9:49 pm, Thursday, 21 May 2026

সময়কে ছাপিয়ে আজও রহস্যাবৃত মেরিলিন মনরো

বিনোদন ডেস্ক :: নর্মা জিন মর্টেনসন, পরবর্তীতে মেরিলিন মনরো। এই নামেই ঝড় তুলেছিলেন মার্কিন মডেল, অভিনেত্রী। খুব কম সময়েই জায়গা করেছিলেন হলিউডের প্রথম সারিতে। সম্ভবত আজও পৃথিবীর সবথেকে গ্ল্যামারাস নারী তিনিই।

বেঁচে থাকলে আজ বয়স হতো ৯৫ বছর। তবে তাঁর চলে যাওয়ার এত বছর পরেও তো থামেনি মেরিলিন মনরো আখ্যান। আজও আমেরিকার পাম স্প্রিংস আর্ট মিউজিয়ামের সামনে তাঁর উড়ন্ত স্কার্টের ২৬ ফুট উঁচু মূর্তি নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্ম মানসিক ভারসাম্যহীন এক মায়ের কোলে। আমৃত্যু জানতে পারেননি পিতৃপরিচয়। রূপোলি জগতের আলো, তাঁর প্রতি পুরুষের গভীর আকর্ষণ- এই সব ছাড়িয়েও তিনি হলিউডের এক সফল অভিনেত্রী, গায়িকা, মডেল।

ডেঞ্জারাস ইয়ার্স (১৯৪৭), অ্যাজ ইয়ং অ্যাজ ইউ ফিল (১৯৫১), লেটস্‌ মেক ইট লিগাল (১৯৫১), দ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্য শোগার্ল (১৯৫৭), মাঙ্কি বিজনেস (১৯৫২), দ্য সেভেন ইয়ার ইচ (১৯৫৫)- দু-দশকের কেরিয়ারে মোট ৩৪টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

একাধিক বিয়ে, প্রেম, সম্পর্কের গুঞ্জন- ব্যক্তিগত জীবনেও কম বিতর্ক ছিল না গ্ল্যামার কুইনের। ১৬ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে। তারপর আরও দুবার বিয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ হন মেরিলিন। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

লার্জার দ্যান লাইভ, অসম্ভব সাফল্যের আড়ালেও একাকীত্বে ভুগতেন অভিনেত্রী। ২৫ বছর বয়সের আগেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনবার। শোনা যায় ২৯ বছরের মধ্যে গর্ভপাত করিয়েছিলেন ১২ বার।

তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরিতে নাকি ৩৭ জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের নাম পাওয়া যায়। বহুবার বাড়ি বদলেছিলেন তিনি। জড়িয়েছিলেন কেনেডি ব্রার্দাসদের প্রেমে। মনে করা হয় সেই সম্পর্কই জীবনের ইতি টানল মেরিলিন মনরোর।

মনরো গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন প্রথমে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি আর পরে তাঁর ভাই রবার্ট কেনেডির সঙ্গে। তবে সম্পর্কের স্বীকৃতি পাননি কখনওই। জন কেনেডি তাঁকে ডাকতেন সুইট ক্যান্ডি নামে।

পরবর্তীতে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়িতে আত্মহত্যা করেন গ্ল্যামার কুইন। সরকারি তরফে বলা আত্মঘাতী। তবে কেন মৃত্যুকে বরণ করলেন মেরিলিন, কেন তাঁর হাতে ফোনের রিসিভার ছিল, কেনই বা নগ্ন অবস্থায় চাদরের তলায় পাওয়া গিয়েছিল তাঁকে সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। শুধু জানা গিয়েছে, রক্তে ছিল অস্বাভাবিক পরিমাণে ঘুমের ওষুধ ক্লোরাল হাইড্রেট।

আত্মশক্তি, বডি পজিটিভ, নারীবাদী, ফরওয়ার্ড থিঙ্কার- এই বিশেষণগুলো তখন শক্ত থাবা বসায়নি মানুষের মনে। আজ হয়তো মনরো থাকলে তাঁকে নিয়ে কাহিনি সেজে উঠত অন্যভাবে। কে বলতে পারে তখন কেবলমাত্র সেক্স সিম্বল, ব্লন্ড বম্বশেল-এর তকমায় আটকে থাকতে হত না বছর ৩৬-এর সবথেকে আকর্ষণীয় যুবতীকে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি

সময়কে ছাপিয়ে আজও রহস্যাবৃত মেরিলিন মনরো

Update Time : 06:18:27 am, Tuesday, 1 June 2021

বিনোদন ডেস্ক :: নর্মা জিন মর্টেনসন, পরবর্তীতে মেরিলিন মনরো। এই নামেই ঝড় তুলেছিলেন মার্কিন মডেল, অভিনেত্রী। খুব কম সময়েই জায়গা করেছিলেন হলিউডের প্রথম সারিতে। সম্ভবত আজও পৃথিবীর সবথেকে গ্ল্যামারাস নারী তিনিই।

বেঁচে থাকলে আজ বয়স হতো ৯৫ বছর। তবে তাঁর চলে যাওয়ার এত বছর পরেও তো থামেনি মেরিলিন মনরো আখ্যান। আজও আমেরিকার পাম স্প্রিংস আর্ট মিউজিয়ামের সামনে তাঁর উড়ন্ত স্কার্টের ২৬ ফুট উঁচু মূর্তি নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্ম মানসিক ভারসাম্যহীন এক মায়ের কোলে। আমৃত্যু জানতে পারেননি পিতৃপরিচয়। রূপোলি জগতের আলো, তাঁর প্রতি পুরুষের গভীর আকর্ষণ- এই সব ছাড়িয়েও তিনি হলিউডের এক সফল অভিনেত্রী, গায়িকা, মডেল।

ডেঞ্জারাস ইয়ার্স (১৯৪৭), অ্যাজ ইয়ং অ্যাজ ইউ ফিল (১৯৫১), লেটস্‌ মেক ইট লিগাল (১৯৫১), দ্য প্রিন্স অ্যান্ড দ্য শোগার্ল (১৯৫৭), মাঙ্কি বিজনেস (১৯৫২), দ্য সেভেন ইয়ার ইচ (১৯৫৫)- দু-দশকের কেরিয়ারে মোট ৩৪টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

একাধিক বিয়ে, প্রেম, সম্পর্কের গুঞ্জন- ব্যক্তিগত জীবনেও কম বিতর্ক ছিল না গ্ল্যামার কুইনের। ১৬ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে। তারপর আরও দুবার বিয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ হন মেরিলিন। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

লার্জার দ্যান লাইভ, অসম্ভব সাফল্যের আড়ালেও একাকীত্বে ভুগতেন অভিনেত্রী। ২৫ বছর বয়সের আগেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনবার। শোনা যায় ২৯ বছরের মধ্যে গর্ভপাত করিয়েছিলেন ১২ বার।

তাঁর ব্যক্তিগত ডায়েরিতে নাকি ৩৭ জন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের নাম পাওয়া যায়। বহুবার বাড়ি বদলেছিলেন তিনি। জড়িয়েছিলেন কেনেডি ব্রার্দাসদের প্রেমে। মনে করা হয় সেই সম্পর্কই জীবনের ইতি টানল মেরিলিন মনরোর।

মনরো গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন প্রথমে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি আর পরে তাঁর ভাই রবার্ট কেনেডির সঙ্গে। তবে সম্পর্কের স্বীকৃতি পাননি কখনওই। জন কেনেডি তাঁকে ডাকতেন সুইট ক্যান্ডি নামে।

পরবর্তীতে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাড়িতে আত্মহত্যা করেন গ্ল্যামার কুইন। সরকারি তরফে বলা আত্মঘাতী। তবে কেন মৃত্যুকে বরণ করলেন মেরিলিন, কেন তাঁর হাতে ফোনের রিসিভার ছিল, কেনই বা নগ্ন অবস্থায় চাদরের তলায় পাওয়া গিয়েছিল তাঁকে সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। শুধু জানা গিয়েছে, রক্তে ছিল অস্বাভাবিক পরিমাণে ঘুমের ওষুধ ক্লোরাল হাইড্রেট।

আত্মশক্তি, বডি পজিটিভ, নারীবাদী, ফরওয়ার্ড থিঙ্কার- এই বিশেষণগুলো তখন শক্ত থাবা বসায়নি মানুষের মনে। আজ হয়তো মনরো থাকলে তাঁকে নিয়ে কাহিনি সেজে উঠত অন্যভাবে। কে বলতে পারে তখন কেবলমাত্র সেক্স সিম্বল, ব্লন্ড বম্বশেল-এর তকমায় আটকে থাকতে হত না বছর ৩৬-এর সবথেকে আকর্ষণীয় যুবতীকে।