স্টাফ রিপোর্টার :: ভালবাসা কোন জাত ধর্ম মানে না, আপনজনের বন্ধন তাকে আটকে রাখতে পারে না, হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পারি দিয়ে চলে আসে প্রিয় মানুষের সাথে মিলতে। মৌলভীবাজার সদর থানার বরমান গ্রামের জুনেদ মিয়া সৌদী আরব থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসে প্রেমিকাকে সেইফ হোম থেকে মুক্ত করতে। গত ৫ এপ্রিল মৌলভীবাজার মডেল থানায় রায়শ্রী কামারকাপন গ্রামের জনৈক হিন্দু ব্যাক্তি একটি জিডি করেন তার মেয়ে এক মুসলিম ছেলের সাথে প্রেম করে স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ধর্মান্তরিত হয়ে জুনেদ মিয়ার বাড়িতে চলে যায়। ওই ব্যক্তির জিডির প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার মডেল থানার এসআই মো: আলমগীর মিয়া বর্তমান মুসকান জুনেদ নামীয় মেয়েটিকে জুনেদ মিয়ার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। মৌলভীবাজার চীফ জুডিশিয়াল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মেয়েটিকে সিলেট বাগবাড়ি সেইফ হোমে পাঠান।

গত ২১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার জুনেদ মিয়া সৌদী আরব থেকে দেশে আসেন। সোমবার ২৫ এপ্রিল মৌলভীবাজার বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আলী আহসান এর আদালতে মুসকান জুনেদ এর জবানবন্দীর ভিক্তিতে মৌলভীবাজার আইনজীবি সমিতির কার্যালয়ে ৬ লাখ টাকা দেন মোহর সাব্যস্ত করে জুনেদ মিয়া ও মুসকান জুনেদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। মেয়ের পক্ষে ছিলেন এ্যাভোকেট আজাদুর রহমান আজাদ ও ছেলের পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম সিরাজী। আদালতে আবেগঘন পরিবেশে বিচারক নব দম্পতিকে কিছু উপদেশ মূলক কথা বলেন। তাদের সংসার সুন্দর সুখী হওয়ার কামনা করেন। এসময় বিচারক বলেন, ধর্ম ত্যাগ করা যায়,কিন্তু বাবা মার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা যায় না। এক সময় বিচারক হয়তো এই আদালতে থাকবেন না। উপস্থিত আইনজীবি সহ সকলের প্রতি নব দম্পতির প্রতি খেয়াল রাখার অনুরুধ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 
























