5:46 pm, Friday, 22 May 2026

স্বেচ্ছায় কুলাউড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ মনু নদীর বেলরতল বাঁধ সংস্কার

স্টাফ রিপোর্টার :: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর ও ধলিয়া গ্রামের মনু নদীর বেলরতল বাঁধ সংস্কারে স্বেচ্ছায় কাজ করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী, বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। গত ২২ আগষ্ট টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির কারণে মনু নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ বেলরতল বাঁধ ভাঙার লক্ষণ দেখা দেয়। তাৎক্ষনিক রাত ১:৩০ মিনিটে এলাকার স্থানীয় ইয়াসিন আলী, ফয়জুল হক সহ দ্রæত বাঁধে এসে বস্তা দিয়ে বাঁধের সুড়ঙ্গ বন্ধ করার চেষ্টা করে। পরে সাবেক ইউপি সদস্য মো. আব্বাছ আলী, উম্মর আলী, জুম্মা আহমদ সহ আরো অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁধকে রক্ষা করতে সারা রাতব্যাপী কাজ করেছেন। স্থানীয় এলাকায় প্রায় চার হাজার মানুষের বসবাস। অত্র ইউনিয়নের প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষের বসবাস। যদি এই বাঁধ ভাঙন দেখা দিতো তাহলে কুলাউড়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হতো। অসহায় হয়ে পড়তো হাজার হাজার মানুষ। বিগত ২০০৪ সালে বেলরতল বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। যার ফলে কুলাউড়া উপজেলার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। ঘরবাড়ি, গবাদি পশু, কৃষি জমি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন কৃষকরা। এইসব অসহায় মানুষদের পানি বন্দি থেকে বাঁচানোর জন্য রাতভর এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধকে বস্তা দিয়ে সংস্কার করে স্থানীয় এলাকাবাসী।  ২৪ আগষ্ট সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভারত থেকে আসা মনু নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কারের জন্য স্বেচ্ছায় কুলাউড়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এসে বস্তা ও মাটি দিয়ে বাঁধ সংস্কার কাজ করছেন। বিশেষ করে স্থানীয় এলাকাবাসী, স্টুডেন্ট সোসাইটি রবিরবাজার, লংলা শতাব্দী রেলওয়ে মুক্ত স্কাউট গ্রæপ, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি সবাই একত্রিত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের সংস্কারে কাজ করছেন। বিকেল বেলায় বাঁধের পাড়ে দেখতে গেলে দেখা যায় সাবেক ইউপি সদস্য আব্বাছ আলী, ইউপি সদস্য কবির হোসেন, রবিরবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মোঃ নাসির উদ্দিন, সাংবাদিক হাসান আল মাহমুদ রাজু, যুবদল নেতা তারেক আহমদ, সমাজকর্মী ফয়জুল ইসলাম, আকুল মিয়া, উম্মর আলী, জুম্মা আহমদ, আনসার মিয়া, কাদির মিয়া সহ স্থানীয় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষও উপস্থিত ছিলেন।  বাঁধ সংস্কার কাজের জন্য স্বেচ্ছায় এক লক্ষ টাকা প্রদান করেন ডাঃ মনিরুল ইসলাম সোহাগ। সংস্কার কাজের সকলকে আপ্যায়ন করান স্থানীয় লোকজন এবং আগামীকাল আপ্যায়ন করাবেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাবু নন্দলাল, সৌদি প্রবাসী আবু সুফিয়ান প্রমুখ।
এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য আব্বাছ আলী বলেন, ২২ আগষ্ট রাত থেকে আমরা স্থানীয় লোকজন নিয়ে বেলরতল এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধকে মেরামত করে যাচ্ছি। যাতে ভাঙ্গন দেখা না দেয়। এলাকাবাসীর কষ্টের কথা চিন্তা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং এই ভয়াবহ বন্যা থেকে এখন পর্যন্ত রক্ষা পেয়েছি। চিরস্থায়ী রক্ষার্থে বাঁধে সংস্কারের প্রয়োজন। বøক ও বস্তার প্রয়োজন। তাই আমরা এই বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই চ্যালেঞ্জ: সিইসি

স্বেচ্ছায় কুলাউড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ মনু নদীর বেলরতল বাঁধ সংস্কার

Update Time : 11:59:27 am, Saturday, 24 August 2024

স্টাফ রিপোর্টার :: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর ও ধলিয়া গ্রামের মনু নদীর বেলরতল বাঁধ সংস্কারে স্বেচ্ছায় কাজ করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী, বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। গত ২২ আগষ্ট টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির কারণে মনু নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ বেলরতল বাঁধ ভাঙার লক্ষণ দেখা দেয়। তাৎক্ষনিক রাত ১:৩০ মিনিটে এলাকার স্থানীয় ইয়াসিন আলী, ফয়জুল হক সহ দ্রæত বাঁধে এসে বস্তা দিয়ে বাঁধের সুড়ঙ্গ বন্ধ করার চেষ্টা করে। পরে সাবেক ইউপি সদস্য মো. আব্বাছ আলী, উম্মর আলী, জুম্মা আহমদ সহ আরো অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁধকে রক্ষা করতে সারা রাতব্যাপী কাজ করেছেন। স্থানীয় এলাকায় প্রায় চার হাজার মানুষের বসবাস। অত্র ইউনিয়নের প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষের বসবাস। যদি এই বাঁধ ভাঙন দেখা দিতো তাহলে কুলাউড়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হতো। অসহায় হয়ে পড়তো হাজার হাজার মানুষ। বিগত ২০০৪ সালে বেলরতল বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। যার ফলে কুলাউড়া উপজেলার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। ঘরবাড়ি, গবাদি পশু, কৃষি জমি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন কৃষকরা। এইসব অসহায় মানুষদের পানি বন্দি থেকে বাঁচানোর জন্য রাতভর এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধকে বস্তা দিয়ে সংস্কার করে স্থানীয় এলাকাবাসী।  ২৪ আগষ্ট সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভারত থেকে আসা মনু নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কারের জন্য স্বেচ্ছায় কুলাউড়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এসে বস্তা ও মাটি দিয়ে বাঁধ সংস্কার কাজ করছেন। বিশেষ করে স্থানীয় এলাকাবাসী, স্টুডেন্ট সোসাইটি রবিরবাজার, লংলা শতাব্দী রেলওয়ে মুক্ত স্কাউট গ্রæপ, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি সবাই একত্রিত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের সংস্কারে কাজ করছেন। বিকেল বেলায় বাঁধের পাড়ে দেখতে গেলে দেখা যায় সাবেক ইউপি সদস্য আব্বাছ আলী, ইউপি সদস্য কবির হোসেন, রবিরবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মোঃ নাসির উদ্দিন, সাংবাদিক হাসান আল মাহমুদ রাজু, যুবদল নেতা তারেক আহমদ, সমাজকর্মী ফয়জুল ইসলাম, আকুল মিয়া, উম্মর আলী, জুম্মা আহমদ, আনসার মিয়া, কাদির মিয়া সহ স্থানীয় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষও উপস্থিত ছিলেন।  বাঁধ সংস্কার কাজের জন্য স্বেচ্ছায় এক লক্ষ টাকা প্রদান করেন ডাঃ মনিরুল ইসলাম সোহাগ। সংস্কার কাজের সকলকে আপ্যায়ন করান স্থানীয় লোকজন এবং আগামীকাল আপ্যায়ন করাবেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাবু নন্দলাল, সৌদি প্রবাসী আবু সুফিয়ান প্রমুখ।
এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য আব্বাছ আলী বলেন, ২২ আগষ্ট রাত থেকে আমরা স্থানীয় লোকজন নিয়ে বেলরতল এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধকে মেরামত করে যাচ্ছি। যাতে ভাঙ্গন দেখা না দেয়। এলাকাবাসীর কষ্টের কথা চিন্তা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা কাজ করছি এবং এই ভয়াবহ বন্যা থেকে এখন পর্যন্ত রক্ষা পেয়েছি। চিরস্থায়ী রক্ষার্থে বাঁধে সংস্কারের প্রয়োজন। বøক ও বস্তার প্রয়োজন। তাই আমরা এই বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।