ডেস্ক রিপোর্ট :: চট্টগ্রামে আগামীকাল তৃতীয় ওয়ানডের আগে আজ সংবাদ সম্মেলন হয়ে উঠলো নাহিদময়। বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ শন টেইটের পর নিউজিল্যান্ডের মিডিয়া ম্যানেজার ক্যালাম কর্নওয়ে এবং কিউই পেসারি উইল ও’রুর্ক ছিলেন নাহিদ বন্দনায়।
বিশেষ করে টেইটকে, নাহিদকে নিয়ে নানা রকম প্রশ্নের উত্তর দিতে হলো। নিজেকে নাহিদের চেয়েও পিছিয়ে রাখছেন বাংলাদেশের এই পেস বোলিং কোচ।
শুধু তাই নয়, নাহিদের ইয়র্কার দেখে পাকিস্তানের সাবেক পেসার ওয়াকার ইউনুসের কথা মনে পড়ছে তার!
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শন টেইটের ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ না হলেও গতির কারণে তিনি ছিলেন আলাদা এক পেসার। নিয়মিতই ঘণ্টায় প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার গতিতে বল ছুড়তে পারতেন।
বিশেষ করে ২০১০ সালে একটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে গতি মাপার যন্ত্রে তার বলের গতি ধরা পড়ে ঘণ্টায় ১৬০.৭ কিলোমিটার। সেই শন টেইটকে পেয়ে তরুণ পেসার নাহিদ রানাও ভয়ংকর রূপ ছড়াচ্ছেন।
মিরপুরে সমতার ফেরার ম্যাচে শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন নাহিদ। পুরো ইনিংসজুড়ে গতিময় বোলিং করে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখেন এই পেসার। ১০ ওভারে ৩২ রান খরচ করে তুলে নেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফাইফার। উইকেট নেওয়া বলগুলোর কোনোটাই ১৪১ কিলোমিটারের কম গতিতে করেননি।
বোলিং কোচ টেইটের চাওয়া গতিময় বোলিংয়ের উপরই ভরসা রাখুক নাহিদ, ‘তার ভান্ডারে স্লোয়ার বল আছে, কিন্তু যদি প্রয়োজন না পড়ে, তাহলে সেটা ব্যবহার করার দরকার নেই। অন্যদের যেখানে বাধ্য হয়ে গতির পরিবর্তন করতে হয়, নাহিদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন। তার বিধ্বংসী বাউন্সার আছে। অনেক বোলার, যারা ১৩০ কিমি গতিতে বল করেন, তাদের ও রকম বাউন্সার নেই, তাই স্লোয়ার বল ছাড়া তাদের উইকেট নেওয়ার সুযোগ কম থাকে।’
টেইট আরও বলেন, ‘নাহিদ রানার ক্ষেত্রে বিষয়টা ঠিক উল্টো। বর্তমানে সে তার গতি আর বাউন্স ব্যবহার করে শর্ট বলে প্রচুর উইকেট পাচ্ছে। সে যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছেলে; সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও নতুন কিছু শিখবে। তবে এই মুহূর্তে আমি চাই, সে বিষয়গুলোকে সহজ রাখুক এবং স্রেফ জোরে বল করে যাক।’
পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনুস। প্রতিপক্ষ ব্যাটরাদের নাকানি-চুবানি খাইয়ে ছাড়তেন তিনি। তার ইয়র্কার বোলিংয়ে সামনে খাবি খেতেন ব্যাটাররা। নাহিদের ইয়র্কার দেখে টেইটের ওয়াকার ইউনুসের কথা মনে পড়ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানালেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ, ‘গত ম্যাচে নাহিদের যেটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে, সেটা ইয়র্কার। আমাকে ওয়াকার ইউনিসের দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল তা। ফাস্ট বোলার আসবে, টপ অর্ডারে উইকেট নেবে, লেজের ব্যাটসম্যানদেরও ফিরিয়ে দেবে। আমি এটা পছন্দ করি ব্যক্তিগতভাবে।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটে নাহিদকে বড় সম্পদ হিসেবে দেখছেন টেইট, ‘এমন কন্ডিশনে এভাবে বোলিং করতে পারা প্রমাণ করে তার ফিটনেস কতটা দারুণ। এটিই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। প্রচণ্ড গরমে যদি সে ১০ ওভার টানা দৌড়াতে পারে এবং ওই গতিতে বোলিং করতে পারে, সেটি খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। সে সত্যিই দলের একটি সম্পদ। নিয়মিত খেলার সুযোগ পেতে হয়তো তার কিছুটা সময় লেগেছে। এখন সে তার সামর্থ্য প্রমাণ করছে। পিএসএল খেলার সময় তাকে নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। বিশ্ব এখন তাকে একটু একটু করে চিনতে শুরু করেছে। স্বাভাবিকভাবেই যখন কোনো তরুণ বোলার ১৪৫ বা ১৫০ গতিতে বোলিং করে, তখন তাকে নিয়ে আলোচনা ও রোমাঞ্চ তৈরি হয়।’
নাহিদকে দেখে কি পুরোনো দিনের স্মৃতিগুলোও মনে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এ পেসারের। যদিও নিজেকে নাহিদের চেয়ে পিছিয়েই রাখছেন টেইট, ‘অনেক মিল আছে, কিন্তু কিছু পার্থক্যও আছে। সে খুব ফিট, আমি এতটা ছিলাম না। আরও ভারী শরীর ছিল, জোরে বল করা কঠিন ছিল। কিন্তু তাকে দেখে মনে হয়, কাজটা খুব সহজ, সে খুব ভালো অ্যাথলেট। খুবই পাতলা আর শক্তিশালী। আমার চেয়ে তার চোটে পড়ার ঝুঁকি কম।’

নিজস্ব প্রতিবেদক 
























