10:55 am, Thursday, 29 October 2026

মৌলভীবাজারে নিরাপদ সড়ক দিবস, দুর্ঘটনায় আহতদের চেক বিতরণ

মনিরুজ্জামান মনির : “নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে মৌলভীবাজারে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), মৌলভীবাজার সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিনের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি জেলা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবহন শ্রমিক, বিআরটিএ কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুজ্জামান পাভেল। সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মামুনুর রশিদ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিআরটিএ মৌলভীবাজার সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. নাসির উদ্দিন। তিনি সড়ক দুর্ঘটনার কারণ, এর প্রভাব এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বিআরটিএ’র চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম এবং এম নাসের রহমানের রাজনৈতিক সচিব ফখরুল ইসলাম। বক্তারা সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার শৃঙ্খলা এবং চালকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন অত্যন্ত জরুরি। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন তাদের সন্তানদের সড়ক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি চালকদের ধৈর্য ধরে গাড়ি চালানো এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

সভায় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিআরটিএ’র প্রতিনিধি, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠান শেষে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিবর্গের মাঝে বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। আয়োজকরা মনে করছেন, এমন উদ্যোগ শুধু আহতদের পাশে দাঁড়ায় না, বরং সমাজে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। নিরাপদ সড়ক গড়তে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধের বিকল্প নেই। সড়কে একটি প্রাণ বাঁচানো মানে একটি পরিবারকে বাঁচানো—এই উপলব্ধি থেকেই প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে, তবেই “নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যটি বাস্তবে রূপ নেবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বড়লেখায় বিশ্ব হাতধোয়াদিবসে র‌্যালি আলোচনাসভা ও হাতধোয়া প্রদর্শনী

মৌলভীবাজারে নিরাপদ সড়ক দিবস, দুর্ঘটনায় আহতদের চেক বিতরণ

Update Time : 08:05:17 am, Wednesday, 28 October 2026

মনিরুজ্জামান মনির : “নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে মৌলভীবাজারে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), মৌলভীবাজার সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিনের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি জেলা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবহন শ্রমিক, বিআরটিএ কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুজ্জামান পাভেল। সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মামুনুর রশিদ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিআরটিএ মৌলভীবাজার সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. নাসির উদ্দিন। তিনি সড়ক দুর্ঘটনার কারণ, এর প্রভাব এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বিআরটিএ’র চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম এবং এম নাসের রহমানের রাজনৈতিক সচিব ফখরুল ইসলাম। বক্তারা সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার শৃঙ্খলা এবং চালকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ, সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন অত্যন্ত জরুরি। তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন তাদের সন্তানদের সড়ক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি চালকদের ধৈর্য ধরে গাড়ি চালানো এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেন।

সভায় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিআরটিএ’র প্রতিনিধি, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠান শেষে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিবর্গের মাঝে বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। আয়োজকরা মনে করছেন, এমন উদ্যোগ শুধু আহতদের পাশে দাঁড়ায় না, বরং সমাজে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে আরও বেগবান করে। নিরাপদ সড়ক গড়তে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধের বিকল্প নেই। সড়কে একটি প্রাণ বাঁচানো মানে একটি পরিবারকে বাঁচানো—এই উপলব্ধি থেকেই প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে, তবেই “নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যটি বাস্তবে রূপ নেবে।