8:29 pm, Tuesday, 21 April 2026

অক্সিজেনের ঘাটতি কেন হয়? জেনে নিন প্রতিকারের উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর থেকে যেসব জিনিস আমাদের পরিচিত হয়ে উঠেছে তার ভেতরে একটি হলো অক্সিমিটার। করোনাভাইরাসের অন্যতম লক্ষণ হলো শরীরে অক্সিজেন কমে যাওয়া। তাই মানুষ এ বিষয়ে সচেতন হচ্ছেন। রক্তে অক্সিজেন শুধু করোনাভাইরাসের কারণেই কমে না, অন্যান্য অসুখের কারণেও হতে পারে। তবে এটি কোনো অসুখ নয়, উপসর্গ। এই উপসর্গ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিতে হবে, দেরি করার কোনো সুযোগ নেই।

কাদের ঝুঁকি বেশি?

সুস্থ মানুষের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা থাকে ৯০-১০০ শতাংশ। এর নিচে নেমে গেলেই সমস্যা দেখা দেয়। এ সমস্যা হতে পারে ক্রনিক কোনো অসুখের কারণে অথবা হঠাৎ করেই। ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডি‌জিজ বা সিওপিডি, অ্যাজমা ইত্যাদি সমস্যার ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে অক্সিজেনের ঘাটতি। এসব ক্ষেত্রে অক্সিজেনের মাত্রা ৯০ এর নিচে নেমে গেলেই চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।

রক্তে অক্সিজেন বহন করে হিমোগ্লোবিন। যে কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষ করে যারা অ্যানিমিয়ার রোগী তাদের বাড়তি সচেতন থাকতে হবে। এ কারণে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত।

অনেক সময় বদ্ধ জায়গায় থাকলে দেখা দিতে পারে অক্সিজেন সংকট বা হাইপক্সিয়া। যাদের হার্টে ব্লক রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে রোগীর বুকে ব্যথা হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনাবশত শ্বাসনালিতে খাবার আটকে গিয়েও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নিয়মিত খেয়াল রাখতে হবে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত অক্সিজেনের মাত্রা মেপে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এই মাত্রা ৯০ এর নিচে নেমে গেলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ করোনা রোগীর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। করোনাভাইরাস ফুসফুসে ঢুকে অ্যালভিওলাই ও ফুসফুসের থলিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে ফুসফুস ঠিকভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে না।

কী করবেন?

করোনার এই সময়ে ভিড়ের মধ্যে গেলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। আবার এক জায়গায় অনেক মানুষ থাকলে সেখানে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায় অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকে। ফলে ভিড়ের ভেতর মাস্ক পরে থাকলে শ্বাসকষ্ট হবে। কিন্তু সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক ছাড়া চলা যাবে না। তাই ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে।

আপনি যদি নিজের গাড়িতে একা থাকেন তবে মাস্ক ছাড়াও থাকতে পারেন। কিন্তু গাড়িতে অন্য কেউ থাকলে দুজনকেই মাস্ক পরতে হবে।

যেকোনো রকম শরীরচর্চার সময় মাস্ক পরা যাবে না। কারণ এতে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এমন কোনো জায়গায় শরীরচর্চা করুন, যেখানে মানুষ কম।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

অক্সিজেনের ঘাটতি কেন হয়? জেনে নিন প্রতিকারের উপায়

Update Time : 07:19:19 am, Wednesday, 28 April 2021

লাইফস্টাইল ডেস্ক: করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর থেকে যেসব জিনিস আমাদের পরিচিত হয়ে উঠেছে তার ভেতরে একটি হলো অক্সিমিটার। করোনাভাইরাসের অন্যতম লক্ষণ হলো শরীরে অক্সিজেন কমে যাওয়া। তাই মানুষ এ বিষয়ে সচেতন হচ্ছেন। রক্তে অক্সিজেন শুধু করোনাভাইরাসের কারণেই কমে না, অন্যান্য অসুখের কারণেও হতে পারে। তবে এটি কোনো অসুখ নয়, উপসর্গ। এই উপসর্গ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিতে হবে, দেরি করার কোনো সুযোগ নেই।

কাদের ঝুঁকি বেশি?

সুস্থ মানুষের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা থাকে ৯০-১০০ শতাংশ। এর নিচে নেমে গেলেই সমস্যা দেখা দেয়। এ সমস্যা হতে পারে ক্রনিক কোনো অসুখের কারণে অথবা হঠাৎ করেই। ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডি‌জিজ বা সিওপিডি, অ্যাজমা ইত্যাদি সমস্যার ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে অক্সিজেনের ঘাটতি। এসব ক্ষেত্রে অক্সিজেনের মাত্রা ৯০ এর নিচে নেমে গেলেই চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।

রক্তে অক্সিজেন বহন করে হিমোগ্লোবিন। যে কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে সতর্ক হওয়া জরুরি। বিশেষ করে যারা অ্যানিমিয়ার রোগী তাদের বাড়তি সচেতন থাকতে হবে। এ কারণে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত।

অনেক সময় বদ্ধ জায়গায় থাকলে দেখা দিতে পারে অক্সিজেন সংকট বা হাইপক্সিয়া। যাদের হার্টে ব্লক রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর ফলে রোগীর বুকে ব্যথা হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনাবশত শ্বাসনালিতে খাবার আটকে গিয়েও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নিয়মিত খেয়াল রাখতে হবে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত অক্সিজেনের মাত্রা মেপে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এই মাত্রা ৯০ এর নিচে নেমে গেলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ করোনা রোগীর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। করোনাভাইরাস ফুসফুসে ঢুকে অ্যালভিওলাই ও ফুসফুসের থলিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে ফুসফুস ঠিকভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে না।

কী করবেন?

করোনার এই সময়ে ভিড়ের মধ্যে গেলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। আবার এক জায়গায় অনেক মানুষ থাকলে সেখানে কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায় অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকে। ফলে ভিড়ের ভেতর মাস্ক পরে থাকলে শ্বাসকষ্ট হবে। কিন্তু সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক ছাড়া চলা যাবে না। তাই ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে।

আপনি যদি নিজের গাড়িতে একা থাকেন তবে মাস্ক ছাড়াও থাকতে পারেন। কিন্তু গাড়িতে অন্য কেউ থাকলে দুজনকেই মাস্ক পরতে হবে।

যেকোনো রকম শরীরচর্চার সময় মাস্ক পরা যাবে না। কারণ এতে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে পারে। এমন কোনো জায়গায় শরীরচর্চা করুন, যেখানে মানুষ কম।