11:29 pm, Friday, 6 November 2026

আটলেটিকোকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় লিভারপুল

ক্রীড়া ডেস্ক::শুরুতেই জোড়া গোল খেয়ে বসল আটলেটিকো মাদ্রিদ। সেবার ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ লড়াই করলেও এবার তার কিছুই পারল না দলটি। উল্টো প্রথমার্ধেই ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ল তারা। সুযোগ পেয়ে পুরোটা সময় আধিপত্য করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিল লিভারপুল। গ্রুপ পর্বে বুধবার রাতে অ্যানফিল্ডে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছে ইয়ুর্গেন ক্লপের দলটি।

মৌসুমে দারুণ ছন্দে এগিয়ে চলা লিভারপুল এদিনও শুরুটা করে দুর্দান্ত। আগের দেখায় প্রথম ১৩ মিনিটে দুই গোল করা দলটি এবার একই কাজ করে ২১ মিনিটের মধ্যে। এবার ১৩ মিনিটে ডান দিক দিয়ে ওঠা আক্রমণে দলকে এগিয়ে নেন জটা। ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের ছয় গজ বক্সের মুখে বাড়ানো ক্রসে হেডে প্রথম গোলটি করেন অরক্ষিত এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক।

দ্বিতীয় গোলটিতেও জড়িয়ে অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের নাম। এবার ইংলিশ এই ডিফেন্ডার ডান দিক থেকেই কোনাকুনিভাবে ডি-বক্সে থ্রু বল বাড়ান। আর ডিফেন্ডার ফেলিপেকে চোখের পলকে পেছনে ফেলে বাঁ পায়ের স্লাইডে ব্যবধান গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মানে।

গত মাসে ঘরের মাঠে শুরুতে দুই গোল খেলেও অল্প সময়ের মধ্যে ঘ্ুেরও দাঁড়িয়েছিল আতলেতিকো। কিন্তু এবার তেমন কোনো সম্ভাবনাও বলতে গেলে শেষ হয়ে যায় ৩৬তম মিনিটে। মানেকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ফেলিপে। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন লুইস সুয়ারেস।

খেলোয়াড় কমার খানিক পরই আরেক গোল খেতে পারতো আটলেটিকো। তবে ইয়ান ওবলাকের ডাবল সেভে ম্যাচে থাকে তারা। প্রথমে মোহামেদ সালাহর শট ঠেকানোর পর জটার হেডও রুখে দেন স্লোভেনিয়ার এই গোলরক্ষক।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও আটলেটিকোর জালে বল জড়ায়। তবে এবার স্কোরার মাতিপ অফসাইডে থাকায় ব্যবধান বাড়েনি। ৫২ ও ৫৪তম মিনিটে দারুণ দুটি সুযোগ নষ্ট হয় লিভারপুলের। প্রথমে খুব কাছ থেকে সালাহর শট ওবলাক ফিরিয়ে দেন। এর পর জটা অরক্ষিত থেকেও ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন।

খানিক পর সুয়ারেসের শট একজনের গায়ে লেগে জালে জড়ালে ক্ষনিকের জন্য ব্যবধান কমানোর স্বস্তি পেয়েছিল আতলেতিকো; তবে ভিএআরে তা বাতিল হয়ে যায়। অফসাইডে ছিলেন আটলেটিকোর হিমেনেস।

৮৬তম মিনিটে সালাহও একবার জালে বল পাঠান। তবে তার আগ মুহূর্তে জটা ভলির চেষ্টায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ট্রিপিয়ারের মুখে পা দিয়ে আঘাত করায় ফাউলের বাঁশি বাজে।

টানা চার জয়ে ১২ পয়েন্টে গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত হয়ে গেছে লিভারপুলের। পোর্তো সমান চার ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে আছে দুইয়ে। তিন নম্বরে আটলেটিকো মাদ্রিদের পয়েন্ট ৪।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

সাংবাদিক এহসানুল হকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

আটলেটিকোকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় লিভারপুল

Update Time : 07:11:22 am, Thursday, 4 November 2021

ক্রীড়া ডেস্ক::শুরুতেই জোড়া গোল খেয়ে বসল আটলেটিকো মাদ্রিদ। সেবার ঘুরে দাঁড়িয়ে দারুণ লড়াই করলেও এবার তার কিছুই পারল না দলটি। উল্টো প্রথমার্ধেই ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ল তারা। সুযোগ পেয়ে পুরোটা সময় আধিপত্য করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা চতুর্থ জয় তুলে নিল লিভারপুল। গ্রুপ পর্বে বুধবার রাতে অ্যানফিল্ডে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছে ইয়ুর্গেন ক্লপের দলটি।

মৌসুমে দারুণ ছন্দে এগিয়ে চলা লিভারপুল এদিনও শুরুটা করে দুর্দান্ত। আগের দেখায় প্রথম ১৩ মিনিটে দুই গোল করা দলটি এবার একই কাজ করে ২১ মিনিটের মধ্যে। এবার ১৩ মিনিটে ডান দিক দিয়ে ওঠা আক্রমণে দলকে এগিয়ে নেন জটা। ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের ছয় গজ বক্সের মুখে বাড়ানো ক্রসে হেডে প্রথম গোলটি করেন অরক্ষিত এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক।

দ্বিতীয় গোলটিতেও জড়িয়ে অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের নাম। এবার ইংলিশ এই ডিফেন্ডার ডান দিক থেকেই কোনাকুনিভাবে ডি-বক্সে থ্রু বল বাড়ান। আর ডিফেন্ডার ফেলিপেকে চোখের পলকে পেছনে ফেলে বাঁ পায়ের স্লাইডে ব্যবধান গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মানে।

গত মাসে ঘরের মাঠে শুরুতে দুই গোল খেলেও অল্প সময়ের মধ্যে ঘ্ুেরও দাঁড়িয়েছিল আতলেতিকো। কিন্তু এবার তেমন কোনো সম্ভাবনাও বলতে গেলে শেষ হয়ে যায় ৩৬তম মিনিটে। মানেকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ফেলিপে। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন লুইস সুয়ারেস।

খেলোয়াড় কমার খানিক পরই আরেক গোল খেতে পারতো আটলেটিকো। তবে ইয়ান ওবলাকের ডাবল সেভে ম্যাচে থাকে তারা। প্রথমে মোহামেদ সালাহর শট ঠেকানোর পর জটার হেডও রুখে দেন স্লোভেনিয়ার এই গোলরক্ষক।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও আটলেটিকোর জালে বল জড়ায়। তবে এবার স্কোরার মাতিপ অফসাইডে থাকায় ব্যবধান বাড়েনি। ৫২ ও ৫৪তম মিনিটে দারুণ দুটি সুযোগ নষ্ট হয় লিভারপুলের। প্রথমে খুব কাছ থেকে সালাহর শট ওবলাক ফিরিয়ে দেন। এর পর জটা অরক্ষিত থেকেও ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন।

খানিক পর সুয়ারেসের শট একজনের গায়ে লেগে জালে জড়ালে ক্ষনিকের জন্য ব্যবধান কমানোর স্বস্তি পেয়েছিল আতলেতিকো; তবে ভিএআরে তা বাতিল হয়ে যায়। অফসাইডে ছিলেন আটলেটিকোর হিমেনেস।

৮৬তম মিনিটে সালাহও একবার জালে বল পাঠান। তবে তার আগ মুহূর্তে জটা ভলির চেষ্টায় প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ট্রিপিয়ারের মুখে পা দিয়ে আঘাত করায় ফাউলের বাঁশি বাজে।

টানা চার জয়ে ১২ পয়েন্টে গ্রুপের শীর্ষস্থানও নিশ্চিত হয়ে গেছে লিভারপুলের। পোর্তো সমান চার ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে আছে দুইয়ে। তিন নম্বরে আটলেটিকো মাদ্রিদের পয়েন্ট ৪।