10:11 pm, Friday, 29 May 2026

প্রতিদিন পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে অপচয় ২১০ মেগাওয়াট

অনলাইন ডেস্ক : প্রতিদিন অপচয় হচ্ছে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতার অভাব, সঞ্চালন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয়ের অভাবের কারণে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হলেও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সঞ্চালন ও সরবরাহ লাইন তৈরি না হওয়ায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রেই অপচয় হচ্ছে উৎপাদিত বিদ্যুৎ।

 

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে পায়রার দুটি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৬২০ মেগাওয়াট করে মোট এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ একটা অংশ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত যাচ্ছে না। একটা কেন্দ্রের ৬২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঢাকায় আনা যাচ্ছে। অন্যটির উৎপাদিত ৬২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরগুনা ও পটুয়াখালীতে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এই ৬২০ মেগাওয়াটের মধ্যে ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কোন কাজেই ব্যবহার হচ্ছে না। এক কথায় অপচয় হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা না থাকার কারণে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিটের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আনা যাচ্ছে না। এটার জন্য কাজ চলছে।

পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জুবায়ের আহমেদ বলেন, ‘এখানকার দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে আমরা মোটামুটি ১১০০ থেকে ১১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে দিচ্ছি। আমাদের দেয়ার সক্ষমতা আছে, কিন্তু জাতীয় গ্রিড কর্তৃপক্ষ পুরোটা নিতে পারছে না। তারা তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর কার্যক্রম চলমান রেখেছে। আশাকরা যায়, তারা যদি তাদের কাজ শেষ করতে পারেন তাহলে আমরা পুরোপুরি আমাদের যে ক্ষমতা আছে তা দিতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালের জুনে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসে। একই বছরের আগস্টে উৎপাদনে আসে দ্বিতীয় ইউনিট। এছাড়া আরো এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপদনের লক্ষ্যে আরো দু’টি ইউনিটের কাজ চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে প্রায় এক দশক আগে বেশ কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের সময় এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি সই হয়। পরে গঠিত হয় বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। গত ২১ মার্চ পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রায় ১ হাজার একর জমির ওপর নির্মিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। নির্মাণ ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থায়ন করেছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নৌপথে কয়লা আমদানি করা হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া থেকে।

উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। পটুয়াখালী ও বরগুনা দুই জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে। দুই জেলার চাহিদা মিটিয়ে ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। তাই এই দুই জেলায় শিডিউল লোডশেডিংয়ের প্রভাব তুলনামূলক কম।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

মৌলভীবাজার জুয়া ও মাদকের ভয়াবহ বিস্তার-অপরাধের ঝুঁকিতে শহর, ধ্বংসের পথে কিশোর-যুব সমাজ (পর্ব-১)

প্রতিদিন পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রে অপচয় ২১০ মেগাওয়াট

Update Time : 06:45:06 pm, Thursday, 21 July 2022

অনলাইন ডেস্ক : প্রতিদিন অপচয় হচ্ছে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতার অভাব, সঞ্চালন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয়ের অভাবের কারণে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাচ্ছে না। উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হলেও এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সঞ্চালন ও সরবরাহ লাইন তৈরি না হওয়ায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রেই অপচয় হচ্ছে উৎপাদিত বিদ্যুৎ।

 

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গড়ে ১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে পায়রার দুটি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৬২০ মেগাওয়াট করে মোট এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ একটা অংশ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত যাচ্ছে না। একটা কেন্দ্রের ৬২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঢাকায় আনা যাচ্ছে। অন্যটির উৎপাদিত ৬২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরগুনা ও পটুয়াখালীতে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে এই ৬২০ মেগাওয়াটের মধ্যে ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কোন কাজেই ব্যবহার হচ্ছে না। এক কথায় অপচয় হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতা না থাকার কারণে পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিটের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে আনা যাচ্ছে না। এটার জন্য কাজ চলছে।

পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জুবায়ের আহমেদ বলেন, ‘এখানকার দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে আমরা মোটামুটি ১১০০ থেকে ১১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে দিচ্ছি। আমাদের দেয়ার সক্ষমতা আছে, কিন্তু জাতীয় গ্রিড কর্তৃপক্ষ পুরোটা নিতে পারছে না। তারা তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর কার্যক্রম চলমান রেখেছে। আশাকরা যায়, তারা যদি তাদের কাজ শেষ করতে পারেন তাহলে আমরা পুরোপুরি আমাদের যে ক্ষমতা আছে তা দিতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালের জুনে পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসে। একই বছরের আগস্টে উৎপাদনে আসে দ্বিতীয় ইউনিট। এছাড়া আরো এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপদনের লক্ষ্যে আরো দু’টি ইউনিটের কাজ চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে প্রায় এক দশক আগে বেশ কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের সময় এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি সই হয়। পরে গঠিত হয় বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড। গত ২১ মার্চ পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রায় ১ হাজার একর জমির ওপর নির্মিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। নির্মাণ ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থায়ন করেছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নৌপথে কয়লা আমদানি করা হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া থেকে।

উল্লেখ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। পটুয়াখালী ও বরগুনা দুই জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে। দুই জেলার চাহিদা মিটিয়ে ১ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। তাই এই দুই জেলায় শিডিউল লোডশেডিংয়ের প্রভাব তুলনামূলক কম।