4:58 pm, Friday, 22 May 2026

মৌলভীবাজারে নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

বিষ্ণু দেব ::মৌলভীবাজারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে আবারক মিয়া ও জয়নাল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. সোলায়মান।   বুধবার (১৫ই মে) দুপুরে মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়।  মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন রাজনগর থানার ছিক্কা গ্রামের মজমিল মিয়ার ছেলে আবারক মিয়া(২২) এবং দক্ষিণ কাসিমপুর গ্রামের হামদু মিয়ার ছেলে জয়নাল মিয়া(৪০)  মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, নিহত রাশেদা বেগম বিগত ২০১৮ সালের ৩০শে মে ধান ক্রয়ের জন্য নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ী থেকে বের হয়ে রাজনগরের আবারক মিয়ার বাড়ীতে পৌছান। রাশেদার খোঁজ খবর না পেয়ে নিহতের ভাই মোবারক মিয়া সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজা খুঁজি করে তিনদিন পর (০২/০৬/১৮ইং) রাজনগর থানায় এসে জানতে পারেন অজ্ঞাত মহিলার লাশ রাজনগর থানাধীন রাজনগর ইউপিস্থ জনৈক মোবারক এর বসত বাড়ীর দক্ষিণ পার্শ্ব সংলগ্ন মাছু গাঙ্গে (খালে) পেয়ে রাজনগর থানা পুলিশ লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেন, পরবর্তীতে নিহতের ভাই ও অনান্য আত্মীয়রা হাসপাতাল মর্গে উপস্থিত হয়ে মৃতদেহ এবং তার পরিহিত বোরকা ও কামিজ দেখে লাশ সনাক্ত করেন।   এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোবারক বাদী হয়ে পরদিন রাজনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে দুই জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে পুলিশ।   আদালত ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমানিত হলে এ রায় প্রদান করেন।  দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ওই মামলার অভিযুক্ত আবারক মিয়া ও জয়নাল মিয়াকে ফাঁসির আদেশ দেন। একই সাথে প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানাও করা হয়।  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নিখিল রঞ্জন দাশ জানান, বিজ্ঞ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুই জনকে ফাঁসির আদেশ দেন একই সাথে প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে আবারক মিয়া ও জয়নাল মিয়াকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।  আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সানোয়ার জানান, মামলার বাদীসহ কোন সাক্ষী আমার আসামি জয়নালের নাম বলে নাই, রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলা নিরঙ্কুশ ভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয় নাই, আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি, আসামির পক্ষে আমরা উচ্চ আদালতে যাব এবং আপিল মামলা দায়ের করব।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি

মৌলভীবাজারে নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড

Update Time : 12:36:49 pm, Wednesday, 15 May 2024

বিষ্ণু দেব ::মৌলভীবাজারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে আবারক মিয়া ও জয়নাল মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. সোলায়মান।   বুধবার (১৫ই মে) দুপুরে মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়।  মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন রাজনগর থানার ছিক্কা গ্রামের মজমিল মিয়ার ছেলে আবারক মিয়া(২২) এবং দক্ষিণ কাসিমপুর গ্রামের হামদু মিয়ার ছেলে জয়নাল মিয়া(৪০)  মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, নিহত রাশেদা বেগম বিগত ২০১৮ সালের ৩০শে মে ধান ক্রয়ের জন্য নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ী থেকে বের হয়ে রাজনগরের আবারক মিয়ার বাড়ীতে পৌছান। রাশেদার খোঁজ খবর না পেয়ে নিহতের ভাই মোবারক মিয়া সম্ভাব্য সকল জায়গায় খোঁজা খুঁজি করে তিনদিন পর (০২/০৬/১৮ইং) রাজনগর থানায় এসে জানতে পারেন অজ্ঞাত মহিলার লাশ রাজনগর থানাধীন রাজনগর ইউপিস্থ জনৈক মোবারক এর বসত বাড়ীর দক্ষিণ পার্শ্ব সংলগ্ন মাছু গাঙ্গে (খালে) পেয়ে রাজনগর থানা পুলিশ লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করেন, পরবর্তীতে নিহতের ভাই ও অনান্য আত্মীয়রা হাসপাতাল মর্গে উপস্থিত হয়ে মৃতদেহ এবং তার পরিহিত বোরকা ও কামিজ দেখে লাশ সনাক্ত করেন।   এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোবারক বাদী হয়ে পরদিন রাজনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে দুই জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে পুলিশ।   আদালত ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমানিত হলে এ রায় প্রদান করেন।  দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ওই মামলার অভিযুক্ত আবারক মিয়া ও জয়নাল মিয়াকে ফাঁসির আদেশ দেন। একই সাথে প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানাও করা হয়।  নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নিখিল রঞ্জন দাশ জানান, বিজ্ঞ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দুই জনকে ফাঁসির আদেশ দেন একই সাথে প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানাও করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে আবারক মিয়া ও জয়নাল মিয়াকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।  আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সানোয়ার জানান, মামলার বাদীসহ কোন সাক্ষী আমার আসামি জয়নালের নাম বলে নাই, রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলা নিরঙ্কুশ ভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয় নাই, আমরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি, আসামির পক্ষে আমরা উচ্চ আদালতে যাব এবং আপিল মামলা দায়ের করব।