2:10 pm, Tuesday, 19 May 2026

বিশ্বকাপের আগে সহিংসতা-প্রতিবাদে উত্তাল মেক্সিকো, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা

স্পোর্টস ডেস্ক :: বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সমালোচনা এবং টুর্নামেন্ট আয়োজক হিসেবে ফিফার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছেই। তবে এর আড়ালে কিছুটা চাপা পড়ে গেছে মেক্সিকোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান প্রতিবাদের বিষয়টি।

অথচ আগামী মাসেই মেক্সিকো সিটিতে পর্দা উঠবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের।
আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকো।

কিন্তু বিশ্বকাপের আগে দেশটির আয়োজক শহরগুলোতে সাম্প্রতিক সহিংসতা, কার্টেল-সংক্রান্ত নিরাপত্তা শঙ্কা এবং ঘন ঘন প্রতিবাদ ফুটবলপ্রেমী ও বিদেশি দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
রোববার মেক্সিকোর পুয়েবলা অঙ্গরাজ্যে এক বন্দুক হামলায় ১০ জন নিহত হওয়ার পর সেই নিরাপত্তা শঙ্কা আরও বেড়েছে।

এর আগেই মানবাধিকার সংস্থা ও উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া আন্তর্জাতিক ফুটবলপ্রেমীদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।
মেক্সিকো সিটি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের তেহুইৎসিঙ্গো এলাকায় একটি বাড়িতে সশস্ত্র হামলায় নিহত হন ছয় পুরুষ, তিন নারী ও এক অপ্রাপ্তবয়স্ক।

পুয়েবলা অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, এই হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
এর আগে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপ ঘিরে ন্যাশনাল গার্ড সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা এবং বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের কর্মীসহ এক লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

পুয়েবলার বন্দুক হামলার আগে গত মাসেও মেক্সিকো সিটির বাইরে জনপ্রিয় পর্যটন ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান তেওতিহুয়াকানে এক বন্দুকধারীর হামলায় এক কানাডিয়ান পর্যটক নিহত হন। ওই ঘটনায় আহত হন আরও ১৩ জন।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম সোমবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন চলতি সপ্তাহে মেক্সিকো সফরে আসবেন। তবে এই সফরের কারণ তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি।

বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলোও। এপ্রিল মাসে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, সংবাদমাধ্যমের জন্য মেক্সিকো এখনো বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে, বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোতে কাজ করা সাংবাদিকদের সরাসরি ঝুঁকির বিষয়ে ফিফা এখনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ফিফা এবং বিশ্বকাপ আয়োজকদের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, তীব্র মানবাধিকার সংকটের মধ্যে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে সমর্থক, খেলোয়াড়, সাংবাদিক, কর্মী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে কার্টেল নেতা নেমেসিও ‘এল মেনচো’ ওসেগুয়েরাকে নিরাপত্তা বাহিনী হত্যার পর মেক্সিকোতে সহিংসতার ঢেউ দেখা যায়। তিনি ছিলেন জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি) সদস্য। ওই ঘটনার পর সৃষ্ট সহিংসতা নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, মেক্সিকোর বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে তিনি ‘খুব আশ্বস্ত’। মাদক কার্টেল নেতার মৃত্যুর পর যে সহিংসতা ছড়িয়েছিল, তার পরও আয়োজক হিসেবে মেক্সিকোর সক্ষমতা নিয়ে আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।

তারপরও একের পর এক সহিংস ঘটনা মেক্সিকোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সহিংস অপরাধ দমনে দেশটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। দেশটির নেতৃত্ব অবশ্য বারবার আশঙ্কা ও সমালোচনা প্রশমনের চেষ্টা করছে।

নিরাপত্তা শঙ্কার পাশাপাশি বিশ্বকাপকে ঘিরে মেক্সিকোতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দাবিও সামনে আসছে। দেশটির বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সংকট তুলে ধরতে বিশ্বকাপকে বড় মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে।

রোববার নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা নুয়েভো লেওন সরকারের প্রাসাদের বাইরে একটি ফুটবল ম্যাচ খেলেন। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রিয়জনদের অবস্থান সম্পর্কে জবাব দাবি করেন।

নিখোঁজ রয় রিভেরা হিদালগোর মা ইরমা লেতিসিয়া হিদালগো কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে বলেন, নিখোঁজদের খোঁজে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ বরাদ্দ কমানো হচ্ছে, অথচ ‘তুচ্ছ ও বাহ্যিক’ কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকোতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬০। কয়েক দশকের কার্টেল সহিংসতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলাকেই এই সংকটের বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে উত্তর আমেরিকায় মা দিবস উপলক্ষে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। মাদক সহিংসতায় নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের মায়েরা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। সহিংসতা ও দায়মুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান তারা।

নিখোঁজদের মায়েরা ফুটবল সমর্থকদেরও তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, ‘উদ্‌যাপনের কিছু নেই, কারণ মেক্সিকোর মায়েরা সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ খেলছেন। ন্যায়ের জন্য লড়াই করছেন।’

বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘নিখোঁজের সংখ্যায় মেক্সিকো চ্যাম্পিয়ন।’

২০১২ সালে মেয়ে ও আরও চার স্বজন নিখোঁজ হওয়া গ্রাসিয়েলা পেরেজ রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমাদের লড়াই শুরু করতে হয়েছে, কারণ কেউ নিখোঁজের ঘটনাটির দায়িত্ব নিতে চায়নি।’

শুধু মানবাধিকার ইস্যু নয়, শিক্ষা খাতের আন্দোলনও বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকোতে চাপ বাড়াচ্ছে। শুক্রবার শিক্ষক দিবসে মেক্সিকো সিটিতে মিছিল করেন শিক্ষক ও কর্মীরা। তারা বেতন বৃদ্ধি ও নীতিগত পরিবর্তনের দাবি জানান। ইউনিয়ন নেতারা সতর্ক করেছেন, দাবি মানা না হলে আগামী মাসে বিশ্বকাপ উদ্বোধন ব্যাহত হতে পারে।

শিক্ষক ইউনিয়ন ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন অব এডুকেশন ওয়ার্কার্স (সিএনটিই) সরকারের ঘোষিত ৯ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, বেতন দ্বিগুণ করতে হবে এবং শিক্ষা সংস্কার প্রত্যাহার করতে হবে।

মেক্সিকো সিটিতে সিএনটিই সেকশন ৯-এর সাধারণ সম্পাদক পেদ্রো এরনান্দেজ মোরালেস সতর্ক করে বলেছেন, ১১ জুন মেক্সিকোর উদ্বোধনী ম্যাচের আগে দাবি পূরণ না হলে ‘বল গড়াবে না’। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক ধর্মঘটের হুমকিও দেন তিনি।

এই হুমকি শিক্ষা খাতের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে কর্তৃপক্ষ বিশ্বকাপের কারণে শিক্ষাবর্ষ আগেভাগে শেষ করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়।

সব মিলিয়ে মাঠের ফুটবল শুরু হওয়ার আগেই মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ ঘিরে নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও সামাজিক অসন্তোষের একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। উদ্বোধনী ম্যাচের কাউন্টডাউন যত এগোচ্ছে, আয়োজক দেশটির ওপর চাপও তত বাড়ছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

মৌলভীবাজার জেলা পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট কার্যক্রম অব্যাহত

বিশ্বকাপের আগে সহিংসতা-প্রতিবাদে উত্তাল মেক্সিকো, বাড়ছে নিরাপত্তা শঙ্কা

Update Time : 07:14:17 am, Tuesday, 19 May 2026

স্পোর্টস ডেস্ক :: বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সমালোচনা এবং টুর্নামেন্ট আয়োজক হিসেবে ফিফার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা চলছেই। তবে এর আড়ালে কিছুটা চাপা পড়ে গেছে মেক্সিকোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান প্রতিবাদের বিষয়টি।

অথচ আগামী মাসেই মেক্সিকো সিটিতে পর্দা উঠবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের।
আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকায় উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকো।

কিন্তু বিশ্বকাপের আগে দেশটির আয়োজক শহরগুলোতে সাম্প্রতিক সহিংসতা, কার্টেল-সংক্রান্ত নিরাপত্তা শঙ্কা এবং ঘন ঘন প্রতিবাদ ফুটবলপ্রেমী ও বিদেশি দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
রোববার মেক্সিকোর পুয়েবলা অঙ্গরাজ্যে এক বন্দুক হামলায় ১০ জন নিহত হওয়ার পর সেই নিরাপত্তা শঙ্কা আরও বেড়েছে।

এর আগেই মানবাধিকার সংস্থা ও উত্তর আমেরিকায় বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া আন্তর্জাতিক ফুটবলপ্রেমীদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।
মেক্সিকো সিটি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের তেহুইৎসিঙ্গো এলাকায় একটি বাড়িতে সশস্ত্র হামলায় নিহত হন ছয় পুরুষ, তিন নারী ও এক অপ্রাপ্তবয়স্ক।

পুয়েবলা অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, এই হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
এর আগে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপ ঘিরে ন্যাশনাল গার্ড সদস্য, পুলিশ কর্মকর্তা এবং বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের কর্মীসহ এক লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।

পুয়েবলার বন্দুক হামলার আগে গত মাসেও মেক্সিকো সিটির বাইরে জনপ্রিয় পর্যটন ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান তেওতিহুয়াকানে এক বন্দুকধারীর হামলায় এক কানাডিয়ান পর্যটক নিহত হন। ওই ঘটনায় আহত হন আরও ১৩ জন।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম সোমবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন চলতি সপ্তাহে মেক্সিকো সফরে আসবেন। তবে এই সফরের কারণ তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি।

বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলোও। এপ্রিল মাসে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, সংবাদমাধ্যমের জন্য মেক্সিকো এখনো বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক দেশ। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে, বিশ্বকাপের আয়োজক শহরগুলোতে কাজ করা সাংবাদিকদের সরাসরি ঝুঁকির বিষয়ে ফিফা এখনো পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ফিফা এবং বিশ্বকাপ আয়োজকদের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, তীব্র মানবাধিকার সংকটের মধ্যে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে সমর্থক, খেলোয়াড়, সাংবাদিক, কর্মী এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে কার্টেল নেতা নেমেসিও ‘এল মেনচো’ ওসেগুয়েরাকে নিরাপত্তা বাহিনী হত্যার পর মেক্সিকোতে সহিংসতার ঢেউ দেখা যায়। তিনি ছিলেন জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি) সদস্য। ওই ঘটনার পর সৃষ্ট সহিংসতা নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, মেক্সিকোর বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে তিনি ‘খুব আশ্বস্ত’। মাদক কার্টেল নেতার মৃত্যুর পর যে সহিংসতা ছড়িয়েছিল, তার পরও আয়োজক হিসেবে মেক্সিকোর সক্ষমতা নিয়ে আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।

তারপরও একের পর এক সহিংস ঘটনা মেক্সিকোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সহিংস অপরাধ দমনে দেশটির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। দেশটির নেতৃত্ব অবশ্য বারবার আশঙ্কা ও সমালোচনা প্রশমনের চেষ্টা করছে।

নিরাপত্তা শঙ্কার পাশাপাশি বিশ্বকাপকে ঘিরে মেক্সিকোতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দাবিও সামনে আসছে। দেশটির বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সংকট তুলে ধরতে বিশ্বকাপকে বড় মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে।

রোববার নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা নুয়েভো লেওন সরকারের প্রাসাদের বাইরে একটি ফুটবল ম্যাচ খেলেন। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রিয়জনদের অবস্থান সম্পর্কে জবাব দাবি করেন।

নিখোঁজ রয় রিভেরা হিদালগোর মা ইরমা লেতিসিয়া হিদালগো কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে বলেন, নিখোঁজদের খোঁজে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ বরাদ্দ কমানো হচ্ছে, অথচ ‘তুচ্ছ ও বাহ্যিক’ কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মেক্সিকোতে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬০। কয়েক দশকের কার্টেল সহিংসতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলাকেই এই সংকটের বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে উত্তর আমেরিকায় মা দিবস উপলক্ষে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। মাদক সহিংসতায় নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের মায়েরা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। সহিংসতা ও দায়মুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান তারা।

নিখোঁজদের মায়েরা ফুটবল সমর্থকদেরও তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, ‘উদ্‌যাপনের কিছু নেই, কারণ মেক্সিকোর মায়েরা সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ খেলছেন। ন্যায়ের জন্য লড়াই করছেন।’

বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘নিখোঁজের সংখ্যায় মেক্সিকো চ্যাম্পিয়ন।’

২০১২ সালে মেয়ে ও আরও চার স্বজন নিখোঁজ হওয়া গ্রাসিয়েলা পেরেজ রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমাদের লড়াই শুরু করতে হয়েছে, কারণ কেউ নিখোঁজের ঘটনাটির দায়িত্ব নিতে চায়নি।’

শুধু মানবাধিকার ইস্যু নয়, শিক্ষা খাতের আন্দোলনও বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকোতে চাপ বাড়াচ্ছে। শুক্রবার শিক্ষক দিবসে মেক্সিকো সিটিতে মিছিল করেন শিক্ষক ও কর্মীরা। তারা বেতন বৃদ্ধি ও নীতিগত পরিবর্তনের দাবি জানান। ইউনিয়ন নেতারা সতর্ক করেছেন, দাবি মানা না হলে আগামী মাসে বিশ্বকাপ উদ্বোধন ব্যাহত হতে পারে।

শিক্ষক ইউনিয়ন ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন অব এডুকেশন ওয়ার্কার্স (সিএনটিই) সরকারের ঘোষিত ৯ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, বেতন দ্বিগুণ করতে হবে এবং শিক্ষা সংস্কার প্রত্যাহার করতে হবে।

মেক্সিকো সিটিতে সিএনটিই সেকশন ৯-এর সাধারণ সম্পাদক পেদ্রো এরনান্দেজ মোরালেস সতর্ক করে বলেছেন, ১১ জুন মেক্সিকোর উদ্বোধনী ম্যাচের আগে দাবি পূরণ না হলে ‘বল গড়াবে না’। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক ধর্মঘটের হুমকিও দেন তিনি।

এই হুমকি শিক্ষা খাতের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে কর্তৃপক্ষ বিশ্বকাপের কারণে শিক্ষাবর্ষ আগেভাগে শেষ করার পরিকল্পনা থেকে সরে আসে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়।

সব মিলিয়ে মাঠের ফুটবল শুরু হওয়ার আগেই মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ ঘিরে নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও সামাজিক অসন্তোষের একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। উদ্বোধনী ম্যাচের কাউন্টডাউন যত এগোচ্ছে, আয়োজক দেশটির ওপর চাপও তত বাড়ছে।