো হয়েছে। কেউ যদি সরকারের হেফাজতে থাকে সরকার তার জীবন নিয়ে নানাভাবে ছিনিমিনি খেলতে পারে শেখ হাসিনা সেটিই করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ভণ্ডামি, মিথ্যচারিতা ও অঙ্গীকারহীনতা নিয়েই দীর্ঘ সময় শেখ হাসিনা ও হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে দেশ চালানো হয়েছে। ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের আগের ৯ বছর আমাদের এভাবেই কষ্ট করতে হয়েছে স্বৈরাচার এরশাদের আমলে। তখনও আমাদের নানাভাবে উৎপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। তখন আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি চলন্ত গাড়ি থামিয়ে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনে নির্যাতনের মাত্রাটা ছিল আরও তীব্র ও ভয়ংকর যার কারণে বেগম খালেদা রোগে শোকে জর্জরিত হয়ে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এখন তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিএনপির এ সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এরশাদের দলটি সহযোগী ছিল শেখ হাসিনার পৈশাচিক শাসনামলে। তারা আঁতাত করেছিল আওয়ামী লীগের সঙ্গে। এত দীর্ঘ সময় লাগতো না গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে যদি না জাতীয় পার্টি তাদের সহযোগী হতো। নব্বইয়েও এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও একই পরিস্থিতি হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এরশাদ এবং হাসিনার চরিত্রের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তারা পরস্পর বিরোধী কথা বললেও চূড়ান্ত মুহূর্তে তারা এক হয়ে করমর্দন করেন। গণতন্ত্রকে ধারাল ছুরি দিয়ে জবাই করেছেন তারা। দুর্নীতিতে তারা সারাদেশে স্বর্গরাজ্য কায়েম করেছিলেন, ব্যাংক লুটপাট করেছিলেন এরশাদ আর এর চূড়ান্ত বিকাশ করেছেন শেখ হাসিনা।

বিএনপির এ নেতা বলেন, প্লট বরাদ্দের মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছর সাজা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে আদালতে হস্তক্ষেপ করার কিছু নেই। কিছু বুদ্ধিজীবী রয়েছেন, তারা বলছেন একই কায়দায় সব হচ্ছে। কিন্তু এখন তো কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় নেই, তাহলে কারা করছে। হাসিনার তৈরি করা ট্রাইব্যুনালেই তার বিচার হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গুম খুন এখন হচ্ছে না। রাজনৈতিক কোনো হস্তক্ষেপ নেই সরকারে। কোর্টকে প্রভাবিতও করার কোনো ঘটনা নেই, যা শেখ হাসিনা করেছিলেন। সমস্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল হাসিনার। যারা নিজের দেশে নিজের সন্তান, ছাত্র, শ্রমিক হত্যা করে, তাদের বিচার হবেই। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। বিচারহীন থাকতে পারে না।

ব্যাংক খাতের অনিয়ম নিয়ে রিজভী বলেন, ব্যাংকের টাকা ফেরত না দেওয়া, ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়ে আবারও ঋণ নেওয়ার সংস্কৃতি হলো হাসিনোমিকস। কর্মসংস্থান হচ্ছে না, দারিদ্র্যসীমা বাড়ছে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সর্বোপরি তিনি জনতা টাওয়ারের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি ছিল এরশাদের স্ত্রীর। পরবর্তী পর্যায়ে এ নিয়ে মামলা হয়েছে আমরা দেখেছি। একনায়কদের কোনো আইন লাগে না। রাষ্ট্রের আইন তারা অবৈধভাবে নিজেদের স্বার্থের জন্য ব্যবহার করে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি

বেগম খালেদা জিয়ার খাবার-ওষুধে বিষ মেশানো হয়েছিল: রিজভী

Update Time : 11:51:53 am, Thursday, 27 November 2025

ডেস্ক রিপোর্ট : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা কৃত্রিমভাবে চক্রান্ত করে তৈরি করা, তার খাবার ও ওষুধে নানাভাবে বিষ মেশানো হয়েছে। কেউ যদি সরকারের হেফাজতে থাকে সরকার তার জীবন নিয়ে নানাভাবে ছিনিমিনি খেলতে পারে শেখ হাসিনা সেটিই করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ভণ্ডামি, মিথ্যচারিতা ও অঙ্গীকারহীনতা নিয়েই দীর্ঘ সময় শেখ হাসিনা ও হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে দেশ চালানো হয়েছে। ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের বিজয়ের আগের ৯ বছর আমাদের এভাবেই কষ্ট করতে হয়েছে স্বৈরাচার এরশাদের আমলে। তখনও আমাদের নানাভাবে উৎপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। তখন আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি চলন্ত গাড়ি থামিয়ে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনে নির্যাতনের মাত্রাটা ছিল আরও তীব্র ও ভয়ংকর যার কারণে বেগম খালেদা রোগে শোকে জর্জরিত হয়ে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এখন তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিএনপির এ সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এরশাদের দলটি সহযোগী ছিল শেখ হাসিনার পৈশাচিক শাসনামলে। তারা আঁতাত করেছিল আওয়ামী লীগের সঙ্গে। এত দীর্ঘ সময় লাগতো না গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে যদি না জাতীয় পার্টি তাদের সহযোগী হতো। নব্বইয়েও এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও একই পরিস্থিতি হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এরশাদ এবং হাসিনার চরিত্রের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তারা পরস্পর বিরোধী কথা বললেও চূড়ান্ত মুহূর্তে তারা এক হয়ে করমর্দন করেন। গণতন্ত্রকে ধারাল ছুরি দিয়ে জবাই করেছেন তারা। দুর্নীতিতে তারা সারাদেশে স্বর্গরাজ্য কায়েম করেছিলেন, ব্যাংক লুটপাট করেছিলেন এরশাদ আর এর চূড়ান্ত বিকাশ করেছেন শেখ হাসিনা।

বিএনপির এ নেতা বলেন, প্লট বরাদ্দের মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছর সাজা হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে আদালতে হস্তক্ষেপ করার কিছু নেই। কিছু বুদ্ধিজীবী রয়েছেন, তারা বলছেন একই কায়দায় সব হচ্ছে। কিন্তু এখন তো কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় নেই, তাহলে কারা করছে। হাসিনার তৈরি করা ট্রাইব্যুনালেই তার বিচার হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গুম খুন এখন হচ্ছে না। রাজনৈতিক কোনো হস্তক্ষেপ নেই সরকারে। কোর্টকে প্রভাবিতও করার কোনো ঘটনা নেই, যা শেখ হাসিনা করেছিলেন। সমস্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল হাসিনার। যারা নিজের দেশে নিজের সন্তান, ছাত্র, শ্রমিক হত্যা করে, তাদের বিচার হবেই। পাপ বাপকেও ছাড়ে না। বিচারহীন থাকতে পারে না।

ব্যাংক খাতের অনিয়ম নিয়ে রিজভী বলেন, ব্যাংকের টাকা ফেরত না দেওয়া, ঋণ নিয়ে খেলাপি হয়ে আবারও ঋণ নেওয়ার সংস্কৃতি হলো হাসিনোমিকস। কর্মসংস্থান হচ্ছে না, দারিদ্র্যসীমা বাড়ছে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সর্বোপরি তিনি জনতা টাওয়ারের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি ছিল এরশাদের স্ত্রীর। পরবর্তী পর্যায়ে এ নিয়ে মামলা হয়েছে আমরা দেখেছি। একনায়কদের কোনো আইন লাগে না। রাষ্ট্রের আইন তারা অবৈধভাবে নিজেদের স্বার্থের জন্য ব্যবহার করে।