10:33 am, Friday, 22 May 2026

মুনিয়ার ফ্ল্যাটে যাতায়াত ছিল আনভীরের, সংগৃহীত ফুটেজে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক: কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়া গুলশানের যে ফ্ল্যাটে থাকত সেখানে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর যাতায়াত করতেন। ভবনটি থেকে উদ্ধার করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ কথা জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ চন্দ্র চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘ওই ফ্ল্যাটে তার (আনভীর) যাতায়াত ছিল, সে ব্যাপারে সংগৃহীত ফুটেজে প্রমাণ মিলেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাটে থেকে কলেজছাত্রী মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া বাদী হয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সায়েম সোবহানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মুনিয়ার। ১ লাখ টাকা ভাড়ার ওই ফ্ল্যাটে নিয়মিত যাতায়াত করতেন করতেন সায়েম সেবহান। তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো করে থাকতেন। মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়া অভিযোগ করেন, তার বোনকে বিয়ের কথা বলে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিলেন আনভীর।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুনিয়ার ময়নাতদন্তের পর লাশ কুমিল্লায় নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দাফন করেছেন স্বজনরা। ওই ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার উদ্ধার করা ডায়েরি নিয়ে তদন্ত এগিয়ে চলছে জানিয়ে বুধবার উপকমিশনার সুদীপ চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘ডায়েরিতে আনভীরের সঙ্গে সম্পর্ক, মনোমালিন্য, জীবন সম্পর্কে হতাশার কথা লেখা রয়েছে। আরও বেশ কিছু কথা লেখা রয়েছে তা যাচাই করা হচ্ছে।কলেজছাত্রীর মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে মুনিয়ার একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই অডিওটি আমরা শুনেছি। মেয়ে কণ্ঠটি মুনিয়ার বলে তার বড় বোন নিশ্চিত করেছেন।’ হুইপপুত্রের সঙ্গে মুনিয়ার কথোপকথনের বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা সুদীপ চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘অন্য সব বিষয়ের মতো এ নিয়েও তদন্ত করছি। তবে এ ব্যাপারে এখনও কারও সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কথা হয়নি।মোসারাত জাহান মুনিয়া রাজধানীর একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লায়। তার পরিবার সেখানেই থাকে। মুনিয়া ঢাকায় একাই থাকত গুলশানের ওই ফ্ল্যাটে। মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পরদিন মঙ্গলবার আনভীরের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি

মুনিয়ার ফ্ল্যাটে যাতায়াত ছিল আনভীরের, সংগৃহীত ফুটেজে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ

Update Time : 06:37:49 pm, Wednesday, 28 April 2021

অনলাইন ডেস্ক: কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়া গুলশানের যে ফ্ল্যাটে থাকত সেখানে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর যাতায়াত করতেন। ভবনটি থেকে উদ্ধার করা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ কথা জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ চন্দ্র চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘ওই ফ্ল্যাটে তার (আনভীর) যাতায়াত ছিল, সে ব্যাপারে সংগৃহীত ফুটেজে প্রমাণ মিলেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাটে থেকে কলেজছাত্রী মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত জাহান তানিয়া বাদী হয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সায়েম সোবহানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মুনিয়ার। ১ লাখ টাকা ভাড়ার ওই ফ্ল্যাটে নিয়মিত যাতায়াত করতেন করতেন সায়েম সেবহান। তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো করে থাকতেন। মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়া অভিযোগ করেন, তার বোনকে বিয়ের কথা বলে ওই ফ্ল্যাটে রেখেছিলেন আনভীর।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুনিয়ার ময়নাতদন্তের পর লাশ কুমিল্লায় নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দাফন করেছেন স্বজনরা। ওই ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার উদ্ধার করা ডায়েরি নিয়ে তদন্ত এগিয়ে চলছে জানিয়ে বুধবার উপকমিশনার সুদীপ চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘ডায়েরিতে আনভীরের সঙ্গে সম্পর্ক, মনোমালিন্য, জীবন সম্পর্কে হতাশার কথা লেখা রয়েছে। আরও বেশ কিছু কথা লেখা রয়েছে তা যাচাই করা হচ্ছে।কলেজছাত্রীর মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে মুনিয়ার একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই অডিওটি আমরা শুনেছি। মেয়ে কণ্ঠটি মুনিয়ার বলে তার বড় বোন নিশ্চিত করেছেন।’ হুইপপুত্রের সঙ্গে মুনিয়ার কথোপকথনের বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা সুদীপ চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘অন্য সব বিষয়ের মতো এ নিয়েও তদন্ত করছি। তবে এ ব্যাপারে এখনও কারও সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কথা হয়নি।মোসারাত জাহান মুনিয়া রাজধানীর একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লায়। তার পরিবার সেখানেই থাকে। মুনিয়া ঢাকায় একাই থাকত গুলশানের ওই ফ্ল্যাটে। মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পরদিন মঙ্গলবার আনভীরের দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।