10:55 am, Thursday, 29 October 2026

নেতানিয়াহুকে রায় মেনে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান আইজেনকোটের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে নেতানিয়াহু জোট ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বুথফেরত সমীক্ষায় কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে লিকুদ পার্টির নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পদত্যাগ করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গ্যাডি আইজেনকোট।
মঙ্গলবার ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত বুথফেরত সমীক্ষায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ও তার বিরোধী জোট সমানসংখ্যক আসন পেতে পারে। ফলে কোনো পক্ষের জন্যই এককভাবে সরকার গঠন সহজ হচ্ছে না।
ইসরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট এবং সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাডি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫১টি করে আসন পেতে পারে।

অন্যদিকে, আরবদের নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রা’আম) মিলিয়ে ১৮টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
লিকুদ পার্টি এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এলেও দুই প্রধান জোটের মধ্যে আসনের ব্যবধান না থাকায় সরকার গঠনের চূড়ান্ত সমীকরণ এখনো স্পষ্ট নয়। আগামী ৪ নভেম্বর নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কথা রয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতি ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যেও ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে চ্যানেল ১২। এই হার ১৯৯৯ সালের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ইসরায়েলের প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার ২১ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। ঐতিহাসিকভাবে এই জনগোষ্ঠীর ভোটদানের হার তুলনামূলক কম থাকলেও এবার তাদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ দেখা গেছে। আল-জাজিরার সাংবাদিক নুর ওদেহের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে ভোট দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে মনে করতেন, এমন অনেক ভোটারও এবার ভোট দিয়েছেন।

এদিকে, ইউনাইটেড আরব লিস্টের নেতা মানসুর আব্বাস আশা প্রকাশ করেছেন, চূড়ান্ত ফলাফলে তার দলসহ নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৬১-তে পৌঁছাতে পারে। তার দাবি, নির্বাচনের আগে ও পরে দুই প্রধান জোটই তার দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে বুথফেরত সমীক্ষার বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে কোনো জোটই নিশ্চিত অবস্থানে নেই।

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর কোন পক্ষ সরকার গঠনের উদ্যোগে এগিয়ে থাকবে এবং আরব দলগুলো ক্ষমতার সমীকরণে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, তা স্পষ্ট হবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বড়লেখায় বিশ্ব হাতধোয়াদিবসে র‌্যালি আলোচনাসভা ও হাতধোয়া প্রদর্শনী

নেতানিয়াহুকে রায় মেনে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান আইজেনকোটের

Update Time : 07:52:51 am, Wednesday, 28 October 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে নেতানিয়াহু জোট ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বুথফেরত সমীক্ষায় কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে লিকুদ পার্টির নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পদত্যাগ করে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গ্যাডি আইজেনকোট।
মঙ্গলবার ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রকাশিত বুথফেরত সমীক্ষায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

প্রধান টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ও তার বিরোধী জোট সমানসংখ্যক আসন পেতে পারে। ফলে কোনো পক্ষের জন্যই এককভাবে সরকার গঠন সহজ হচ্ছে না।
ইসরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। বুথফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট এবং সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাডি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫১টি করে আসন পেতে পারে।

অন্যদিকে, আরবদের নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রা’আম) মিলিয়ে ১৮টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
লিকুদ পার্টি এককভাবে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এলেও দুই প্রধান জোটের মধ্যে আসনের ব্যবধান না থাকায় সরকার গঠনের চূড়ান্ত সমীকরণ এখনো স্পষ্ট নয়। আগামী ৪ নভেম্বর নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের কথা রয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। সামগ্রিক ভোটার উপস্থিতি ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যেও ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে চ্যানেল ১২। এই হার ১৯৯৯ সালের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

ইসরায়েলের প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার ২১ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। ঐতিহাসিকভাবে এই জনগোষ্ঠীর ভোটদানের হার তুলনামূলক কম থাকলেও এবার তাদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ দেখা গেছে। আল-জাজিরার সাংবাদিক নুর ওদেহের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে ভোট দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয় বলে মনে করতেন, এমন অনেক ভোটারও এবার ভোট দিয়েছেন।

এদিকে, ইউনাইটেড আরব লিস্টের নেতা মানসুর আব্বাস আশা প্রকাশ করেছেন, চূড়ান্ত ফলাফলে তার দলসহ নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের আসনসংখ্যা ৬১-তে পৌঁছাতে পারে। তার দাবি, নির্বাচনের আগে ও পরে দুই প্রধান জোটই তার দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে বুথফেরত সমীক্ষার বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে কোনো জোটই নিশ্চিত অবস্থানে নেই।

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর কোন পক্ষ সরকার গঠনের উদ্যোগে এগিয়ে থাকবে এবং আরব দলগুলো ক্ষমতার সমীকরণে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে, তা স্পষ্ট হবে।