5:05 am, Wednesday, 22 April 2026

রাজনগরে অন্ধকারে গ্রামের পর গ্রাম, কখন আসবে আলো অপেক্ষার প্রহর

বিশেষ প্রতিনিধি: ঝড়ে বিপর্যস্ত রাজনগরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ফলে বিদ্যুৎবিহীন গ্রামের পর গ্রাম অন্ধকারে রয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বারবার গিয়েও প্রতিকার মিলছেনা। এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছেন- লোকবল কম। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে। গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হবে। মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) থেকে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত বুধবার সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ঝড়ের পর থেকে প্রায় এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। পরের দিন বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) সদরের আশাপাশে কয়েকটি গ্রামে সংযোগ স্বাভাবিক হলেও এখনো বেশির ভাগ স্থানে নেই বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ অফিস জানিয়েছে, উপজেলার দশটি ফিডে বিদ্যুৎ সচল আছে। তবে গ্রামের ভিতরে সংযোগ লাইনগুলির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মিটারসহ লাইন ছিড়ে গেছে বহু জায়গায়।
উপজেলার মুন্সিবাজার, ফতেপুর, পাঁচগাও, টেংরা ও সদর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে এর সততা মিলেছে। মুন্সিবাজার ইউনিয়নের বালিগাঁও, সুনাটিকি, মেদিনীমহল, জামুরা, আলিচরগাঁও গ্রাম টেংরা ইউনিয়নের দক্ষিণ টেংরা, ইলাশপুর, দত্তগ্রাম, ডেফলউড়া, মনসুরনগর ইউনিয়নের আশ্রাকাপন, বকশিকোনা, পরচক্র, নেয়াগাঁও, গ্রাম মনসুরনগর, মদিপুর, কামারচাক ইউনিয়নের কামারচাক, প্রেমনগর, পাচগাঁও ইউনিয়নের দোগাঁও, পইতুরা, পশ্চিমভাগ, বাদেকুবজার আমিরপুর, রাজনগর সদর ইউনিয়নের মুরালী, বাগাজুড়া, মশরিয়া, দাশটিলা, কাকরিয়া, ভুজবল, মজিদপুরসহ প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রামগুলিতে নেই বিদ্যুৎ। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ে আছে গাছ। কোথাও লাইন পড়ে আছে মাটিতে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। লাইন সচল করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কারো দেখা না পাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

মুন্সিবাজার ইউনিয়নের বালিগাঁও গ্রামের তোফায়েল মিয়া জানান, ‘গত তিনদিন যাবত বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিয়ে জানালে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। লাইনে কাজ চলছে জানিয়ে ফোন কেটে দেন। এদিকে একই ইউনিয়নের সুনাটিকি গ্রামের নূরুল আমিন জানান, বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় প্রায় পঞ্চাশ ঘন্টা ধরে আছি। বিদ্যুৎ অফিসের কোনো তৎপরতা দেখছি না। এই দুর্ভোগের শেষ কবে? তা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সদর ইউনিয়নের মুরালী গ্রামের রাজু আহমেদ বলেন, ‘আজ তিনদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, লাইনের ওপর গাছ পরে আছে কিন্তু বারবার বিদ্যুৎ অফিসে জানানোর পরও লাইনের লোক একবারো আসেননি।’শুক্রবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজনগর বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ নিয়ে হাজির হন বকশিকোনা গ্রামের রুজেল মিয়া, আশ্রাকাপন গ্রামের সত্যদেব, মধিপুর গ্রামের মো. রায়হান। তারা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েও প্রতিকার মিলছেনা। তাদের বারবার ফোনে কল দিলেও ধরেন না। দুইদিন ধরে আমরা অন্ধকারে রয়েছি। এদিকে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটুকু তা জানাতে পারেনি খোদ বিদ্যুৎ অফিস। রাজনগর বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম তারেক মাহমুদের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ‘৩০ মার্চের ঝড়ে লাইনের যে ক্ষতি হয়েছিল তা ঠিক করে দেয়ার পরে ঐ দিনই পুনরায় ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে।’
তিনি বলেন, আজ শুক্রবার উপজেলার ৭০ শতাংশ লাইন সচল করা হবে। আগামীকাল শনিবার পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশি থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে একটু সময় লাগছে। লাইন সচল করতে তারা কাজ করছেন। রাজনগর বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. ‘গিয়াস উদ্দিন বলেন, লোকবল সংকট। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করতে সময় লাগবে। লাইন সচল করতে কাজ চলছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

রাজনগরে অন্ধকারে গ্রামের পর গ্রাম, কখন আসবে আলো অপেক্ষার প্রহর

Update Time : 03:59:45 pm, Friday, 2 April 2021

বিশেষ প্রতিনিধি: ঝড়ে বিপর্যস্ত রাজনগরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ফলে বিদ্যুৎবিহীন গ্রামের পর গ্রাম অন্ধকারে রয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে বারবার গিয়েও প্রতিকার মিলছেনা। এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছেন- লোকবল কম। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে। গ্রাহকদের অপেক্ষা করতে হবে। মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) থেকে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত বুধবার সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ঝড়ের পর থেকে প্রায় এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পরে। পরের দিন বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) সদরের আশাপাশে কয়েকটি গ্রামে সংযোগ স্বাভাবিক হলেও এখনো বেশির ভাগ স্থানে নেই বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ অফিস জানিয়েছে, উপজেলার দশটি ফিডে বিদ্যুৎ সচল আছে। তবে গ্রামের ভিতরে সংযোগ লাইনগুলির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মিটারসহ লাইন ছিড়ে গেছে বহু জায়গায়।
উপজেলার মুন্সিবাজার, ফতেপুর, পাঁচগাও, টেংরা ও সদর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে এর সততা মিলেছে। মুন্সিবাজার ইউনিয়নের বালিগাঁও, সুনাটিকি, মেদিনীমহল, জামুরা, আলিচরগাঁও গ্রাম টেংরা ইউনিয়নের দক্ষিণ টেংরা, ইলাশপুর, দত্তগ্রাম, ডেফলউড়া, মনসুরনগর ইউনিয়নের আশ্রাকাপন, বকশিকোনা, পরচক্র, নেয়াগাঁও, গ্রাম মনসুরনগর, মদিপুর, কামারচাক ইউনিয়নের কামারচাক, প্রেমনগর, পাচগাঁও ইউনিয়নের দোগাঁও, পইতুরা, পশ্চিমভাগ, বাদেকুবজার আমিরপুর, রাজনগর সদর ইউনিয়নের মুরালী, বাগাজুড়া, মশরিয়া, দাশটিলা, কাকরিয়া, ভুজবল, মজিদপুরসহ প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রামগুলিতে নেই বিদ্যুৎ। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ে আছে গাছ। কোথাও লাইন পড়ে আছে মাটিতে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। লাইন সচল করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কারো দেখা না পাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

মুন্সিবাজার ইউনিয়নের বালিগাঁও গ্রামের তোফায়েল মিয়া জানান, ‘গত তিনদিন যাবত বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ অফিসে ফোন দিয়ে জানালে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। লাইনে কাজ চলছে জানিয়ে ফোন কেটে দেন। এদিকে একই ইউনিয়নের সুনাটিকি গ্রামের নূরুল আমিন জানান, বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় প্রায় পঞ্চাশ ঘন্টা ধরে আছি। বিদ্যুৎ অফিসের কোনো তৎপরতা দেখছি না। এই দুর্ভোগের শেষ কবে? তা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সদর ইউনিয়নের মুরালী গ্রামের রাজু আহমেদ বলেন, ‘আজ তিনদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, লাইনের ওপর গাছ পরে আছে কিন্তু বারবার বিদ্যুৎ অফিসে জানানোর পরও লাইনের লোক একবারো আসেননি।’শুক্রবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজনগর বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ নিয়ে হাজির হন বকশিকোনা গ্রামের রুজেল মিয়া, আশ্রাকাপন গ্রামের সত্যদেব, মধিপুর গ্রামের মো. রায়হান। তারা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েও প্রতিকার মিলছেনা। তাদের বারবার ফোনে কল দিলেও ধরেন না। দুইদিন ধরে আমরা অন্ধকারে রয়েছি। এদিকে ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কতটুকু তা জানাতে পারেনি খোদ বিদ্যুৎ অফিস। রাজনগর বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম তারেক মাহমুদের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ‘৩০ মার্চের ঝড়ে লাইনের যে ক্ষতি হয়েছিল তা ঠিক করে দেয়ার পরে ঐ দিনই পুনরায় ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে।’
তিনি বলেন, আজ শুক্রবার উপজেলার ৭০ শতাংশ লাইন সচল করা হবে। আগামীকাল শনিবার পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, ‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশি থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করতে একটু সময় লাগছে। লাইন সচল করতে তারা কাজ করছেন। রাজনগর বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম মো. ‘গিয়াস উদ্দিন বলেন, লোকবল সংকট। ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করতে সময় লাগবে। লাইন সচল করতে কাজ চলছে।