1:57 am, Tuesday, 28 July 2026

মধ্যরাতে বেসামাল অবস্থায় থানায় আসেন পরীমণি: পুলিশ

বিনোদন ডেস্ক :: ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণি অভিযোগ করেছেন ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এমনও অভিযোগ করেন যে, সহযোগিতার জন্য বনানী থানায় গেলে তাকে সহযোগিতা করেনি পুলিশ। রোববার (১৩ জুন) রাতে বনানীর নিজ বাসায় সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পরীমণি।

তবে পরীমণির এ অভিযোগ অস্বীকার করে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মিয়া বলেন, ‘বুধবার মধ্যরাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে তিনি বনানী থানায় এসেছিলেন। ওই সময় তিনি বেসামাল ছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় কারও অভিযোগ নেওয়া যায় না।’

ওসি আরও বলেন, ‘সেদিন মধ্যরাতে থানার দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসার আমাকে জানান, পরীমণি মদ্যপ অবস্থায় বলেছিল যে তাকে জোর করে মদ খাওয়ানো হয়েছে। তাকে নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছে। তবে পরীমণির কথায় নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তাই ডিউটি অফিসার পরীমণিকে প্রথমে চিকিৎসা নিতে বলেন। চিকিৎসার পর অভিযোগ শোনার আশ্বাস দিয়েছিলেন।’

‘এরপর পুলিশের একটি দল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে (অ্যাপোলো হাসপাতাল) নিয়ে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে পরীমণি আর অভিযোগ করেননি।’

ওসি নূরে আযম মিয়া বলেন, ‘বেসামাল অবস্থায় অভিযোগ নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা রোববার রাত পর্যন্ত তাকে বেশ কয়েকবার লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তিনি মধ্যরাত পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেননি।’

এদিকে, পরীমণির বনানীর বাসায় বনানী থানা পুলিশের সঙ্গে সাভার থানা পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত হয়েছেন। ঘটনাস্থল ঢাকা বোট ক্লাব হওয়ায় সাভার থানা পুলিশ বিষয়টি দেখভাল করবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা ঘটনার বিষয়ে অবগত। পরীমণির বাসায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার তদন্ত স্থানীয় থানা (সাভার) পুলিশ করবে। আমরা কোনো তদন্ত করব না।’

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার বিচার চাওয়ার বিষয়ে পরীমণি ফেসবুক স্ট্যাটাসে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের উদ্দেশে লেখেন, “থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না, মা। যাদেরকে পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনাটি বিস্তারিত জেনে ‘দেখছি’ বলে চুপ হয়ে যায়।”

পুলিশের মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক এআইজি সোহেল রানা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আইজিপি স্যারের সঙ্গে তিনি (পরীমণি) কখনওই কথা বলেননি। আইজিপি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেননি। আইজিপি স্যার এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। স্যারের নাম অহেতুক ম্যানশন করা হয়েছে।’

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মধ্যরাতে বেসামাল অবস্থায় থানায় আসেন পরীমণি: পুলিশ

Update Time : 06:11:53 am, Monday, 14 June 2021

বিনোদন ডেস্ক :: ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণি অভিযোগ করেছেন ঢাকা বোট ক্লাবে তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এমনও অভিযোগ করেন যে, সহযোগিতার জন্য বনানী থানায় গেলে তাকে সহযোগিতা করেনি পুলিশ। রোববার (১৩ জুন) রাতে বনানীর নিজ বাসায় সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পরীমণি।

তবে পরীমণির এ অভিযোগ অস্বীকার করে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম মিয়া বলেন, ‘বুধবার মধ্যরাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে তিনি বনানী থানায় এসেছিলেন। ওই সময় তিনি বেসামাল ছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। মদ্যপ অবস্থায় কারও অভিযোগ নেওয়া যায় না।’

ওসি আরও বলেন, ‘সেদিন মধ্যরাতে থানার দায়িত্বে থাকা ডিউটি অফিসার আমাকে জানান, পরীমণি মদ্যপ অবস্থায় বলেছিল যে তাকে জোর করে মদ খাওয়ানো হয়েছে। তাকে নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছে। তবে পরীমণির কথায় নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তাই ডিউটি অফিসার পরীমণিকে প্রথমে চিকিৎসা নিতে বলেন। চিকিৎসার পর অভিযোগ শোনার আশ্বাস দিয়েছিলেন।’

‘এরপর পুলিশের একটি দল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে (অ্যাপোলো হাসপাতাল) নিয়ে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে পরীমণি আর অভিযোগ করেননি।’

ওসি নূরে আযম মিয়া বলেন, ‘বেসামাল অবস্থায় অভিযোগ নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা রোববার রাত পর্যন্ত তাকে বেশ কয়েকবার লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তিনি মধ্যরাত পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেননি।’

এদিকে, পরীমণির বনানীর বাসায় বনানী থানা পুলিশের সঙ্গে সাভার থানা পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত হয়েছেন। ঘটনাস্থল ঢাকা বোট ক্লাব হওয়ায় সাভার থানা পুলিশ বিষয়টি দেখভাল করবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা ঘটনার বিষয়ে অবগত। পরীমণির বাসায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার তদন্ত স্থানীয় থানা (সাভার) পুলিশ করবে। আমরা কোনো তদন্ত করব না।’

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার বিচার চাওয়ার বিষয়ে পরীমণি ফেসবুক স্ট্যাটাসে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের উদ্দেশে লেখেন, “থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু বেনজীর আহমেদ আইজিপি স্যার! আমি কাউকে পাই না, মা। যাদেরকে পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনাটি বিস্তারিত জেনে ‘দেখছি’ বলে চুপ হয়ে যায়।”

পুলিশের মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক এআইজি সোহেল রানা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আইজিপি স্যারের সঙ্গে তিনি (পরীমণি) কখনওই কথা বলেননি। আইজিপি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেননি। আইজিপি স্যার এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। স্যারের নাম অহেতুক ম্যানশন করা হয়েছে।’