5:40 am, Sunday, 7 June 2026

রাজনগর উপজেলা নির্বাচন অফিস অনিয়ম-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য

স্টাফ রিপোর্টার: রাজনগর উপজেলা নির্বাচন অফিস যেন এক অনিয়ম-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য। নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারী ও অনিয়মের নানা অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হয়। সব মিলিয়ে অফিসটি এখন ঘুষ ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
ভোটার জটিলতার কারণে নাগরিক নানান সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। নতুন ভোটার হওয়া, জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল সংশোধন ও ভোটার স্থানান্তরসহ সব কাজেই গুনতে হয় টাকা। তবে অফিসে কর্মরত মাসুদ মাধ্যমে গেলে মুহূর্তেই মিলে সকল সমস্যার সমাধান।
ভুল সংশোধন থেকে শুরু করে যে কোনো কাজেই তিনি করে দিতে পারেন। এ জন্য মাসুদ এর হাতে তুলে দিতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবা নিতে আসা মানুষ।
রাজনগর উপজেলার একাধিক বাসিন্দা ও সেবা প্রার্থীর অভিযোগ, নির্বাচন অফিসে সব ধরনের সেবা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নিতে হচ্ছে। ভোটার আইডি কার্ড স্থানান্তরের জন্য কোনো ফি না থাকলেও দিতে হচ্ছে টাকা। এর মধ্যে নাম এবং বয়সের ভুল সংশোধনে দিতে হয় দুই হাজার থেকে শুরু করে বড় অন্কের টাকা। নতুন ভোটার হতে লাগে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা। টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। উপজেলার তাহারলামু গ্রামের রাজু বকস্ একটি ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন জন্য আবেদন করেন। এসময় সরকারী ফি জমা দেন। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পেয়ে আইডি কার্ড নেওয়ার জন্য আসলে আরও ৫৫১ টাকা দাবি করেন কর্মচারী মাসুদ। কিসের জন্য টাকা নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন কার্ডের প্রিন্ট বাহির করে দেবেন। প্রিন্ট ফি ও   বিভিন্ন খরচের কথা বলেন। জাবেদ আহমদ নতুন ভোটারে জন্য আবেদন করেন চলিত বছরের মে মাসে। তার ছবি তোলার তারিখ দেওয়া হয় এক মাস পর ২৯ জুনে। তাকে স্লিপে একটি মোবাইল নম্বর লিখে দিয়ে রাতে অবসর সময়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরবর্তীতে মাসুদকে টাকা দিয়ে ছবি ও ফিংগা প্রিন্ট দেন। এ বিষয়টি অভিযুক্ত পরিচ্ছন্নাতা কর্মী মাসুদ বলেন, রাজু বকস সকালে আমার নিকট আসেন ভোটার কার্ডের একটি প্রিন্ট বাহির করার জন্য। আমি অফিসের ফি পেমেন্ট করে তাকে ভোটার আইডি কার্ডের প্রিন্ট বাহির করে দেই। ফি পেমেন্টের রশিদ আমার নিকট আছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাচন অফিসার এমদাদুর রহমান বলেন, মাসুদ পরিচ্ছন্নতা কর্মী। সে অফিসের কোন কাজ করার কথা নয়। আর ভোটার আইডি কার্ডর কোন প্রিন্ট বের করতে টাকা লাগেনা। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রাত চাকমা বলেন, ঘটনাটি তাৎক্ষনিক জানালে ভালো হতো। এখন যখন জেনেছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।
Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাহারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী গ্রেপ্তার

রাজনগর উপজেলা নির্বাচন অফিস অনিয়ম-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য

Update Time : 02:49:26 pm, Monday, 15 July 2024
স্টাফ রিপোর্টার: রাজনগর উপজেলা নির্বাচন অফিস যেন এক অনিয়ম-দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য। নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারী ও অনিয়মের নানা অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হয়। সব মিলিয়ে অফিসটি এখন ঘুষ ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
ভোটার জটিলতার কারণে নাগরিক নানান সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। নতুন ভোটার হওয়া, জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল সংশোধন ও ভোটার স্থানান্তরসহ সব কাজেই গুনতে হয় টাকা। তবে অফিসে কর্মরত মাসুদ মাধ্যমে গেলে মুহূর্তেই মিলে সকল সমস্যার সমাধান।
ভুল সংশোধন থেকে শুরু করে যে কোনো কাজেই তিনি করে দিতে পারেন। এ জন্য মাসুদ এর হাতে তুলে দিতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা। এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবা নিতে আসা মানুষ।
রাজনগর উপজেলার একাধিক বাসিন্দা ও সেবা প্রার্থীর অভিযোগ, নির্বাচন অফিসে সব ধরনের সেবা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে নিতে হচ্ছে। ভোটার আইডি কার্ড স্থানান্তরের জন্য কোনো ফি না থাকলেও দিতে হচ্ছে টাকা। এর মধ্যে নাম এবং বয়সের ভুল সংশোধনে দিতে হয় দুই হাজার থেকে শুরু করে বড় অন্কের টাকা। নতুন ভোটার হতে লাগে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা। টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। উপজেলার তাহারলামু গ্রামের রাজু বকস্ একটি ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধন জন্য আবেদন করেন। এসময় সরকারী ফি জমা দেন। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পেয়ে আইডি কার্ড নেওয়ার জন্য আসলে আরও ৫৫১ টাকা দাবি করেন কর্মচারী মাসুদ। কিসের জন্য টাকা নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন কার্ডের প্রিন্ট বাহির করে দেবেন। প্রিন্ট ফি ও   বিভিন্ন খরচের কথা বলেন। জাবেদ আহমদ নতুন ভোটারে জন্য আবেদন করেন চলিত বছরের মে মাসে। তার ছবি তোলার তারিখ দেওয়া হয় এক মাস পর ২৯ জুনে। তাকে স্লিপে একটি মোবাইল নম্বর লিখে দিয়ে রাতে অবসর সময়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরবর্তীতে মাসুদকে টাকা দিয়ে ছবি ও ফিংগা প্রিন্ট দেন। এ বিষয়টি অভিযুক্ত পরিচ্ছন্নাতা কর্মী মাসুদ বলেন, রাজু বকস সকালে আমার নিকট আসেন ভোটার কার্ডের একটি প্রিন্ট বাহির করার জন্য। আমি অফিসের ফি পেমেন্ট করে তাকে ভোটার আইডি কার্ডের প্রিন্ট বাহির করে দেই। ফি পেমেন্টের রশিদ আমার নিকট আছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাচন অফিসার এমদাদুর রহমান বলেন, মাসুদ পরিচ্ছন্নতা কর্মী। সে অফিসের কোন কাজ করার কথা নয়। আর ভোটার আইডি কার্ডর কোন প্রিন্ট বের করতে টাকা লাগেনা। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখবো।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রাত চাকমা বলেন, ঘটনাটি তাৎক্ষনিক জানালে ভালো হতো। এখন যখন জেনেছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবো।