ডেস্ক রিপোর্ট : এশিয়া কাপে দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। ১৪০ রানের লক্ষ্য তারা মাত্র ১৪.৪ ওভারে ৩২ বল হাতে রেখে ছুঁয়ে ফেলে। ফলে গ্রুপ পর্বের শুরুতেই লঙ্কানরা নেট রান রেটে এগিয়ে গেল।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ভয়াবহ। প্রথম দুই ওভারে তানজিদ ও পারভেজ ফিরলে দল চাপে পড়ে যায়। ৫৩ রানের মধ্যেই পড়ে ৫ উইকেট। এরপর শামীম হোসেন ও জাকের আলীর অবিচ্ছিন্ন ৮৬ রানের রেকর্ড জুটিতে দল পৌঁছায় ১৩৯ রানে। শামীম ৩৪ বলে ৪২* এবং জাকের ৩৪ বলে ৪১* রান করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩৯/৫
শামীম হোসেন: ৪২* (৩৪ বলে, ৩ চার, ১ ছক্কা)
জাকের আলী: ৪১* (৩৪ বলে, ২ চার)
লিটন দাস: ২৮ (২৬ বলে, ৪ চার)
বোলিং (শ্রীলঙ্কা): ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ২/২৫, দুশমন্থ চামিরা ১/২২, নুয়ান থুশারা ১/২৩
শ্রীলঙ্কা: ১৪.৪ ওভারে ১৪০/৪
পাথুম নিসাঙ্কা: ৫০ (৩৪ বলে, ৬ চার, ১ ছক্কা)
কামিল মিশারা: ৪৬* (৩২ বলে, ৪ চার, ২ ছক্কা)
আসালাঙ্কা: ১০* (৪ বলে, ১ ছক্কা)
বোলিং (বাংলাদেশ): মেহেদী হাসান ২/২৯, মোস্তাফিজুর রহমান ১/১৯, তানজিম হাসান সাকিব ১/২২
ফলাফল: শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচের চিত্র
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ভয়াবহ।
প্রথম ওভারে নুয়ান থুশারার বলে শূন্য রানে ফিরেন তানজিদ হাসান।
দ্বিতীয় ওভারে দুশমন্থ চামিরার বলে শূন্য রানে বিদায় নেন পারভেজ হোসেন ইমন।
১৪তম বলে প্রথম রান পেলেও ১৬ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। রান আউট হয়ে ফেরেন তাওহীদ হৃদয় (৪)।
চাপে থাকা অবস্থায় লিটন দাস (২৮) ও মেহেদী হাসান (৯) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও দলীয় ৫৩ রানের মাথায় ৫ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।
এরপর শামীম হোসেন ও জাকের আলীর রেকর্ড ষষ্ঠ উইকেট জুটি দলকে রক্ষা করে। তারা দুজন মিলে ৬১ বলে অবিচ্ছিন্ন ৮৬ রান যোগ করে বাংলাদেশকে সম্মানজনক সংগ্রহে নিয়ে যান। এই জুটি টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের ষষ্ঠ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।
শ্রীলঙ্কার ইনিংস: মিশারা-নিসাঙ্কার ঝড়
১৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুর ধাক্কা সামলে নেয় শ্রীলঙ্কা।
দ্বিতীয় ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান কুশল মেন্ডিসকে (৩) লিটনের ক্যাচে বিদায় করেন।
কিন্তু এরপর ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় পাথুম নিসাঙ্কা ও কামিল মিশারা।
তারা দ্বিতীয় উইকেটে মাত্র ৫২ বলে ৯৫ রান যোগ করেন।
মিশারা ক্যাচ মিস হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। পাওয়ার প্লেতে স্কোর দাঁড়ায় ৫৫/১।
নিসাঙ্কা মাত্র ৩১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন।
১০৮ রানে নিসাঙ্কা আউট হলে বাংলাদেশের কিছুটা আশা জাগলেও মিশারা-আসালাঙ্কা সহজেই জয় নিশ্চিত করেন।
গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস: প্রথম ২ ওভারে দুই ওপেনারের শূন্য রানে বিদায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়।
মিশারার জীবনদান: মাত্র ৩ রানে ক্যাচ মিস হওয়ায় তিনি ইনিংস গড়ার সুযোগ পান, যা বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।
নিসাঙ্কার ঝড়ো ব্যাটিং: ৫০ রানের ইনিংস লঙ্কানদের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেয়।
বোলারদের অবদান
বাংলাদেশের হয়ে মেহেদী হাসান ২ উইকেট নিয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করেছেন। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতা ও ফিল্ডিংয়ের ভুলে তা কোনো কাজে আসেনি। শ্রীলঙ্কার হয়ে হাসারাঙ্গা দুর্দান্ত বল করেছেন, নিয়েছেন ২ উইকেট।
এই হারে বাংলাদেশের পরিস্থিতি
এশিয়া কাপে প্রথম ম্যাচে জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে হারায় বাংলাদেশের সুপার ফোরে যাওয়া কঠিন হয়ে গেল। পরবর্তী ম্যাচগুলো এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা প্রথম ম্যাচ জিতে শুধু আত্মবিশ্বাসই পেল না, নেট রান রেটে এগিয়ে থাকায় গ্রুপ পর্বেও সুবিধাজনক অবস্থায় গেল।
দলীয় একাদশ
বাংলাদেশ: তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, জাকের আলী, মেহেদী হাসান, তানজিম হাসান, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান।
শ্রীলঙ্কা: পাথুম নিসাঙ্কা, কুশল মেন্ডিস (উইকেটরক্ষক), কামিল মিশারা, কুশল পেরেরা, চারিথ আসালাঙ্কা (অধিনায়ক), কামিন্দু মেন্ডিস, দাশুন শানাকা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুশমন্থ চামিরা, মাথিশা পাথিরানা, নুয়ান থুশারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক 




























