5:32 pm, Friday, 22 May 2026

মৌলভীবাজারে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কর্ম-বিরতি: চরম  দুর্ভোগে রোগীরা 

মো: আব্দুল কাইয়ুম: সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতের দাবীতে মৌলভীবাজারে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টরা কর্ম-বিরতি পালন করেছেন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাসপাতালে সেবা নিতে আসা শতশত রোগী। 

রবিবার সকাল ১০ টার দিকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেডিকেল টেকনোলিজস্টদের এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

একঘন্টার ওই কর্মবিরতি চলাকালে মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ঘন্টাব্যাপী বন্ধ থাকে সেবা কার্যক্রম। কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য খাতের বৈষম্য, মানিনা মানব ন , তুমি কে, আমি কে, টেকনোলজিস্ট-ফার্মাসিস্ট, আর নয় কালক্ষেপণ, এবার চাই প্রজ্ঞাপন, সকল ডিপ্লোমা ১০ম গ্রেড, আমরা কেন ১১ গ্রেড সহ নানা প্রতিবাদী শ্লোগান দিতে দেখা যায়। 

আন্দোলনরত মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা জানান, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা স্বাস্থ্য সেবায় রোগ নির্ণয় ও ঔষধ ব্যবস্থাপনা সহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাদান কার্যক্রমে যুক্ত।চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছেন। রোগী সেবার ক্ষেত্রেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এমআরআই, এক্স-রে, সিটিস্ক্যান, নমুনা সংগ্রহ,প্যাথলজিকাল পরীক্ষা, রেডিওথেরাপী,ফিজিওথেরাপী সহ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এ পেশায় যুক্তরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। বছরের পর বছর এ পেশায় যুক্ত থাকা মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা অবহেলিত, নেয়া হয়নি সংস্কারের কোন উদ্যেগও।

তারা জানান, ডিপ্লোমা কোর্সধারীদের মধ্যে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা নার্স ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা ১১ তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেড পদমর্যাদায় উন্নীত হলেও সমশিক্ষার যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের নায্য অধিকার ১০ম গ্রেড লাল ফিতার দৌরাত্মে আজও বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ ১৯৮৯ সাল পরবর্তী সময় থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে অব্যাহতভাবে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবী জানিয়ে আসছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোন প্রদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

এসময় তারা সারাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১১ তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী জানান। এবং ৩ ডিসেম্বরের মাধ্যমে দাবি-দাওয়া না মানলে ৪ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সহ সারাদেশে সার্টডাউন কর্মসূচি পালনের হুশিয়ারী দেন।

একই সময়ে শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, রাজনগর,কুলাউড়া,বড়লেখা, জুড়ী সহ জেলার সবগুলো উপজেলায়ও কেন্দ্র ঘোষিত ওই কর্মসূচি পালিত হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের টেকনোলজিস্ট ও ফার্সাসিস্টরা অদ্যবধি পর্যন্ত ১০ ম গ্রেডে উত্তীর্ণ হননি। আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি অবিলম্বে আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য। 

মৌলভীবাজার জেলায় সিভিন সার্জন কার্যালয়,২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল,বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ স্বাস্থ্য বিভাগে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।  

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি

মৌলভীবাজারে মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের কর্ম-বিরতি: চরম  দুর্ভোগে রোগীরা 

Update Time : 08:21:22 am, Sunday, 30 November 2025

মো: আব্দুল কাইয়ুম: সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় দেশের সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতের দাবীতে মৌলভীবাজারে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টরা কর্ম-বিরতি পালন করেছেন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাসপাতালে সেবা নিতে আসা শতশত রোগী। 

রবিবার সকাল ১০ টার দিকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মেডিকেল টেকনোলিজস্টদের এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

একঘন্টার ওই কর্মবিরতি চলাকালে মৌলভীবাজার সদর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ঘন্টাব্যাপী বন্ধ থাকে সেবা কার্যক্রম। কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য খাতের বৈষম্য, মানিনা মানব ন , তুমি কে, আমি কে, টেকনোলজিস্ট-ফার্মাসিস্ট, আর নয় কালক্ষেপণ, এবার চাই প্রজ্ঞাপন, সকল ডিপ্লোমা ১০ম গ্রেড, আমরা কেন ১১ গ্রেড সহ নানা প্রতিবাদী শ্লোগান দিতে দেখা যায়। 

আন্দোলনরত মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা জানান, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা স্বাস্থ্য সেবায় রোগ নির্ণয় ও ঔষধ ব্যবস্থাপনা সহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাদান কার্যক্রমে যুক্ত।চিকিৎসক-নার্সদের পাশাপাশি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছেন। রোগী সেবার ক্ষেত্রেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এমআরআই, এক্স-রে, সিটিস্ক্যান, নমুনা সংগ্রহ,প্যাথলজিকাল পরীক্ষা, রেডিওথেরাপী,ফিজিওথেরাপী সহ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এ পেশায় যুক্তরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। বছরের পর বছর এ পেশায় যুক্ত থাকা মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা অবহেলিত, নেয়া হয়নি সংস্কারের কোন উদ্যেগও।

তারা জানান, ডিপ্লোমা কোর্সধারীদের মধ্যে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা নার্স ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা ১১ তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেড পদমর্যাদায় উন্নীত হলেও সমশিক্ষার যোগ্যতা থাকা স্বত্বেও ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের নায্য অধিকার ১০ম গ্রেড লাল ফিতার দৌরাত্মে আজও বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ ১৯৮৯ সাল পরবর্তী সময় থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে অব্যাহতভাবে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবী জানিয়ে আসছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোন প্রদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

এসময় তারা সারাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১১ তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী জানান। এবং ৩ ডিসেম্বরের মাধ্যমে দাবি-দাওয়া না মানলে ৪ ডিসেম্বর মৌলভীবাজার সহ সারাদেশে সার্টডাউন কর্মসূচি পালনের হুশিয়ারী দেন।

একই সময়ে শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, রাজনগর,কুলাউড়া,বড়লেখা, জুড়ী সহ জেলার সবগুলো উপজেলায়ও কেন্দ্র ঘোষিত ওই কর্মসূচি পালিত হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের টেকনোলজিস্ট ও ফার্সাসিস্টরা অদ্যবধি পর্যন্ত ১০ ম গ্রেডে উত্তীর্ণ হননি। আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাচ্ছি অবিলম্বে আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য। 

মৌলভীবাজার জেলায় সিভিন সার্জন কার্যালয়,২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল,বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ স্বাস্থ্য বিভাগে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।