বিশেষ প্রতিনিধি: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক ও বিভিন্ন দূর্যোগে উদ্ধার কার্যক্রমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গেল বছরের নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সীমান্তে অভিযান পরিচালনা করে মোট ৭২জন আসামীসহ প্রায় ১শত ৬৪ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানী মালামাল ও সাড়ে ৫কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য আটক করে। বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। এছাড়াও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছে বিজিবি।
বুধবার দূপুরে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন ৪৬বিজিবি শ্রীমঙ্গল সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল বি এম তৌহিদ হাসান, এএফডব্লিউসি,পিএসসি কর্তৃক বিজিবি উত্তর-পূর্ব রিজিয়ন,সরাইল এর পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান।
সেক্টর কমান্ডার তার লিখিত বক্তব্যে জানান, বাংলাদেশের মোট ৪,৪২৭ কিঃ মিঃ (ভারতের সাথে ৪,১৫৬ কিঃ মিঃ এবং মায়ানমারের সাথে ২৭১ কিঃ মিঃ) সীমান্তের মধ্যে সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ১২০৪ কিঃ মিঃ এলাকা বিস্তৃত। এই বিস্তৃত সীমান্তে বিজিবি সরাইল রিজিয়নের ৪টি সেক্টরের অধীনে ১৩টি ইউনিট চোরাচালান প্রতিরোধসহ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রেস বিফিং এ উপস্থিত ছিলেন, শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ, বিজিবি’র অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং মৌলভীবাজার জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের অধীনস্থ ইউনিট সমূহের নিরলস প্রচেষ্টায় গত ১নভেম্বর ২০২৫হতে এপর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযানে ৭২জন আসামীসহ ১শত ৬৪কোটি ১৯লক্ষ ৫০হাজার ৪ শত ৭২ টাকা মূল্যের চোরাচালানী মালামাল ও ৫কোটি ৪৭লক্ষ ৩০ হাজার ২ শত ৯২ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য আটক করে। পাশাপাশি ২টি বিদেশী পিস্তলসহ ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি ম্যাগাজিন, ২ রাউন্ড গোলাবারুদ ও ২৪টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়।
উক্ত প্রেস ব্রিফিং এ তিনি জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন ৪টি সেক্টর (সিলেট, কুমিল্লা, শ্রীমঙ্গল এবং ময়মনসিংহ সেক্টর) এর ১৩টি ব্যাটালিয়নের বিজিবি সদস্যদের ১৭টি জেলার ৫৬টি উপজেলার মোট ৯২টি সংসদীয় আসনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার্থে নিয়োজিত থাকবে। রিজিয়নের সকল বিজিবি সদস্য সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ়ভাবে অংগীকারবদ্ধ।
আসন্ন নির্বাচন যেন অবাধ সুষ্ঠু,নিরপেক্ষ,উৎসবমূখর,স্বতঃস্ফুর্ত ও নির্বিঘে সম্পন্ন হয় সেজন্য বিজিবি কর্তৃক টহল তৎপরতা, গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত সংখ্যক জনবল নিয়োগের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক বেইজ ক্যাম্প স্থাপন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান সমূহে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চেকপোষ্ট স্থাপনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে সকল ভোটকেন্দ্র সমূহ রেকীর কার্যক্রম চলমান রয়েছে ও পর্যায়ক্রমে দ্রুততার সাথে রেকী সম্পন্ন করা হবে।
এছাড়াও নির্বাচনে মোতায়েনকালীন সময়ে যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো ও ত্বরিত কার্যক্রম গ্রহণের নিমিত্তে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব্ পালনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনে অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নিমিত্তে সরাইল রিজিয়নের অধীনস্থ ইউনিট সমূহের সকল বিজিবি সদস্যদের নির্বাচন মোতায়েন পূর্ব প্রশিক্ষণ প্রদান চলমান রয়েছে। নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নিমিত্তে বিজিবি কর্তৃক ড্রোন ও বডি অর্ন ক্যামেরা বিস্তৃতভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারী বৃদ্ধি করা হবে। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন সন্ত্রাসী, দল বা গোষ্ঠী ও অসাধু চক্র যাতে সক্রিয় হতে না পারে এবং সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিজিবি’র টহল তৎপরতা ও গোয়েন্দা নজরদারী ব্যাপক হারে বৃদ্ধির পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, অন্যান্য মাদক ও চোরাচালান, সীমান্ত হত্যাসহ আন্তঃ রাষ্ট্রীয় অপরাধ সংগঠিত না হয় সেজন্য বিজিবি সদস্যদের অক্লান্ত ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে সীমান্তের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা প্রদান নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দারের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত সাধারণ মানুষের মাঝে জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করছে বিজিবি। এসব সভায় আসন্ন নির্বাচনে অপরাধীদের যেকোনো অপতৎপরতা রুখতে এবং তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তা করার জন্য জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের জনগণকে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পাশর্^বর্তী দেশে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক ঘটনার প্রেক্ষিতে সীমান্ত এলাকার স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রতিপক্ষ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় অব্যাহত রাখা হয়েছে। সর্বোপরি আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি’র এই কঠোর নজরদারী অব্যাহত রয়েছে এবং আসছে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

























