12:51 pm, Friday, 22 May 2026

শ্রীমঙ্গলে শীতের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড

এহসান বিন মুজাহির : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা ও হাওরাঞ্চলের অসহায়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শ্রীমঙ্গলে সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েক দিন ধরেই উপজেলাজুড়ে চলছে শীতের দাপট। প্রচণ্ড শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। পাশাপাশি রাতে কুয়াশার ঘনত্বও বেশি থাকছে। এই কনকনে শীত উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বেরিয়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। বলা চলে, পাহাড়-টিলা, হাওর, চা-বাগান অধ্যুষিত জেলা মৌলভীবাজারে শীতের প্রভাব পড়ছে প্রান্তিক জনপদ থেকে নগরজীবনে। উপজেলার ভাড়াউরা চা-বাগানের শ্রমিক সুমন গোয়ালা বলেন, রাতের বেলা চা-বাগানে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ে। আমাদের অনেক কষ্ট করে থাকতে হয়। সবার ঘরে চাহিদামতো গরম কাপড় নেই। সরকার থেকে যদি ব্যাপকভাবে শীতের কাপড় বিতরণ করা হতো, তাহলে উপকার হতো। হাওরাঞ্চলের জেলে, কৃষক ও শ্রমজীবী লোকজন বিপাকে রয়েছেন। শীত উপেক্ষা করেই তাঁদের খুব সকালে কাজের তাগিদে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের হাওর এলাকার কৃষক শাহেদ মিয়া বলেন,প্রচণ্ড ঠান্ডায় চাষাবাদ করতে পারছি না। সারা দিন রোদের দেখা পাওয়া যায় না, ফলে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। শ্রীমঙ্গলে শীতের প্রকোপ বাড়ায় উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি উদ্যোগেও শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শ্রীমঙ্গল শহরসহ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার ১৩ হাজার পরিবারের মাঝে ইতোমধ্যে কম্বল বিতরণ করেছেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মহসিন মিয়া মধু।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার মোট ৬০০ হতদরিদ্র মানুষকে সরকারের ত্রাণ তহবিল থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে শ্রীমঙ্গলের জন্য ৬০০ পিস কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ বরাদ্দকৃত কম্বল ইতোমধ্যে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও জানান, আশা করছি শিগগিরই আরও বরাদ্দ পাওয়া যাবে। বরাদ্দ আসার পর সেগুলোও পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মো. আনিসুর রহমান জানান, সোমবার শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি শীত মৌসুমে শ্রীমঙ্গলে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এটিই। তিনি আরও জানান গত এক সপ্তাহে শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি থেকে ১৪ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। শীত আরও বাড়ার আভাস দিয়েছে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিলো দুই দশমিক আট ডিগ্রি এবং ১৯৬৬ সালের ২৯ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো তিন দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৯৫ সালের ৪ জানুয়ারি, ২০০৭ সালের ১৭ জানুয়ারি, ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিলো চার ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি

শ্রীমঙ্গলে শীতের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড

Update Time : 11:48:26 am, Monday, 23 December 2024

এহসান বিন মুজাহির : মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকা ও হাওরাঞ্চলের অসহায়, দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শ্রীমঙ্গলে সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েক দিন ধরেই উপজেলাজুড়ে চলছে শীতের দাপট। প্রচণ্ড শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। পাশাপাশি রাতে কুয়াশার ঘনত্বও বেশি থাকছে। এই কনকনে শীত উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বেরিয়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। বলা চলে, পাহাড়-টিলা, হাওর, চা-বাগান অধ্যুষিত জেলা মৌলভীবাজারে শীতের প্রভাব পড়ছে প্রান্তিক জনপদ থেকে নগরজীবনে। উপজেলার ভাড়াউরা চা-বাগানের শ্রমিক সুমন গোয়ালা বলেন, রাতের বেলা চা-বাগানে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ে। আমাদের অনেক কষ্ট করে থাকতে হয়। সবার ঘরে চাহিদামতো গরম কাপড় নেই। সরকার থেকে যদি ব্যাপকভাবে শীতের কাপড় বিতরণ করা হতো, তাহলে উপকার হতো। হাওরাঞ্চলের জেলে, কৃষক ও শ্রমজীবী লোকজন বিপাকে রয়েছেন। শীত উপেক্ষা করেই তাঁদের খুব সকালে কাজের তাগিদে ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের হাওর এলাকার কৃষক শাহেদ মিয়া বলেন,প্রচণ্ড ঠান্ডায় চাষাবাদ করতে পারছি না। সারা দিন রোদের দেখা পাওয়া যায় না, ফলে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। শ্রীমঙ্গলে শীতের প্রকোপ বাড়ায় উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি উদ্যোগেও শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। জানা যায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শ্রীমঙ্গল শহরসহ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার ১৩ হাজার পরিবারের মাঝে ইতোমধ্যে কম্বল বিতরণ করেছেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. মহসিন মিয়া মধু।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার মোট ৬০০ হতদরিদ্র মানুষকে সরকারের ত্রাণ তহবিল থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে শ্রীমঙ্গলের জন্য ৬০০ পিস কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ বরাদ্দকৃত কম্বল ইতোমধ্যে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও জানান, আশা করছি শিগগিরই আরও বরাদ্দ পাওয়া যাবে। বরাদ্দ আসার পর সেগুলোও পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মো. আনিসুর রহমান জানান, সোমবার শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি শীত মৌসুমে শ্রীমঙ্গলে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এটিই। তিনি আরও জানান গত এক সপ্তাহে শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি থেকে ১৪ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। শীত আরও বাড়ার আভাস দিয়েছে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিলো দুই দশমিক আট ডিগ্রি এবং ১৯৬৬ সালের ২৯ জানুয়ারি সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো তিন দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। ১৯৯৫ সালের ৪ জানুয়ারি, ২০০৭ সালের ১৭ জানুয়ারি, ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিলো চার ডিগ্রি সেলসিয়াস।