কুলাউড়া প্রতিনিধি: কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের মধ্য মুকুন্দপুর জামে মসজিদে শিন্নি বিতরণের দাওয়াত দেয়াকে কেন্দ্র করে মসজিদে যোহরের নামাজের সময় তালা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
১৮ জুলাই দুপুরে মুকুন্দপুর গ্রামের শিশু রাব্বি (১২) এর কুলখানির মিলাদ ও শিন্নি দেয়ার জন্য মধ্য মুকুন্দপুর জামে মসজিদে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। এ সময় মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. রমজান আলী/সম্পাদক আব্দুল মুকিত মসজিদে তালা মেরে মসজিদের ভারপ্রাপ্ত ইমাম মো. রায়হানকে নিয়ে চলে যান। এ সময় যোহরের আজান না হওয়া এবং নামাজ আদায় করতে পারেননি মুসল্লিরা বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় পঞ্চায়েতের উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. রমজান আলীকে গত শনিবার মৃত শিশু রাব্বির পরিবারের পক্ষ থেকে মিলাদ ও শিন্নির দাওয়াত প্রদানের দায়িত্ব না দেয়ায় ক্ষোভে তিনি মঙ্গলবার কুলখানির মিলাদ ও শিন্নি বিতরণ করতে দেননি মধ্য মুকুন্দপুর জামে মসজিদে। পরে উপস্থিত স্থানীয় মুসল্লিরা মসজিদের বাইরে মিলাদ পড়ে শিন্নি বিতরণ করে চলে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও মৃত শিশু রাব্বির চাচা মো. মন্তর মিয়া জানান, মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. রমজান আলী/ সম্পাদক আব্দুল মুকিত মসজিদ তালা মেরে নামাজ আদায়ে বাধা প্রদান ও মিলাদ এবং শিন্নি বিতরণে বাধার বিষয়টি চরম নিন্দনীয় একটি কাজ। আমাদের অপরাধ শুধু একটাই আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে উনার সাথে পরামর্শ না করে এবং পঞ্চায়েতে দাওয়াত প্রদানের দায়িত্ব কেন দিলাম না? এজন্য তিনি আমাদের সাথে ক্ষোভে এমন ছোট মনের পরিচয় দিয়েছেন। এ বিষয়টি আমরা স্থানীয় ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান ও কুলাউড়া থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লিটন মিয়া বলেন, এলাকায় এরকম একটি ঘটনা একটি নিন্দনীয়। আমি এলাকার বাইরে থাকায় ঘটনার বিস্তারিত জানা নেই।
সাবেক ইউপি সদস্য ও মসজিদের দাতা পরিবারের সদস্য মো. নোমান আহমদ জানান, মসজিদের সভাপতি দ্বারা মসজিদে তালা মেরে একটি পক্ষকে মিলাদ ও শিন্নি বিতরণে বাধা প্রদানের কাজ ঘটায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতির মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে মসজিদ কমিটির সম্পাদক আব্দুল মুকিত জানান, মসজিদে মিলাদ ও শিন্নির বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না। ভারপ্রাপ্ত ইমাম একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন বিধায় অনেক সময় যোহরের নামাজে আসতে পারেন না। মিলাদ ও শিন্নি বিতরণের বাধার বিষয়ে তিনি আরো বলেন, অভিযোগকারী মো. মন্তর মিয়া এলাকার মানুষের সাথে কোনো যোগাযোগ নাই। উনি কোথায় থাকেন, কি করেন আমরা তা জানিনা। এ বিষয়ে কোনো কিছু বোঝার থাকলে আগামী শুক্রবার পঞ্চায়েতে এসে তিনি বিষয়টি উপস্থাপন করলে আমরা তাকে সাবির্ক সহযোগিতা করব।
এ ব্যাপারে রাউৎগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি। উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনাক্রমে বিরোধের নিষ্পত্তি করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 























