7:11 pm, Thursday, 13 August 2026

কুলাউড়ায় লেবু পাড়াকে কেন্দ্র করে বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় গাছ থেকে লেবু পাড়াকে কেন্দ্র করে এক বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৭ এপ্রিল মঙ্গলবার উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের উত্তর তিলাশীজুড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষ থেকে কুলাউড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় ও থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের উত্তর তিলাশীজুড়া এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ আকমল আলীর পরিবারের সাথে একই এলাকার বাসিন্দা মৃত খন্দকার রশীদ মিয়ার ছেলে নাহিদ খন্দকার আতোয়ারের পরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। উক্ত বিরোধের জেরে ঘটনার দিন মঙ্গলবার রাতে তারাবীর নামাজ চলাকালীন সময়ে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি নাহিদ খন্দকার আতোয়ারের নেতৃত্বে তাঁর সহযোগী খন্দকার আখলাছ মিয়া, খন্দকার মিলন মিয়া, জসিম মিয়া, ইব্রাহিম মিয়া, খন্দকার ফারুক মিয়া ও খন্দকার খয়রুল মিয়ারসহ একদল লোক মোটরসাইকেল যোগে সন্ত্রাসী কায়দায় বসতবাড়িতে এসে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাংচুর করেন। হামলার পর আতোয়ারের নেতৃত্বে দুটি মোটরসাইকেলসহ কয়েকজন যুবককে স্থানীয় আমতলা বাজার এলাকায় অবস্থান করার মুহুর্ত একটি ভিডিও ফুটেজে তাদের দেখা যায়। এর আগে ওইদিন দুপুরে আকমল আলীর বসতবাড়ির পাশে সরকারি রাস্তার ওপর তাদের লাগানো লেবু গাছ থেকে ৫টি লেবু পাড়েন নাহিদ খন্দকার আতোয়ার। এসময় লেবু পাড়ার কারণ জানতে চাইলে আকমল আলীর ছেলে কুলাউড়া শহরের ব্যবসায়ী শাহ জাফরান মামুনের সাথে কথা কাটাকাটি হয় আতোয়ারের। এসময় মামুনকে মারধর করেন আতোয়ার। বাঁধা দিতে গেলে মামুনের পিতা আকমল আলীর বাম পাতে দা দিয়ে ছেদ মারেন আতোয়ার। এরপর আকমল আলী ও তার ছেলে মামুন কুলাউড়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার এস আই হাবিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে আকমল আলীর ছেলে মামুন বলেন, আমরা প্রায় ১৫ বছর থেকে বসতবাড়ির পাশে লাগানো লেবু গাছ থেকে লেবু চাষ করে আসছি। ঘটনার দিন জোরপূর্বকভাবে এলাকার প্রভাবশালী আতোয়ার গাছ থেকে লেবু পাড়ে। এসময় আমি বাঁধা দিতে গেলে সে আমাকে ও আমার পিতাকে অন্যায়ভাবে মারধর করে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে একটি বিশেষ মহলের নির্দেশে আমাকে প্রায় ১০ ঘন্টা আটকে রাখা হয়। এছাড়া থানায় কোন মামলা করলে সে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশ ও গুম করার হুমকি দিচ্ছে। আমরা ন্যায় বিচার চাই।
এ ব্যাপারে নাহিদ খন্দকার আতোয়ার বলেন, আমার খরিদাকৃত একটি পুকুরের জায়গার ওপর লেবু গাছটি পড়েছে। ঘটনার দিন আমি গাছ থেকে লেবু পাড়তে গেলে মামুন আমাকে বাঁধা দেয় এবং আমাকে মারধর করে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। বিচারে যে রায় হবে সেটা মেনে নিবো।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জামাল বলেন, গাছ থেকে লেবু পাড়া নিয়ে মামুন ও আতোয়ারের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করার জন্য উভয়পক্ষকে নিয়ে খুবই দ্রুত বৈঠকে বসবো।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনর্চাজ বিনয় ভূষণ রায় বলেন, দু’পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে কিন্তুু মামলা দায়ের করতে কেউ আগ্রহী নয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে মীমাংসা করা হবে মর্মে উভয়পক্ষ থানায় মুছলেকা দিয়েছে।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কমলগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের ‘সেলফ কর্ণার সার্ভিস’ উদ্বোধনের মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেনের যাত্রা শুরু

কুলাউড়ায় লেবু পাড়াকে কেন্দ্র করে বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ

Update Time : 07:53:11 am, Monday, 3 May 2021

বিশেষ প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় গাছ থেকে লেবু পাড়াকে কেন্দ্র করে এক বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৭ এপ্রিল মঙ্গলবার উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের উত্তর তিলাশীজুড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের পক্ষ থেকে কুলাউড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় ও থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের উত্তর তিলাশীজুড়া এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ আকমল আলীর পরিবারের সাথে একই এলাকার বাসিন্দা মৃত খন্দকার রশীদ মিয়ার ছেলে নাহিদ খন্দকার আতোয়ারের পরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। উক্ত বিরোধের জেরে ঘটনার দিন মঙ্গলবার রাতে তারাবীর নামাজ চলাকালীন সময়ে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি নাহিদ খন্দকার আতোয়ারের নেতৃত্বে তাঁর সহযোগী খন্দকার আখলাছ মিয়া, খন্দকার মিলন মিয়া, জসিম মিয়া, ইব্রাহিম মিয়া, খন্দকার ফারুক মিয়া ও খন্দকার খয়রুল মিয়ারসহ একদল লোক মোটরসাইকেল যোগে সন্ত্রাসী কায়দায় বসতবাড়িতে এসে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ঘরবাড়ি ভাংচুর করেন। হামলার পর আতোয়ারের নেতৃত্বে দুটি মোটরসাইকেলসহ কয়েকজন যুবককে স্থানীয় আমতলা বাজার এলাকায় অবস্থান করার মুহুর্ত একটি ভিডিও ফুটেজে তাদের দেখা যায়। এর আগে ওইদিন দুপুরে আকমল আলীর বসতবাড়ির পাশে সরকারি রাস্তার ওপর তাদের লাগানো লেবু গাছ থেকে ৫টি লেবু পাড়েন নাহিদ খন্দকার আতোয়ার। এসময় লেবু পাড়ার কারণ জানতে চাইলে আকমল আলীর ছেলে কুলাউড়া শহরের ব্যবসায়ী শাহ জাফরান মামুনের সাথে কথা কাটাকাটি হয় আতোয়ারের। এসময় মামুনকে মারধর করেন আতোয়ার। বাঁধা দিতে গেলে মামুনের পিতা আকমল আলীর বাম পাতে দা দিয়ে ছেদ মারেন আতোয়ার। এরপর আকমল আলী ও তার ছেলে মামুন কুলাউড়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার এস আই হাবিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে আকমল আলীর ছেলে মামুন বলেন, আমরা প্রায় ১৫ বছর থেকে বসতবাড়ির পাশে লাগানো লেবু গাছ থেকে লেবু চাষ করে আসছি। ঘটনার দিন জোরপূর্বকভাবে এলাকার প্রভাবশালী আতোয়ার গাছ থেকে লেবু পাড়ে। এসময় আমি বাঁধা দিতে গেলে সে আমাকে ও আমার পিতাকে অন্যায়ভাবে মারধর করে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে একটি বিশেষ মহলের নির্দেশে আমাকে প্রায় ১০ ঘন্টা আটকে রাখা হয়। এছাড়া থানায় কোন মামলা করলে সে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে প্রাণনাশ ও গুম করার হুমকি দিচ্ছে। আমরা ন্যায় বিচার চাই।
এ ব্যাপারে নাহিদ খন্দকার আতোয়ার বলেন, আমার খরিদাকৃত একটি পুকুরের জায়গার ওপর লেবু গাছটি পড়েছে। ঘটনার দিন আমি গাছ থেকে লেবু পাড়তে গেলে মামুন আমাকে বাঁধা দেয় এবং আমাকে মারধর করে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। বিচারে যে রায় হবে সেটা মেনে নিবো।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জামাল বলেন, গাছ থেকে লেবু পাড়া নিয়ে মামুন ও আতোয়ারের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করার জন্য উভয়পক্ষকে নিয়ে খুবই দ্রুত বৈঠকে বসবো।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনর্চাজ বিনয় ভূষণ রায় বলেন, দু’পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে কিন্তুু মামলা দায়ের করতে কেউ আগ্রহী নয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে মীমাংসা করা হবে মর্মে উভয়পক্ষ থানায় মুছলেকা দিয়েছে।