3:22 pm, Friday, 6 November 2026

মৌলভীবাজারে ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী কণ্যা লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদের আত্মপ্রকাশ

মোঃ আজমল হোসাইন :: মৌলভীবাজার জেলা বাসীর গর্ব এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতাজি “সুবাস চন্দ্র বসু”র ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মী ও ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাঙালির মূলধারার রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব বিপ্লবী “লীলা নাগ” স্মরণে মৌলভীবাজার জেলায় লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদ গঠন করা হয়েছে। স্মৃতি পরিষদ গঠনে মৌলভীবাজার জেলার প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সমাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা গত শনিবার মৌলভীবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সর্বস্তরের মানুষের শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে বিশিষ্ট আইনজীবী রমা কান্ত দাশ গুপ্তকে সভাপতি ও সাংস্কৃতিক কর্মী মোঃ খছরু চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদ গঠন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী লীলা নাগের জন্মমাটি রাজনগর উপজেলার প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব এবং ইউপি চেয়ারম্যান “মিলন বখত্”। অন্যান্য সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার “জামাল উদ্দিন”, প্রবীণ আইন বিশেষজ্ঞ শান্তি পদ ঘোষ, সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাংষ্কৃতিক সংগঠক ডাঃ এম এ আহাদ, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. ফললুল আলী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মায়া ওয়াহেদ, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, মৌলানা মুফজ্জল হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমদ, রাজনগর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহানারা রুবি, কবি- প্রাবন্ধিক ও গবেষক সৌমিত্র দেব টিটু, প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তি সৈয়দ আব্দুল মোত্তালিব রঞ্জু, লন্ডন সিটির বাঙালি সংস্কৃতির সংগঠক জয়দীপ রায়, রাজনগর উদীচীর আব্দুল ওয়াহিদ, প্রবীণ সাংবাদিক সরওয়ার আহমদ প্রমুখ অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার শতাধিক সদস্যবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, লীলা নাগ আমাদের বাঙালির গর্ব। তাঁকে নিয়ে আমরা গর্বিত এই কারণে যে, তিনি আমাদের এ জেলার পাচঁগাঁও গ্রামের ভূমি কন্যা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী। বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এঁর মতো সমাজ পরিবর্তনের স্বাধীনতাকামী হাজারো তরুন-তরুনীরা তাঁর রাজনৈতিক শিষ্য ছিল। কোনো নারী কর্তৃক সম্পাদিত জয়শ্রী পত্রিকা ই ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম। তিনি দীপালি সংঘসহ অসংখ্য নারী জাগরণের বিদ্যাপীঠও গড়ে তুলেছিলেন। ঢাকার তিতুমীর কলেজ মূলত তাঁর হাতের তৈরী। বিপ্লবী ধারার এ মহিয়সী নারী ছিলেন দেশ-জাতি প্রেমের সুস্থ ধারার রাজনীতি ও নারী জাগরণের পথিকৃৎ। তাঁর জীবন সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের সামনে নিয়ে আসলে জাতি হিসেবে আমরা আলোকিত হবো। সুস্থতা ও দেশপ্রেমের রাজনীতি বিকশিত হবে। দুঃখজনক বিষয় , সরকারের হস্তক্ষেপে পাবনায় সুচিত্রা সেনের বাড়ী উদ্ধার হলেও আমাদের এলাকার গর্বিত এ নারীর পৈতৃক বাড়িটি একজন কুখ্যাত রাজাকার দখল করে রেখেছে। আজও উদ্ধার হয়নি। সরকারের সাথে বাড়ী নিয়ে সৃষ্ট মামলায় দুবার দখলদার ব্যক্তি হেরে গেলেও আজ ২২ বছর ধরে রিভিশন মামলাটি হাইকোর্টে ফাইল চাপা পড়ে আছে। বক্তারা বাড়িটি উদ্বারে সরকারের সুদৃস্টি আকর্ষণ করেন এবং লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদ গঠনের প্রধান উদ্যোক্তা ডাঃ এম এ আহাদ মামলার ফাইলপত্র প্রবীণ আইন বিশেষজ্ঞ শান্তি পদ ঘোষ ও বৈঠকের সভাপতি অ্যাডভোকেট রমা কান্ত দাশ গুপ্ত দ্বয়ের হাতে হস্তান্তর করেন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

সাংবাদিক এহসানুল হকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ

মৌলভীবাজারে ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী কণ্যা লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদের আত্মপ্রকাশ

Update Time : 12:23:12 pm, Tuesday, 23 August 2022

মোঃ আজমল হোসাইন :: মৌলভীবাজার জেলা বাসীর গর্ব এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতাজি “সুবাস চন্দ্র বসু”র ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহকর্মী ও ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাঙালির মূলধারার রাজনীতির পুরোধা ব্যক্তিত্ব বিপ্লবী “লীলা নাগ” স্মরণে মৌলভীবাজার জেলায় লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদ গঠন করা হয়েছে। স্মৃতি পরিষদ গঠনে মৌলভীবাজার জেলার প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সমাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা গত শনিবার মৌলভীবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে সর্বস্তরের মানুষের শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে বিশিষ্ট আইনজীবী রমা কান্ত দাশ গুপ্তকে সভাপতি ও সাংস্কৃতিক কর্মী মোঃ খছরু চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদ গঠন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী লীলা নাগের জন্মমাটি রাজনগর উপজেলার প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব এবং ইউপি চেয়ারম্যান “মিলন বখত্”। অন্যান্য সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার “জামাল উদ্দিন”, প্রবীণ আইন বিশেষজ্ঞ শান্তি পদ ঘোষ, সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাংষ্কৃতিক সংগঠক ডাঃ এম এ আহাদ, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. ফললুল আলী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মায়া ওয়াহেদ, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, মৌলানা মুফজ্জল হোসেন মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমদ, রাজনগর সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহানারা রুবি, কবি- প্রাবন্ধিক ও গবেষক সৌমিত্র দেব টিটু, প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তি সৈয়দ আব্দুল মোত্তালিব রঞ্জু, লন্ডন সিটির বাঙালি সংস্কৃতির সংগঠক জয়দীপ রায়, রাজনগর উদীচীর আব্দুল ওয়াহিদ, প্রবীণ সাংবাদিক সরওয়ার আহমদ প্রমুখ অন্যান্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার শতাধিক সদস্যবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, লীলা নাগ আমাদের বাঙালির গর্ব। তাঁকে নিয়ে আমরা গর্বিত এই কারণে যে, তিনি আমাদের এ জেলার পাচঁগাঁও গ্রামের ভূমি কন্যা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী। বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এঁর মতো সমাজ পরিবর্তনের স্বাধীনতাকামী হাজারো তরুন-তরুনীরা তাঁর রাজনৈতিক শিষ্য ছিল। কোনো নারী কর্তৃক সম্পাদিত জয়শ্রী পত্রিকা ই ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম। তিনি দীপালি সংঘসহ অসংখ্য নারী জাগরণের বিদ্যাপীঠও গড়ে তুলেছিলেন। ঢাকার তিতুমীর কলেজ মূলত তাঁর হাতের তৈরী। বিপ্লবী ধারার এ মহিয়সী নারী ছিলেন দেশ-জাতি প্রেমের সুস্থ ধারার রাজনীতি ও নারী জাগরণের পথিকৃৎ। তাঁর জীবন সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের সামনে নিয়ে আসলে জাতি হিসেবে আমরা আলোকিত হবো। সুস্থতা ও দেশপ্রেমের রাজনীতি বিকশিত হবে। দুঃখজনক বিষয় , সরকারের হস্তক্ষেপে পাবনায় সুচিত্রা সেনের বাড়ী উদ্ধার হলেও আমাদের এলাকার গর্বিত এ নারীর পৈতৃক বাড়িটি একজন কুখ্যাত রাজাকার দখল করে রেখেছে। আজও উদ্ধার হয়নি। সরকারের সাথে বাড়ী নিয়ে সৃষ্ট মামলায় দুবার দখলদার ব্যক্তি হেরে গেলেও আজ ২২ বছর ধরে রিভিশন মামলাটি হাইকোর্টে ফাইল চাপা পড়ে আছে। বক্তারা বাড়িটি উদ্বারে সরকারের সুদৃস্টি আকর্ষণ করেন এবং লীলা নাগ স্মৃতি পরিষদ গঠনের প্রধান উদ্যোক্তা ডাঃ এম এ আহাদ মামলার ফাইলপত্র প্রবীণ আইন বিশেষজ্ঞ শান্তি পদ ঘোষ ও বৈঠকের সভাপতি অ্যাডভোকেট রমা কান্ত দাশ গুপ্ত দ্বয়ের হাতে হস্তান্তর করেন।