4:36 am, Saturday, 2 May 2026

রং মেশানো আইসক্রিম-চানাচুর খেয়ে অসুস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

তানভীর চৌধুরী :: তীব্র এই গরমে অতিষ্ঠ হয়ে রং মেশানো আইসক্রিম খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। পাড়া, মহল্লা, বাজারে, স্কুল ও কোচিং সেন্টারের সামনে বিক্রি হয় আইসক্রিম ও খোলা চানাচুর। নিম্নমানের উপাদান ও ক্ষতিকর রং মিশিয়ে তৈরি করছে আইসক্রিম। কম দামের কারণে তা লুফে নিচ্ছে শিশুরা। সাথে খোলা চানাচুর খেয়েও পেট ব্যথাসহ নানা রোগে ভুগছে ছাত্রছাত্রীরা।

মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নমানের ও সস্তা আইসক্রিম খেয়ে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

অভিযোগ আছে, আইসক্রিম তৈরিতে এক ধরনের পাউডার দুধ, চিনি, ঘন চিনি, কর্নফ্লাওয়ার, স্যাকারিন, স্ট্যাবিলাইজার, ফ্লেভার, কালার ও পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। নিউ কুলফি, লাবণ্য কুলফি, ললি, জালটক, লেমন, ম্যাঙ্গো, কুলফি ও আরও বিভিন্ন নামে ১৫ থেকে ২০টি কারখানা নিম্নমানের এসব আইসক্রিম তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা মূল্যের দুধ কুলফি, দই কুলফি, ঝালটক কুলফি, অরেঞ্জ কুলফি, লিচু কুলফি ও বিভিন্ন নামে এসব আইসক্রিম বাজার দখল করে রেখেছে। এই আইসক্রিমের প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং মূল্য লেখা নেই।

জেলার কয়েকটি কারখানা ঘুরে দেখা যায়, আইসক্রিম তৈরির জন্য যে উপকরণ ব্যবহার করা হয় তাও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ফ্রিজগুলোতে ময়লা পানি ব্যবহার করা হয়। কারখানার চারপাশে মাছি, মশার উপদ্রব তো রয়েছেই।

কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সাদেক মিয়া বলেন, আমার নাতি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে। সে প্রতিদিন টিফিনের কথা বলে ২০ টাকা নেয়। কয়েক দিন ধরে গলাব্যথা ও পেটব্যথা করছে। ডাক্তার দেখানো হলে জানতে পারি সে প্রতিদিন আইক্রিম ও চানাচুর খেত তা থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়া হয়েছে ও ঠাণ্ডা লেগেছে।’

শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সামিয়া জানায়, ‘গরমের সময় আইসক্রিম অনেক ভালো লাগে। টিফিন টাইমে ও স্কুল ছুটির পর গেটের সামনে আইসক্রিম দেখলে খেতেই হয়। না খেলে ভালো লাগে না। তাই প্রতিদিন একটি হলেও খাওয়ার চেষ্টা করি।’

কমলগঞ্জ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনেন্দ্র কুমার দেব বলেন, ‘স্কুলের সামনে আইসক্রিম ও চানাচুর বিক্রি বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত উদ্দিন বলেন, ‘স্কুলের সামনে আইসক্রিম ও চানাচুর বিক্রি বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নিম্নমানের আইসক্রিম তৈরি কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাবারের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

আবারো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধি রাশমিকা!

রং মেশানো আইসক্রিম-চানাচুর খেয়ে অসুস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

Update Time : 08:18:07 am, Thursday, 8 June 2023

তানভীর চৌধুরী :: তীব্র এই গরমে অতিষ্ঠ হয়ে রং মেশানো আইসক্রিম খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। পাড়া, মহল্লা, বাজারে, স্কুল ও কোচিং সেন্টারের সামনে বিক্রি হয় আইসক্রিম ও খোলা চানাচুর। নিম্নমানের উপাদান ও ক্ষতিকর রং মিশিয়ে তৈরি করছে আইসক্রিম। কম দামের কারণে তা লুফে নিচ্ছে শিশুরা। সাথে খোলা চানাচুর খেয়েও পেট ব্যথাসহ নানা রোগে ভুগছে ছাত্রছাত্রীরা।

মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এমন চিত্র দেখা যায়। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নমানের ও সস্তা আইসক্রিম খেয়ে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

অভিযোগ আছে, আইসক্রিম তৈরিতে এক ধরনের পাউডার দুধ, চিনি, ঘন চিনি, কর্নফ্লাওয়ার, স্যাকারিন, স্ট্যাবিলাইজার, ফ্লেভার, কালার ও পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। নিউ কুলফি, লাবণ্য কুলফি, ললি, জালটক, লেমন, ম্যাঙ্গো, কুলফি ও আরও বিভিন্ন নামে ১৫ থেকে ২০টি কারখানা নিম্নমানের এসব আইসক্রিম তৈরি করে বাজারজাত করা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা মূল্যের দুধ কুলফি, দই কুলফি, ঝালটক কুলফি, অরেঞ্জ কুলফি, লিচু কুলফি ও বিভিন্ন নামে এসব আইসক্রিম বাজার দখল করে রেখেছে। এই আইসক্রিমের প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং মূল্য লেখা নেই।

জেলার কয়েকটি কারখানা ঘুরে দেখা যায়, আইসক্রিম তৈরির জন্য যে উপকরণ ব্যবহার করা হয় তাও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ফ্রিজগুলোতে ময়লা পানি ব্যবহার করা হয়। কারখানার চারপাশে মাছি, মশার উপদ্রব তো রয়েছেই।

কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সাদেক মিয়া বলেন, আমার নাতি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে কমলগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে। সে প্রতিদিন টিফিনের কথা বলে ২০ টাকা নেয়। কয়েক দিন ধরে গলাব্যথা ও পেটব্যথা করছে। ডাক্তার দেখানো হলে জানতে পারি সে প্রতিদিন আইক্রিম ও চানাচুর খেত তা থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়া হয়েছে ও ঠাণ্ডা লেগেছে।’

শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সামিয়া জানায়, ‘গরমের সময় আইসক্রিম অনেক ভালো লাগে। টিফিন টাইমে ও স্কুল ছুটির পর গেটের সামনে আইসক্রিম দেখলে খেতেই হয়। না খেলে ভালো লাগে না। তাই প্রতিদিন একটি হলেও খাওয়ার চেষ্টা করি।’

কমলগঞ্জ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনেন্দ্র কুমার দেব বলেন, ‘স্কুলের সামনে আইসক্রিম ও চানাচুর বিক্রি বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত উদ্দিন বলেন, ‘স্কুলের সামনে আইসক্রিম ও চানাচুর বিক্রি বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ প্রসঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নিম্নমানের আইসক্রিম তৈরি কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাবারের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।