মো: মনিরুজ্জামান: মৌলভীবাজারে হাজারো দর্শতদের উপস্থিতে শহরতলীর খিদুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই। সকাল থেকেই প্রতিযোগিতার মাঠে বাদ্যযন্ত্রসহ একের পর এক ষাঁড়, ষাঁড়ের মালিক ও ওই দলের সমর্থকরা মাঠে আসতে থাকেন। ষাঁড়ের লড়াই শুরুর আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সিলেট বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সৌখিন ষাঁড়ের মালিকগণ আগের দিন থেকে ষাঁড় নিয়ে জড়ো হন। ষাঁড়ের লড়াই দেখতে শিশু কিশোর, মহিলা, ছেলে, বুড়ো নানা বয়সের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে খিদুর মাঠে।

মৌলভীবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর মাসুদ আহমদের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এই ষাঁড়ের লড়াই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ১৭ডিসেম্বর এই ষাঁড়ের লড়াই দেখতে কৌতূহলী দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল লক্ষণীয়। এই ষাঁড়ের লড়াইও ছিল বেশ উপভোগ্য। দুপুর থেকে বিকেলে পর্যন্ত চলে এ প্রতিযোগিতা। প্র
তিযোগিতায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩২টি (১৬ জোড়া) ষাঁড় অংশ নেয়। লড়াইয়ে অংশ নেওয়া প্রতিটি ষাঁড়ই ছিল বাহারি রংয়ের আকর্ষণীয় দেহের। এসকল ষাঁড়ের সৌখিন মালিক (দেশী ও প্রবাসী) নানা রং ঢং আর বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে তাদের দলবল নিয়ে প্রতিযো
গিতায় অংশ নেন। বর্ণিল রঙের ষাঁড়ের উপস্থিতি প্রতিযোগিতাকে প্রাণবন্ত করে রূপ দেয় উৎসবের। প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণকারী প্রত্যেকটি ষাঁড়কে বিভিন্ন ও বিচিত্র নাম দেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্য হল নেওয়াজ পাগলা, কালো মানিক, রব২ দয়াল, কলঙ্কর ফুল,বিকট,হিরালাল,ফাটা কৃষ্ণ ইত্যাদি। প্রতিযোগীতায় প্রথম পুরষ্কার মোটর সাইকেল, ২য় পুরস্কার ২১ ইঞ্চি টিভি, ৩য় পুরস্কার ছিল ২১ ইঞ্চি টিভি। এছাড়াও অংশ গ্রহনকারীকে শান্তনা পুরস্কার দেওয়া হয়।
পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তোলে দেন প্রতিযোগিতার আয়োজক কাউন্সিলার মাসুদ আহমদ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আনছার মিয়া,ওয়েছ মিয়া,সমছু মিয়া,লায়েক মিয়া,কবির মিয়া,বিশিষ্ট মুরব্বী মছব্বির মিয়া ও সুন্দর মিয়া প্রমুখ।

একাদিক দর্শক ও অংশ গ্রহনকারী যাড়ের মালিকরা দৈনিক মৌমাছি কন্ঠকে বলেন- ঐতিহ্যবাহয়ী লড়াই হাড়িয়ে দিনে দিনে যাচ্ছে। এ খেলাকে দরে রাখতে আয়োজকদের পাশাপাশি সরকারের পৃষ্টপোষতা প্রয়োজন।
মাসুদ আহমদ,আয়োজক প্রধান ও কাউন্সিলর, মৌলভীবাজার পৌরসভা দৈনিক মৌমাছি কন্ঠকে বলেন এবছর বিজয় দিবসে ১৭ ডিসেম্বরে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই ষাড়ের লড়াই। আমি নিজ ও সকলের সহযোগীতায় প্রতিবছর এ খেলার আয়োজন কনে আসছি। আশা রাখি খেলাটি আগামীতে ও সকলের সহযোগিতা পেলে প্রতিবছরই তা আয়োজন করে যাবে।
গ্রাম বাংলা ঐতিহ্যবাহীে খেলাকে দরে রাখতে পৃষ্টপোষকতায় এগ্রিয়ে আসা প্রয়োজন সবাইকে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















