7:39 am, Thursday, 21 May 2026

মার্কিন কংগ্রেসের ‘বাংলাদেশে গণহত্যার’ স্বীকৃতি : স্বাগত জানালো আইসিএসএফ

ডেস্ক রিপোর্ট : মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ‘১৯৭১ সালের বাংলাদেশ গণহত্যাকে স্বীকৃতি’ শীর্ষক প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ)।

সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই উদ্যোগ বিশ্বের যেকোনও আইন প্রণয়নকারী সংস্থার কাছে পেশ করা এই প্রথম। আমরা রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট ও ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্নার এই দ্বি-দলীয় প্রস্তাব উদ্যোগের প্রশংসা করি।

বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি প্রবাসীদের তাদের নিজ নিজ প্রতিনিধিদের ওপর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টির জন্য আহ্বানও জানানো হয়। যাতে করে অন্যান্য দেশগুলোও তা অনুসরণ করে এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতির জন্য এ উদ্যোগ শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

প্রসঙ্গত, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ) হলো বিশেষজ্ঞ, সক্রিয় কর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, যা আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য দায়মুক্তির সমাধান, অত্যাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যাকে কেন্দ্র করে আইসিএসএফ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য কাজ করছে।

এর আগে ১৪ অক্টোবর কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট ও ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যার স্বীকৃতি’ শিরোনামে রেজুলেশনটি (এইচ১৪৩০) আনেন। সেখানে তারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান।

তারা আরও বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের স্বশস্ত্র বাহিনী বাঙালি ও হিন্দুদের ওপর যে সহিংসতা চালিয়েছে, তাকে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানানো হয় রেজুলেশনে। এ ছাড়া পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার জন্য এবং যেসব অপরাধী এখনও বেঁচে আছে, তাদের বিচার করার জন্যও আহ্বান জানানো হয় প্রস্তাবে।

১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাবলি বিবেচনায় নিয়ে বিলে ১৯৭১ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সহিংসতাকে নিন্দা জানানো হয়।

বাঙালি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি ওই সব সহিংসতাকে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ১৯৭১ সালে যারা মারা গেছেন এবং অত্যাচারের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়।

রেজুলেশনের প্রথম অংশে ১৯৪৭ সালে দেশভাগ ও পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের প্রতি বিতৃষ্ণার মনোভাব পোষণ করতো, সেটির কথা বিবৃত করা হয়।

১৯৭০ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনে জয়লাভ এবং পরবর্তীতে ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর সঙ্গে তার আলোচনা ব্যর্থ হয় জানিয়ে রেজুলেশনে বলা হয়, জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার জেনারেলদের বলেছিল, ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করো এবং বাকিরা আমাদের হাত চাটবে।

এতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে এবং সামরিক বাহিনী ও উগ্র ইসলামিক দলের সহায়তায় অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে মৌলভীবাজারে শোভাযাত্রা, ড্রিলিং ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মার্কিন কংগ্রেসের ‘বাংলাদেশে গণহত্যার’ স্বীকৃতি : স্বাগত জানালো আইসিএসএফ

Update Time : 06:27:34 am, Monday, 17 October 2022

ডেস্ক রিপোর্ট : মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ‘১৯৭১ সালের বাংলাদেশ গণহত্যাকে স্বীকৃতি’ শীর্ষক প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ)।

সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই উদ্যোগ বিশ্বের যেকোনও আইন প্রণয়নকারী সংস্থার কাছে পেশ করা এই প্রথম। আমরা রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট ও ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্নার এই দ্বি-দলীয় প্রস্তাব উদ্যোগের প্রশংসা করি।

বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি প্রবাসীদের তাদের নিজ নিজ প্রতিনিধিদের ওপর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টির জন্য আহ্বানও জানানো হয়। যাতে করে অন্যান্য দেশগুলোও তা অনুসরণ করে এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতির জন্য এ উদ্যোগ শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

প্রসঙ্গত, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ) হলো বিশেষজ্ঞ, সক্রিয় কর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক, যা আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য দায়মুক্তির সমাধান, অত্যাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যাকে কেন্দ্র করে আইসিএসএফ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য কাজ করছে।

এর আগে ১৪ অক্টোবর কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট ও ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খান্না ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যার স্বীকৃতি’ শিরোনামে রেজুলেশনটি (এইচ১৪৩০) আনেন। সেখানে তারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানান।

তারা আরও বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের স্বশস্ত্র বাহিনী বাঙালি ও হিন্দুদের ওপর যে সহিংসতা চালিয়েছে, তাকে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানানো হয় রেজুলেশনে। এ ছাড়া পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার জন্য এবং যেসব অপরাধী এখনও বেঁচে আছে, তাদের বিচার করার জন্যও আহ্বান জানানো হয় প্রস্তাবে।

১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনাবলি বিবেচনায় নিয়ে বিলে ১৯৭১ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সহিংসতাকে নিন্দা জানানো হয়।

বাঙালি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি ওই সব সহিংসতাকে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ১৯৭১ সালে যারা মারা গেছেন এবং অত্যাচারের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়।

রেজুলেশনের প্রথম অংশে ১৯৪৭ সালে দেশভাগ ও পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের প্রতি বিতৃষ্ণার মনোভাব পোষণ করতো, সেটির কথা বিবৃত করা হয়।

১৯৭০ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনে জয়লাভ এবং পরবর্তীতে ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর সঙ্গে তার আলোচনা ব্যর্থ হয় জানিয়ে রেজুলেশনে বলা হয়, জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার জেনারেলদের বলেছিল, ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করো এবং বাকিরা আমাদের হাত চাটবে।

এতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে এবং সামরিক বাহিনী ও উগ্র ইসলামিক দলের সহায়তায় অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে।