5:09 am, Wednesday, 22 April 2026

শিখ নেতা হত্যা নিয়ে কানাডার অভিযোগ খারিজ ভারতের

ডেস্ক রিপোর্ট : খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যায় মদত রয়েছে ভারতের। সংসদে দাঁড়িয়ে এমনটাই মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এখানেই শেষ নয়। এরপরই কানাডার বিদেশমন্ত্রী মেলানিয়া জোলি ভারতের শীর্ষ কূটনীতিককে কানাডা থেকে বহিষ্কার করেন। গোটা ঘটনা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে দুই দেশের মধ্যে। এই মর্মে এবার মুখ খুলল ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে অফিসিয়াল বিবৃতি দিয়ে ঘোষণা করা হল, কানাডা সরকারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই হত্যাকাণ্ডে ভারতের কোনও যোগ নেই।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, এই ধরনের প্রমাণ ছাড়া তোলা অভিযোগ খালিস্তানি সন্ত্রাসবাদী এবং চরমপন্থীদের থেকে মনোযোগ সরাতেই তৈরি করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, ‘কানাডার প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সংসদে দাঁড়িয়ে যে অভিযোগ করেছে তা আমরা দেখেছি। এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। কানাডার বিদেশমন্ত্রীও যে মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’ একইসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘এর আগেও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে এই অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু, তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং ইচ্ছাকৃত।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে প্রকাশিত অফিসিয়াল বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে আইনের ভূমিকা সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কোনও তথ্য প্রমাণ ছাড়া এই ধরনের অভিযোগগুলি খালিস্তানি সন্ত্রাসবাদী এবং চরমপন্থীদের থেকে ফোকাস সরিয়ে নিতে তৈরি করা হচ্ছে। যাদের কানাডায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে যারা ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছে, তাদের থেকে নজর সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে কানাডিয়ান সরকারের নিষ্ক্রিয়তা উদ্বেগজনক। কানাডিয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা প্রকাশ্যে এই ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছে যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।’

রীতিমতো কানাডিয়ান সরকারকে নিশানা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ‘কানাডায় খুন, মানব পাচার এবং সংগঠিত অপরাধ সহ বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপ নতুন নয়। এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে ভারত সরকারকে যুক্ত করার প্রচেষ্টা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। কানাডা সরকারকে ভারত-বিরোধী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কার্যকরী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

জানা গেছে, এই গোটা ঘটনাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কানেও তুলেছেন জাস্টিন ট্রুডো। তিনি কানাডার সংসদে বলেন, ‘আমি একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়ে সংসদকে সচেতন করতে চাই। আমি বিরোধী দলের নেতাদের সরাসরি জানিয়েছি। কিন্তু, আমি এখন সব কানাডাবাসীকে বলতে চাই। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কানাডার নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সক্রিয়ভাবে কানাডিয়ান নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জর এবং ভারত সরকারের মধ্যে সম্ভাব্য সংযোগের অভিযোগের তদন্ত করছে। কানাডা এরটি আইন মান্যকারী দেশ। আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং আমাদের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা আমাদেরই করতে হবে।’

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

শিখ নেতা হত্যা নিয়ে কানাডার অভিযোগ খারিজ ভারতের

Update Time : 07:40:29 am, Tuesday, 19 September 2023

ডেস্ক রিপোর্ট : খালিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যায় মদত রয়েছে ভারতের। সংসদে দাঁড়িয়ে এমনটাই মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এখানেই শেষ নয়। এরপরই কানাডার বিদেশমন্ত্রী মেলানিয়া জোলি ভারতের শীর্ষ কূটনীতিককে কানাডা থেকে বহিষ্কার করেন। গোটা ঘটনা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে দুই দেশের মধ্যে। এই মর্মে এবার মুখ খুলল ভারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে অফিসিয়াল বিবৃতি দিয়ে ঘোষণা করা হল, কানাডা সরকারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই হত্যাকাণ্ডে ভারতের কোনও যোগ নেই।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, এই ধরনের প্রমাণ ছাড়া তোলা অভিযোগ খালিস্তানি সন্ত্রাসবাদী এবং চরমপন্থীদের থেকে মনোযোগ সরাতেই তৈরি করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, ‘কানাডার প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সংসদে দাঁড়িয়ে যে অভিযোগ করেছে তা আমরা দেখেছি। এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। কানাডার বিদেশমন্ত্রীও যে মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’ একইসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘এর আগেও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে এই অভিযোগ নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু, তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং ইচ্ছাকৃত।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে প্রকাশিত অফিসিয়াল বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে আইনের ভূমিকা সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কোনও তথ্য প্রমাণ ছাড়া এই ধরনের অভিযোগগুলি খালিস্তানি সন্ত্রাসবাদী এবং চরমপন্থীদের থেকে ফোকাস সরিয়ে নিতে তৈরি করা হচ্ছে। যাদের কানাডায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং ভারতের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে যারা ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছে, তাদের থেকে নজর সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে কানাডিয়ান সরকারের নিষ্ক্রিয়তা উদ্বেগজনক। কানাডিয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা প্রকাশ্যে এই ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছে যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।’

রীতিমতো কানাডিয়ান সরকারকে নিশানা করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ‘কানাডায় খুন, মানব পাচার এবং সংগঠিত অপরাধ সহ বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপ নতুন নয়। এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে ভারত সরকারকে যুক্ত করার প্রচেষ্টা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। কানাডা সরকারকে ভারত-বিরোধী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কার্যকরী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।’

জানা গেছে, এই গোটা ঘটনাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কানেও তুলেছেন জাস্টিন ট্রুডো। তিনি কানাডার সংসদে বলেন, ‘আমি একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়ে সংসদকে সচেতন করতে চাই। আমি বিরোধী দলের নেতাদের সরাসরি জানিয়েছি। কিন্তু, আমি এখন সব কানাডাবাসীকে বলতে চাই। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কানাডার নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সক্রিয়ভাবে কানাডিয়ান নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জর এবং ভারত সরকারের মধ্যে সম্ভাব্য সংযোগের অভিযোগের তদন্ত করছে। কানাডা এরটি আইন মান্যকারী দেশ। আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং আমাদের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা আমাদেরই করতে হবে।’