10:21 pm, Wednesday, 8 July 2026

সাংগু-মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

ডেস্ক রিপোর্ট : টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা সদর, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আওতায় পড়ে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সাংগু নদীর পানি ১৪ দশমিক ৮৮৯ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা সদরের আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরে বাংলা নগরসহ নদীতীরবর্তী ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে।

এতে ঘরবাড়ি তলিয়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছে।
বান্দরবান সরকারি শহর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে সাংগু নদীর পানি বেড়ে আমাদের ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। খাবার পানির জন্যও অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে।’

একই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা জরিনা বেগম বলেন, ‘বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার বন্যার পানিতে ঘরের অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।’

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকার মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কাউয়াদিঘি হাওরের পানি দ্রুত নিষ্কাষণ করে ধান রুপনের সুযোগ তৈরী করে দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন

সাংগু-মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

Update Time : 09:27:22 am, Wednesday, 8 July 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা সদর, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আওতায় পড়ে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সাংগু নদীর পানি ১৪ দশমিক ৮৮৯ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা সদরের আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, শেরে বাংলা নগরসহ নদীতীরবর্তী ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে।

এতে ঘরবাড়ি তলিয়ে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছে।
বান্দরবান সরকারি শহর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে সাংগু নদীর পানি বেড়ে আমাদের ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। খাবার পানির জন্যও অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে।’

একই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা জরিনা বেগম বলেন, ‘বৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার বন্যার পানিতে ঘরের অনেক মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই।’

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলার সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকার মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।