বড়লেখা প্রতিনিধি:
বড়লেখা উপজলার হাকালুকি হাওরপারের দরিদ্র জনসাধারণের চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সরকার উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের কানুনগোবাজারে প্রতিষ্ঠা করেছিল ‘হাকালুকি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র’। তালিমপুর ইউনিয়নে এই সাব-সেন্টারটির অবস্থান হলেও মুলত এটি উপজেলার হাকালুকি হাওরপারের তালিমপুর, সুজানগর ও দাসেরবাজার ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক প্রান্তিক মানুষজনের একমাত্র চিকিৎসাস্থল।
প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেই মেডিকেল অসিফার, মিডওয়াইফ, ফার্মাসিষ্ট ও অফিস সহায়ক। নেই প্রয়োজনীয় ওষুধপাতিও। একজন উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারই যেন এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভরসা। তিনি ছুটিতে কিংবা অসুস্থ হয়ে পড়লে তালা ঝুলে হাসপাতালটিতে।
জনবল সংকটে বছরের পর বছর হাওরপারের কয়েক হাজার দরিদ্র জনগোষ্ঠী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। স্বাস্থ্য কেন্দ্রেটি অনেকটা অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকায় এর মূল্যবান ভূমির ওপরও লুলোপ দৃষ্টি পড়ছে স্থানীয় ভূমি খেকোদের। রক্ষণাবেক্ষনের নজরদারি না থাকায় সন্ধ্যার পর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি হয়ে ওঠে বখাটেদের আড্ডাস্থল ও কানুনগোবাজারের লোকজনের প্র¯্রাব ও মলমুত্র ত্যাগের নিরাপদ স্থান।
হাকালুকি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের (সরকারি হাসপাতালটির) চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন, চিকিৎসকের নিয়মিত উপস্থিতি, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের দাবিতে ৩ আগষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরাবর শতাধিক এলাকাবাসি স্বাক্ষরিত লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
লিখিত আবেদনে হাকালুকি (পশ্চিম) হাওরাঞ্চলের ভুক্তভোগি এলাকাবাসি জানান, এখান থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। দরিদ্র জনসাধারণের পক্ষে সেখানে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয়না। ফলে এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও নি¤œ আয়ের মানুষের চিকিৎসা গ্রহণের একমাত্র ভরসাস্থল হাকালুকি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। একসময় এই হাসপাতালে চিকিৎসক সহ পর্যাপ্ত জনবল থাকায় সাধারণ মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা পেতেন। কিন্তু প্রায় পাঁচ বছর ধরে এলাকাবাসি এখানে পাননা প্রয়োজনীয় ওষুধ, এমবিবিএস ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ-সহ অন্যান্য পদের জনবল।
এলাকাবাসী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি, ওষুধ সরবরাহ ও বিতরণ নিশ্চিতসহ ছয় দফা দাবি তোলে ধরেছেন। দাবিগুলো হচ্ছে- হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও সরকারি ওষুধ বিতরণ সংক্রান্ত সকল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত এবং সকল কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাপ্তরিক সময় মেনে উপস্থিত থাকা। সরকারি ওষুধ শতভাগ বিনামূল্যে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে রোগীদের মাঝে বিতরণ এবং এ বিষয়ে নিয়মিত মনিটরিং। হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবা, জনবল ও অবকাঠামো শক্তিশালী করে হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌস আক্তার জানান, হাকালুকি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন এমবিবিএস মেডিকেল অফিসার সহ মঞ্জুরীকৃত ৫টি পদ রয়েছ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মাত্র একজন উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ব্যতিত অপর চারটি পদ শূন্য রয়েছে। জনবল সংকট নিরসন ও গভীর নলকুপ, সীমানা প্রাচীর নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পত্র প্রেরণ করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 

























