2:10 pm, Thursday, 23 April 2026

পণ্যবাহী জাহাজ জব্দের প্রতিশোধে মার্কিন জাহাজে হামলা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: মার্কিন বাহিনী একটি ইরানি জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটিকে জব্দ করার প্রতিশোধ হিসেবে রোববার ইরানি বাহিনী একাধিক মার্কিন জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে মার্কিন বাহিনী ‘তুসকা’ নামের কন্টেইনার জাহাজ দখলে নেওয়ার পর মার্কিন জাহাজগুলোর ওপর ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়। তবে লক্ষ্যবস্তু সামরিক জাহাজ নাকি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

এর আগে ইরান নিশ্চিত করেছিল যে মার্কিন বাহিনী ইরানি জাহাজটি জব্দ করেছে এবং এ পদক্ষেপের পর তারা ‘শিগগিরই’ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা এ পদক্ষেপকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে, যা ৭ এপ্রিল ঘোষণার পর থেকে মূলত কার্যকর ছিল।

আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করে, এর নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দেয় এবং তাতে আরোহণ করে।

জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা থেকে দেখা যায়, ‘তুসকা’ জাহাজটি গত ১২ এপ্রিল মালয়েশিয়ার ক্লাং বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।

ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি বলেছেন, মার্কিন বাহিনী তাদের জাহাজ দখলে নেওয়ার আগে সেটির ওপর গুলি চালায়।

রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম এ ঘটনার কথা ঘোষণা করেন এবং পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তা নিশ্চিত করে। সেন্টকম জানায়, ইউএসএস স্প্রুয়েন্স নামের জাহাজটি ইরানের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজকে আটক করেছে, যেটি ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল।

সেন্টকমের মতে, মেরিন সেনারা জাহাজটিকে মার্কিন হেফাজতে রেখেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজটি ইরানের বন্দর আব্বাস বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।

সেন্টকম মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সংস্থা এক্স-এর প্ল্যাটফর্মে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ গুলি চালানোর আগে জাহাজটিকে সতর্ক করছে।

যোলফাগারি বলেন, আগ্রাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে এবং সামুদ্রিক জলদস্যুতায় লিপ্ত হয়ে ইরানের একটি জাহাজের নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দিয়ে সেটিতে হামলা চালিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন বাহিনী জাহাজটিতে ‘বেশ কিছু সন্ত্রাসী মেরিন সেনা’ নামানোর পর সেটি দখলে নেয়।

তিনি বলেন, আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এ সশস্ত্র জলদস্যুতার বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক বাহিনী শিগগিরই জবাব দেবে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

‘স্মার্ট কৃষি’ গড়তে একগুচ্ছ মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার

পণ্যবাহী জাহাজ জব্দের প্রতিশোধে মার্কিন জাহাজে হামলা ইরানের

Update Time : 07:24:12 am, Monday, 20 April 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: মার্কিন বাহিনী একটি ইরানি জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটিকে জব্দ করার প্রতিশোধ হিসেবে রোববার ইরানি বাহিনী একাধিক মার্কিন জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে মার্কিন বাহিনী ‘তুসকা’ নামের কন্টেইনার জাহাজ দখলে নেওয়ার পর মার্কিন জাহাজগুলোর ওপর ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়। তবে লক্ষ্যবস্তু সামরিক জাহাজ নাকি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।

এর আগে ইরান নিশ্চিত করেছিল যে মার্কিন বাহিনী ইরানি জাহাজটি জব্দ করেছে এবং এ পদক্ষেপের পর তারা ‘শিগগিরই’ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা এ পদক্ষেপকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে, যা ৭ এপ্রিল ঘোষণার পর থেকে মূলত কার্যকর ছিল।

আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর বলেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন বাহিনী জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করে, এর নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দেয় এবং তাতে আরোহণ করে।

জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা থেকে দেখা যায়, ‘তুসকা’ জাহাজটি গত ১২ এপ্রিল মালয়েশিয়ার ক্লাং বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।

ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি বলেছেন, মার্কিন বাহিনী তাদের জাহাজ দখলে নেওয়ার আগে সেটির ওপর গুলি চালায়।

রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম এ ঘটনার কথা ঘোষণা করেন এবং পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তা নিশ্চিত করে। সেন্টকম জানায়, ইউএসএস স্প্রুয়েন্স নামের জাহাজটি ইরানের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজকে আটক করেছে, যেটি ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল।

সেন্টকমের মতে, মেরিন সেনারা জাহাজটিকে মার্কিন হেফাজতে রেখেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজটি ইরানের বন্দর আব্বাস বন্দরের দিকে যাচ্ছিল।

সেন্টকম মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সংস্থা এক্স-এর প্ল্যাটফর্মে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ গুলি চালানোর আগে জাহাজটিকে সতর্ক করছে।

যোলফাগারি বলেন, আগ্রাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে এবং সামুদ্রিক জলদস্যুতায় লিপ্ত হয়ে ইরানের একটি জাহাজের নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দিয়ে সেটিতে হামলা চালিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন বাহিনী জাহাজটিতে ‘বেশ কিছু সন্ত্রাসী মেরিন সেনা’ নামানোর পর সেটি দখলে নেয়।

তিনি বলেন, আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এ সশস্ত্র জলদস্যুতার বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক বাহিনী শিগগিরই জবাব দেবে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।