বিকুল চক্রবর্তী : মৌলভীবাজারের এবার ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় হলদ নির্যাসের বিশেষ জাতের লেনফাই তরমুজ। তিন বছর আগে এটি প্রথম মৌলভীবাজারে চাষ হয়। মৌলভীবাজারের মাটি এটি চাষে বেশ উপযোগী। প্রথম বছর জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় হয়। পরবর্তী বছর তা বিস্তৃতি লাভ করে কমলগঞ্জে, ক্রমশ জেলার অনান্য উপজেলায়। এবার এ বিভাগ ছাড়িয়ে পাশবর্তী বিভাগের ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলায় শুরু হয় এর চাষাবাদ। গতবছর এর পরীক্ষা মূলক চাষাবাদ শুরু হলেও এবার এটি চাষাবাদ করা হয়েছে বানিজ্যিক ভাবে।
বাজারের অন্যান্য তরমুজের চেয়ে অধিক গুন বেশী মিষ্টতা সম্পন্ন এবং এর ভিতর কড়া হলুদ বর্ণ। ফলে ক্রেতাদের কাছেও অল্প সময়েই এর চাহিদা বেড়েছে অনেক গুন। গতবছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রথমবারের আবাদ হয়েছে এমন বিশেষ জাতের তরমুজ। সারা বছরই আবাদ যোগ্য এই তরমুজের চাষ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে । ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় গত বছর প্রায় ১৪ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হলেও এবার আবাদ হয়েছে ১৭ হেক্টরেরও বেশি জমিতে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ছাড়াও কসবা ,নবীনগর ,বাঞ্ছারামপুর ,নাসিরনগর আখাউড়ায় তরমুজের আবাদ হয়। জেলায় দেশীয় জাত ছাড়াও বøক বেরী , সুইট বেরী লেনফাই সহ বিভিন্ন হাইব্রীড জাতের তরমুজ চাষ হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কৃষক খলিল মিয়া লালতীর সীডের লেনফাই নামে হাইব্রীড জাতের তরমুজের আবাদ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। কৃষক খলিল মিয়া বলেন, প্রথম বারে আমি পরীক্ষামূলক চাষ করলেও লাভ জনক হওয়াই দ্বিতীয়বারে আবারও ১ বিঘা জমিতে আবাদ করি। এতে আমার খরচ হয়েছে ৫৫/৬০ হাজার টাকা। ফলন ভাল হওয়াই বিক্রি করতে পারলে আমার উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৭০/৮০ হাজার টাকা লাভ হবে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মাটির সাথে ও ছোট মাচাংএ একাধিক তরমুজ ক্ষেত। কৃষকরা ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার কাজে ব্যস্ত আছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা আসছেন জমি থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যেতে।
খলিলের ক্ষেতে পরিচর্যাকারী শ্রমিক হুমায়ুন মিয়া বলেন, তরমুজ চাষে তেমন পরিশ্রম নেই। নিয়মিত আগাছা মুক্ত করা ছাড়া তেমন কোন পরিচর্যা করতে হয় না। তবে তরমুজ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। আবাহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমাদের ফলন বেশ ভাল। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা লোকজন ক্ষেত থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। নতুন ধরনের তরমুজ দামও বেশ ভাল পাওয়া যাচ্ছে। তার সফলতায় উৎসাহী হয়ে অন্যান্য কৃষকও তরমুজ আবাদের ঝুকছে। কৃষক সালাম মিয়া বলেন, খলিল মিয়ার তরমুজ ক্ষেত দেখে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসছেন। আমিও এখন থেকে তরমুজ চাষ করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
লালতীর সীড লিমিটেডের ডিভিশনাল ম্যানেজার তাপস চক্রবর্তী বলেন, লালতীরের হাইব্রীড লেনফাই জাতের এই হলুুদ তরমুজ চাষ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনেক কৃষক। প্রথম বছর এর ফলন ভালো হওয়ায় এবছর অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেছেন। এই তরমুজের বিশেষ গুন হল বাজারের অন্যান্য তরমুজের থেকে অনেক মিষ্টি ও সুস্বাদু। এর ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা লাভজনক হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মতর্তা মনোয়ার আহমেদ বলেন, কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য কারিগরী সহযোগীতা সহ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রবিউল হক মজুমদার বলেন, এখন পর্যন্ত মাঠের পরিবেশ ভাল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর গড়ে হেক্টর প্রতি ১৪ টন তরমুজ পাওয়া বলে আশা করছি। লাভের বিষয়টি বিবেচনা করেই কৃষকরা তরমুজ চাষে ঝুঁকছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















